নগরীর চন্দ্রনগর ও শেরশাহ এলাকায় ডায়রিয়ার প্রকোপ

১ সপ্তাহে শতাধিক রোগী হাসপাতালে ভর্তি

আজাদী প্রতিবেদন

শুক্রবার , ৭ ডিসেম্বর, ২০১৮ at ৩:৫৩ পূর্বাহ্ণ
48

নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন চন্দ্রনগর ও শেরশাহ কলোনি এলাকায় ডায়রিয়ার প্রকোপের খবর পাওয়া গেছে। এলাকার বাসিন্দাদের অনেকেই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে পার্শ্ববর্তী সাউদার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও মেরিন সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
গত এক সপ্তাহে শিশু, নারীসহ ডায়রিয়া আক্রান্ত প্রায় শতাধিক রোগী এই দুই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। অনেকে এখনো চিকিৎসাধীন আছেন বলে হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে ডায়রিয়ায় আতংকের কিছু নেই বলছেন চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আকতার চৌধুরী। আতংকিত না হয়ে একটু সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এই দুই চিকিৎসক। সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে এলাকাবাসীকে সচেতন করার পাশাপাশি করণীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানান চসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আকতার চৌধুরী।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাউদার্ন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের শিশু ও মেডিসিন ওয়ার্ডে ২৮ ডিসেম্বর থেকে ৭৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে শিশু রোগী ২১ জন। গতকাল বৃহস্পতিবার শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১৩ জন। মেডিসিন ওয়ার্ডে ২২ জন।
সাউদার্ন মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ও মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. জয়ব্রত দাশ সাংবাদিকদের বলেন, মেডিসিন বিভাগে ভর্তি হওয়া ৫২ জন রোগীর মধ্যে সুস্থ হয়ে ৩০ রোগী হাসপাতাল ছেড়েছেন। ইতোমধ্যে হাসপাতালের পরিচালক ডা. দেবাশীষ রায়কে প্রধান করে একটি ডায়রিয়া প্রতিরোধ সেল ও দুই সদস্যের কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আক্রান্তদের শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগ ও সিভিল সার্জন অফিসকে জানানো হয়েছে।
মেরিন সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বর্তমানে ৭ জন রোগী চিকিৎসাধীন। তবে গত এক সপ্তাহে ৩০ জনের বেশি ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিয়েছেন বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। বিশুদ্ধ পানির অভাব কিংবা রোটা ভাইরাসের কারণে ডায়রিয়া ছড়িয়ে পড়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন চিকিবৎসকরা।
এদিকে, এলাকায় ডায়রিয়ার প্রকোপের কারণ হিসেবে ওয়াসার পানিকে দায়ী করছেন স্থানীয়রা। এ নিয়ে কয়েক দফায় ওয়াসায় অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ওই এলাকার বাসিন্দারা। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী এ কে এম ফজলুল্লাহ আজাদীকে বলেন, এলাকাবাসীর অভিযোগ আমরা আমলে নিয়েছি। কেমিস্টসহ বৃহস্পতিবার আমাদের টিম সেখানে গেছে। পানির স্যাম্পল সংগ্রহ করেছে। আশা করি দুয়েক দিনের মধ্যেই পরীক্ষার রিপোর্ট পাবো।
রিপোর্ট পেলে পানিতে ব্যাকটেরিয়া বা জীবাণু আছে কিনা সেটি জানা যাবে। তবে ওয়াসার পানিতে সমস্যা থাকলে সারা শহরে এর প্রভাব পড়তো দাবি করে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, এখন নির্দিষ্ট একটি এলাকায় এ প্রকোপ দেখা গেছে। আমাদের পানিতে দোষ থাকলে গোটা শহরে এর প্রকোপ দেখা যেতো। তবুও আমরা আমাদের পানি পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরিতে পাঠিয়েছি। রিপোর্ট পেলে বিষয়টি স্পষ্ট হবে।

x