নগরবাসীকে দুর্ভোগ থেকে রেহাই দিন

শুক্রবার , ২৩ আগস্ট, ২০১৯ at ৪:৩৩ পূর্বাহ্ণ
46

বন্দরনগরীর আগ্রাবাদ এক্সেস সড়ক ও পোর্ট কানেক্টিং সড়কে দুর্ভোগ নিয়ে নানা রকম প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে বিভিন্ন পত্রিকায়। বলা হচ্ছে, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দুটির বেহাল দশার কারণে দীর্ঘদিন ধরে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীকে। সড়ক দুটি মেরামত, প্রশস্তকরণ ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ শুরু হলেও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের অবহেলা আর কাজের ধীরগতির কারণে দুর্ভোগের মাত্রা বেড়েছে কয়েকগুণ। অন্যদিকে সড়ক দুটির উন্নয়নকাজে গতি না আসার কারণ হিসেবে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় বিলম্ব এবং প্রশাসনিক জটিলতাকে অজুহাত হিসেবে দেখাচ্ছিল ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান।
গতকাল দৈনিক আজাদীতে ‘যেখানে এখনো দুর্ভোগ আগ্রাবাদ এঙেস ও পিসি রোড, ঠিকাদারের কার্যাদেশের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী সপ্তাহে’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, আগামী সপ্তাহে শেষ হচ্ছে সড়ক দুটি’র সংস্কারে নিয়োজিত ঠিকাদারের কার্যাদেশের মেয়াদ। যদিও শেষ হয়নি সংস্কার কাজ। পরিবর্তন হয়নি সড়ক দুটির উপর নির্ভরশীল লোকজনের দুর্ভোগও। কারণ, এখনো ‘ভাঙাচোরা’ অবস্থায় আছে সড়কের বেশিরভাগ অংশ। সেখানে আছে ছোট-বড় গর্ত। কিছু কিছু অংশে খানাখন্দগুলোও রয়ে গেছে আগের মতই। পরিবর্তন বলতে কেবল এতটুকু, ভারী বর্ষণ হলে গর্তগুলোতে পানি জমে থাকত। রূপ নিত ‘পুকুরে’। বৃষ্টি একটু কমলে কাদা-বালি। এখন আছে ধুলোবালি।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ২০১৭ সালের ৪ ডিসেম্বর এক্সেস রোডের ২ দশমিক ৩৭ কিলোমিটার অংশের উন্নয়নে ৪৮ কোটি ৯৬ লাখ ৬৬ হাজার ৮৪৮ টাকায় নিয়োগ করা হয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম.এম. বিল্ডার্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড ও মেসার্স রয়েল এসোসিয়েট (জেভি)কে। তখন কার্যাদেশের মেয়াদ ধরা হয় ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত। তবে গত ১৩ মে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের আবেদনের প্রেক্ষিতে সময় বাড়ানো হয়। বর্ধিত মেয়াদ শেষ হবে আগামী ২৮ আগস্ট। গত জুন মাসের অগ্রগতি প্রতিবেদন অনুযায়ী কাজের ভৌত অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ৬২ শতাংশ। এদিকে পিসি রোডের কাজটি করা হচ্ছে ৫টি প্যাকেজে। সেখানে দুটি প্যাকেজের জন্য ঠিকাদার নিয়োগ করা হয় ২০১৭ সালের ৫ ডিসেম্বর। এরমধ্যে নিমতলা থেকে অলংকার পর্যন্ত প্রথম প্যাকেজে ৫০ কোটি ৫৮ লাখ ৬৩ হাজার ৩৩৯ টাকা এবং দ্বিতীয় প্যাকেজে ৫০ কোটি ৮২ লাখ ৭০ হাজার ৩৩৮ টাকা। দুই অংশেরই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছে রানা বিল্ডার্স নামের প্রতিষ্ঠান। এসড়কে গত জুন মাসে কার্যাদেশের মেয়াদ শেষ হয় এবং ঠিকাদারের আবেদনের প্রেক্ষিতে আগামী ৩০ আগস্ট পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
চট্টগ্রামের অন্যতম প্রধান দুটি সড়ক আগ্রাবাদ এক্সেস রোড ও পোর্ট কানেক্টিং রোড। এই সড়ক দুটো দিয়েই বন্দর থেকে পণ্য বা কন্টেইনারবাহী পরিবহন ঢাকাসহ দেশের নানাপ্রান্তে যাতায়াত করে। অনেকদিন ধরেই এই সড়ক দুটির বেহাল দশার কারণে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীকে। বিশেষ করে হালিশহর আবাসিক এলাকায় বসবাস করা পাঁচ লক্ষ মানুষের সবচেয়ে বড় দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এই সড়ক দুটি।
২০১৯ সালের জুন মাসে প্রকল্প শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনো সড়কের অনেক অংশে নির্মাণ কাজের তেমন দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। গ্রীষ্মে ধূলাবালি আর বর্ষায় হাঁটু পানিতে আসা যাওয়া করতে করতে ওই এলাকার মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। এই রাস্তাটা এভাবে পড়ে আছে, সংস্কার কাজ শেষই হয় না। শহরের মধ্যখানে এমন একটা গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার এই অবস্থা আমাদের দেশের রাজনৈতিক নেতাদের দৈন্যদশার চিহ্নই বহন করছে বলে অনেকে মন্তব্য করেন।
চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্যবাহী গাড়ি প্রবেশ এবং বের হওয়ার অন্যতম এই সড়কের বিধ্বস্ত অবস্থার কারণে বন্দর থেকে পণ্য ডেলিভারিও ধীর হয়ে গেছে। সড়কটি চালু করতে না পারলে অবস্থা আরও করুণ হবে; পণ্য সরবরাহ সংকট তৈরি হবে। বছরের পর বছর আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবেন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলো। বিপাকে পড়ছে চাকরিজীবী, শিক্ষার্থীসহ এলাকার সর্বস্তরের মানুষ। এর প্রতিবাদে মুখর হয়ে উঠেছে এলাকাবাসী। সভাসমাবেশ করেছে, মানববন্ধন করে জানিয়েছে তাদের প্রতিবাদ।
একটি শহরের পরিকল্পিত নগরায়নের ওপর নির্ভর করে তার অগ্রগতি। কিন্তু আগ্রাবাদ এক্সেস সড়ক ও পোর্ট কানেক্টিং সড়ক এলাকায় সাধারণ নাগরিকের প্রতিদিনের নগরজীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। দিনের পর দিন দুর্ভোগ মাড়িয়ে, কষ্টকে বুকে চাপা দিয়ে সময় অতিক্রান্ত করছে সেই এলাকার দুঃখী মানুষগুলো। আমরা আর বিলম্ব চাই না। যত দ্রুত সম্ভব, নগরবাসীকে এই দুর্ভোগ থেকে রেহাই দিন।

x