নগরবাসীর জন্য মানসিক স্বাস্থ্য সেবা ইনস্টিটিউট করা হবে

মানসিক স্বাস্থ্য দিবসের অনুষ্ঠানে মেয়র

বৃহস্পতিবার , ১১ অক্টোবর, ২০১৮ at ১১:০৩ পূর্বাহ্ণ
11

‘একটি উন্নত রাষ্ট্র গড়ার প্রধান শক্তি দেশের যুব সমাজ। তাই যুব সমাজকে শারীরিক সচেতনতার পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সচেতন হতে হবে। এজন্য প্রয়োজন পারিবারিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাউন্সেলিংয়ের গুরুত্ব অপরিসীম। মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে অসচেতনতা ও কুসংস্কারের কারণে মানুষ মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলতে চায় না। একইসাথে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নগরীতে বিশেয়ায়িত সেবা কেন্দ্র না থাকায় এবিষয়ে সচেতনতা তৈরি হয়নি। অচিরেই সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত হেলথ কমপ্লেক্সসমূহে মানসিক স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রম চালু করা হবে এবং অদূর ভবিষ্যতে নগরবাসীর মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ‘মানসিক স্বাস্থ্য সেবা ইনস্টিটিউট গড়ে তোলা হবে।’
২৬তম বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় অধিপরামর্শমূলক সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন উৎস এবং সিটি কর্পোরেশনের যৌথ উদ্যোগে দিবসের প্রতিপাদ্য- ‘পরিবর্তনশীল বিশ্বে যুব সমাজ ও মানসিক স্বাস্থ্য’ (young people & mental health in a chittagong world) শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীন উপরোক্ত মন্তব্য করেন।
সিটি কর্পোরেশনের কে বি আব্দুচ ছাত্তার মিলনায়তনে সভায় মূখ্য আলোচক ছিলেন সিভিল সার্জন ডা. মো. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী। বিশেষ অতিথি ছিলেন কাউন্সিলর আবিদা আজাদ, মমতার আলহাজ্ব রফিক আহমেদ, জেসমিন সুলতানা পারু, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হাসান ফেরদৌস।
সিভিল সার্জন বলেন, বাংলাদেশে ১৬ কোটি মানুষেরর জন্য মানসিক রোগের চিকিৎসক আছেন মাত্র ২২০ জন। প্রায় সাড়ে সাত লক্ষ মানুষের জন্য ১ জন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, যেখানে দেশের মোট জনসংখ্যার ১৬ শতাংশ মানুষ কোন না কোনভাবে মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত। এচিত্র থেকেই বোঝা যায় দেশের মানসিক স্বাস্থ্য সেবার পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ। আজ পুরো বিশ্ব উপলব্ধি করছে যুব সমাজ মানসিকভাবে পতনের দিকে ধাবিত হচ্ছে ক্রমশ, ফলে বিশ্বজুড়ে এক ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। তাই এখনি সময় দেশের প্রতিটি মানুষের মানসিক সুরক্ষা বিশেষ করে যুব সমাজকে মাদকের ছোবল থেকে বের করে এনে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা। বিশেষ অতিথি হাসান ফেরদৌস বলেন, যুবরাই দেশের সম্পদ। তাদের মানসিকভাবে সুস্থ রাখতে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। জেসমিন সুলতানা পারু বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য সেবাপ্রদানকারী প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে, যাতে মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে মানুষের অজ্ঞতা দূর হয়। মমতার রফিক আহমেদ বলেন, বর্তমান শহুরে আধুনিক সমাজে একান্নবর্তী পরিবার খুঁেজ পাওয়া দুষ্কর। যেখানে পরিবারের সকলের সাথে মিলেমিশে সন্তানরা বড় হত, পারিবারিক মূল্যবোধ তৈরি হত। কিন্তু এখন একক পরিবারে সন্তানরা নিজের মত থাকে, বাবা-মায়ের সাথে নিজের সমস্যার কথা শেয়ার করতে পারে না। ফলে তৈরি হচ্ছে মানসিক সমস্যা। মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় করতে হবে। সভার সভাপ্রধান আহমদ কবীর বলেন, মন যে একটি বিষয়, এ মন ঠিক না থাকলে যে দেহটা ঠিক থাকবে না, পরিবার বা সমাজটাই ঠিক থাকবে না, এটাই মানুষ বুঝে উঠতে পারছে না। জাতীয় জীবনের এই স্রোত যদি অসুস্থ হয় তাহলে কখনও ইতিবাচক উন্নয়ন সম্ভব নয়। উৎস’র নির্বাহি পরিচালক মোস্তফা কামাল যাত্রা সঞ্চালিত অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মা-এর সদস্য ফারুক তাহের। দিবসের প্রতিপাদ্য নিয়ে লিখিত মতামত উপস্থাপন করেন উৎস’র প্রোগ্রাম অফিসার রীপা পালিত। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

x