নগরবাসীর ভোগান্তি নিরসনে কাজ করতে হবে পরিকল্পিতভাবে

শুক্রবার , ৩ আগস্ট, ২০১৮ at ৩:১৬ পূর্বাহ্ণ
29

নগরীর যতগুলো সমস্যা পরিলক্ষিত হয় তার মধ্যে অন্যতম সমস্যা হচ্ছে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি। খোঁড়াখুঁড়ির কারণে ছোটবড় গর্তে ভরে গেছে নগরীর অধিকাংশ সড়ক। ভাঙাচোরা সড়ক ও জলাবদ্ধতার পাশাপাশি অসহনীয় যানজট জনজীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। চট্টগ্রাম শহরের এমন কোন সড়ক বা অলিগলি নেই, যেখানে খোঁড়াখুঁড়ির কাজ চলছে না। ওয়াসা, গ্যাস, বিদ্যুৎসহ সবাই মিলে প্রতিদিনই কোনো না কোনো সড়ক, অলিগলি খুঁড়ছে। আজ এই প্রতিষ্ঠান কাটছে তো কাল কাটছে আরেক প্রতিষ্ঠান। এ সব খোঁড়াখুঁড়ির ব্যাপারে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে সমন্বয়ের চেষ্টা হলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। আর বৃষ্টি হলে অবস্থা আরো নাজুক হয়; সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র জলাবদ্ধতা। এতে অভাবনীয় মাত্রায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীকে। প্রতিনিয়তই ছোটবড় দুর্ঘটনা ঘটছে। নগরবাসীকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। আমরা চাইব, সেবা সংস্থাগুলো নগরবাসীর ভোগান্তি প্রশমনে পরিকল্পিতভাবে কাজ করতে উদ্যোগী হবে।

বর্ষায় খোঁড়াখুঁড়ি নিয়ে অনেকদিন ধরেই সমালোচনা চলছে। কিন্তু ঠিক যখন জুনজুলাইয়ে ভরা বর্ষা শুরু হয়, তখনই শুরু হয় খোঁড়াখুঁড়ি। সামালোচনানিন্দা, কিছুই যেন ছুঁতে পারে না সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে। সেজন্য তাদের বক্তব্য, আগেভাগে বরাদ্দ পাওয়া যায় না। যে কারণে কাজ করানো যায় না। তাদের সুপারিশ হচ্ছে অর্থবছর এগিয়ে আনা।

গত ১ আগস্ট দৈনিক আজাদীতে ‘বর্ষায় বাড়তি দুর্ভোগ, মূল সড়ক থেকে অলিগলি সবখানে ওয়াসার খোঁড়াখুঁড়ি’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে বলা হয়েছে, ‘ওয়াসার পাইপ লাইনের কাজের কারণে বর্ষায় নগরবাসীকে বাড়তি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এবার পাইপ লাইনের কাজ চলছে মূল সড়ক থেকে শুরু করে একেবারে অলিগলি পর্যন্ত। সবখানে চলছে খোঁড়াখুঁড়ি। গর্ত কাদামাটিতে একাকার। ফলে বর্ষা মৌসুমে বাসাবাড়ি থেকে বের হওয়া দায় হয়ে পড়েছে।’

প্রকাশিত খবরে জানা যায়, চট্টগ্রাম মহানগরীতে ওয়াসা ৬শ কিলোমিটার নতুন পাইপ লাইন বসানোর কাজ শুরু করেছে গত নভেম্বর মাসে। গত ৯ মাসে নগরীর বিশাল এলাকা জুড়ে প্রায় ৩শ কিলোমিটারের মতো নতুন পাইপ বসানোর কাজ শেষ করেছে।

নগরবাসীর অনেকের জিজ্ঞাসা, ‘পাইপ বসানোর জন্য ওয়াসার খোঁড়াখুঁড়ি বর্ষায় করতে হবে কেন। বৃষ্টিতে মানুষের দুর্গতির সীমা থাকে না। আর খোঁড়াখুঁড়ি যখন করা হবে, তা রাস্তা সংস্কারের আগে করা হয়নি কেন। তাহলে রাস্তাগুলো ঝকঝকেই থাকতো। এখন খোঁড়াখুঁড়ি করা অংশ এমনভাবে ভরাট করা হবে যা হয়ত অল্পদিনও স্থায়ী হবে না। রাস্তাগুলো আবার খানাখন্দে ভরে যাবে।’ অনেক জায়গায় এই খোঁড়াখুঁড়ির ফলে রাস্তার মধ্যে তৈরি হয়েছে খানাখন্দ। সামান্য বৃষ্টির পানিতে এসব গর্ত পরিণত হয় মৃত্যুকূপে। প্রতিনিয়ত রিকশা, টেম্পো, বাস উল্টে গিয়ে ঘটছে দুর্ঘটনা। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা বিভিন্ন ওয়ার্ডের গলিপথগুলোর। খানাখন্দ, ম্যানহোলের ঢাকনাবিহীন উঁচুনিচু সড়কে পিচ, ইট, সুরকি খোয়া উঠে তৈরি হয়েছে ছোট বড় গর্ত।

কবে এই খোঁড়াখুঁড়ির অবসান হবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। সব মিলিয়ে মনুষ্যসৃষ্ট এ দুর্ভোগে প্রতিনিয়ত বিড়ম্বনার সম্মুখীন হতে হচ্ছে নগরবাসীকে। একের পর এক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড প্রশংসার দাবি রাখলেও এক বছরের কাজ তিন বছরে বাস্তবায়নের কারণে যে জনভোগান্তি সৃষ্টি হচ্ছে, তা সত্যিই দুঃখজনক। উন্নয়নের কাজের জন্য সাময়িক অসুবিধা মেনে নেয়ার ব্যাপারে নাগরিকদের আপত্তি নেই; কিন্তু তা যদি অনন্তকালের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়, তবে সে উন্নয়নের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে বাধ্য। এখানে উল্লেখ্য যে, বর্ষাকালীন সময়ে রাস্তা না কাটার জন্য চট্টগ্রাম ওয়াসাসহ ৮ সংস্থাকে চিঠি দিয়েছিল চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। ওই চিঠিতে বলা হয়েছিল, ‘বর্ষায় রাস্তা কাটলে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দ্বিগুণ অর্থ পরিশোধ করতে হবে।’ চিঠিতে ‘জুন, জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে রাস্তা না কাটার নির্দেশনা ছিল’। কিন্তু সেই নির্দেশনা কেউ মানছে না। সেবা কার্যক্রমের স্বার্থে নগরীতে সড়ক খোঁড়াখুঁড়ি প্রায়ই অপরিহার্য হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু সমন্বয়ের অভাবে এ ক্ষেত্রে যে জনভোগান্তির সৃষ্টি হয়, তা মেনে নেয়া কঠিন। বর্ষা মৌসুমে জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো যাতে চলাচল উপযোগী থাকে, সেটি বিবেচনায় নিয়ে কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ নগরবাসীর ভোগান্তি দূরীকরণে কার্যকর ও বাস্তবোচিত পদক্ষেপ নেবেএমনই প্রত্যাশা আমাদের।

x