নখকুনি বা নখের কোণে ছত্রাক

ডা. প্রীতীশ বড়ুয়া

শনিবার , ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ at ৮:০৫ পূর্বাহ্ণ
1005

নখকুনি নামে নখের কোণা বা গোড়ার এই চর্মরোগটির ডাক্তারি নাম প্যারোনাইকিয়া। ছত্রাক জাতীয় জীবানুর সংক্রমণে এটি হয়ে থাকে। তীব্র বা এক্যুট কিংবা দীর্ঘস্থায়ী বা ক্রনিক- এই দুইভাবেই এটি দেখা দিতে পারে। তীব্র নখকুনিতে ছত্রাক ছাড়াও ব্যাক্টেরিয়ার আক্রমণ থাকে। আমাদের দেশে এই রোগটি পানি মাটির স্পর্শ আছে এমন কাজে যারা যুক্ত তাদের মধ্যে বেশি দেখা যায়।
ক্রমাগত পানি, ছাই, ডিটারজেন্ট, সাবান, মাটির সংস্পর্শে নখের কোণায় ও গোড়ায় সহজেই ছত্রাক জীবাণুর আধিপত্য ঘটতে থাকে। প্রাথমিকভাবে নখের কোণা বা গোড়ার চারপাশ সামান্য লালচে আকার ধারণ করে ও চুলকানি সহ ব্যথা শুরু হয়। এই পর্যায়ে ছত্রাকের পাশাপাশি ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে রোগের মাত্রা আরো বেড়ে যায়। প্রচন্ড ব্যথায় নখের গোড়া কোণা সহ আংগুল ফুলে মারাত্নক অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে। অনেক সময় হলদে সবুজাভ পূঁজ দেখা যায়। যথাযত চিকিৎসা না হলে এর থেকেই ক্রনিক বা দীর্ঘস্থায়ী নখকুনি সৃষ্ট হতে পারে। ক্রনিক প্যারোনাইকিয়াতে তীব্র ব্যথা না থাকলেও, নখের কোণা বা গোড়া ফাঁক ও খসখসে হয়ে যায়, মাঝেমাঝে ব্যাক্টেরিয়ার আক্রমণও ঘটতে পারে। পরবর্তীতে মূল নখ আক্রান্ত হয়ে নখ অসমান, ভংগুর, মোটা কিংবা এবড়ো থেবড়ো হয়ে যায়।
নখকুনি বা প্যারোনাইকিয়া একটি নিরাময়যোগ্য চর্মরোগ। তীব্র নখকুনিতে ছত্রাকরোধী সহ এন্টিবায়টিক সেবন প্রয়োজন। তীব্রতা কমে গেলেও বেশকিছুদিন ছত্রাকরোধী ওষুধ সেবন দরকার হতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে- নিরাময় চিকিৎসার পাশাপাশি প্রতিরোধক পরামর্শ না মানলে এই রোগটি বার বার হতে পারে। ছত্রাক মূলত সুযোগ সন্ধানী জীবানু। দেহে সামগ্রিক ও স্থানীয় প্রতিরোধী ব্যবস্থায় ঘাটতি দেখলেই এরা আক্রমণ করে। ডায়াবেটিস সহ অনান্য দীর্ঘস্থায়ী রোগসমূহের যথাযথ নিয়ন্ত্রণে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অটুট থাকে। আর স্থানীয় প্রতিরোধ ঠিক রাখার জন্য, হাত ও নখের পরিচ্ছন্নতা, পানি, ছাই, ডিটারজেন্ট, সাবান সহ মাটির স্পর্শ পরিমিত হওয়া, নখের গোড়া দীর্ঘক্ষণ ভেজা না রাখা, প্রয়োজনে হাতে গ্লাভস ব্যবহার ইত্যাদি পরামর্শ মেনে চলা প্রয়োজন। সব শেষে যেটি বলা দরকার, তা হচ্ছে কোনভাবেই নিজে নিজে চিকিৎসা নয়, একজন রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলাই কাম্য।

x