নওয়াজউদ্দিনকে জাতীয় টেলিভিশনে ক্ষমা চাইতে হবে

বুধবার , ১ নভেম্বর, ২০১৭ at ১২:১৪ অপরাহ্ণ
67

আত্মজীবনী প্রকাশের আগে বলিউডের অভিনেতা নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী বলেছিলেন, তাঁর মনে হচ্ছে খুব জলদি নিজের জীবনী লিখে ফেলেছেন। আরও কিছুদিন অপেক্ষা করা উচিত ছিল। কিন্তু বইটি প্রকাশ পাওয়ার পর দেখা যাচ্ছে, যতটুকু বলা দরকার, তা থেকে অনেক বেশি বলেছেন এই অভিনেতা। ‘অ্যান অর্ডিনারি লাইফ: এ মেমোর’ নামে এই তারকার জীবনী প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই বিতর্ক হচ্ছে। কারণ সাবেক প্রেমিকাদের অনুমতি ছাড়া তাঁদের সম্পর্কে অনেক আপত্তিকর কথা এই বইয়ে তুলে এনেছেন নওয়াজউদ্দিন। তাতে খেপে যান অভিনেতার সাবেক দুই প্রেমিকা সুনিতা রাজওয়ার ও নীহারিকা সিং। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নীহারিকা ভারতের জাতীয় নারী কমিশনে নওয়াজউদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগও করেছেন।

তোপের মুখে পড়ে গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় নওয়াজউদ্দিন তাঁর টুইটার অ্যাকাউন্টে নিজের জীবনী প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ‘আমার স্মৃতিকথা ঘিরে যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে এবং এই বইয়ের বিভিন্ন তথ্য যাঁদের অনুভূতিতে আঘাত দিয়েছে, আমি তাঁদের সবার কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। আর এ কারণে আমি আত্মজীবনীটি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ কিন্তু তাঁর প্রাক্তন প্রেমিকাদের যা ক্ষতি হওয়ার, তা তো হয়েই গেছে। বিশেষ করে নওয়াজউদ্দিনের বইটি প্রকাশ পাওয়ার পর বৈবাহিক জীবনে বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছেন সুনিতা রাজওয়ার, যাঁকে আত্মজীবনীতে নওয়াজউদ্দিন নিজের প্রথম প্রেমিকা বলে দাবি করেছেন।

নওয়াজউদ্দিন তাঁর জীবনীতে লিখেছেন, সুনিতা তাঁকে ধোঁকা দিয়েছেন। কয়েক মাস নওয়াজউদ্দিনের সঙ্গে চুটিয়ে প্রেম করে সুনিতা নাকি তাঁকে ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন শুধু একটি কারণে। নওয়াজউদ্দিন সেখানে আরও বলেন, তাঁর মতো সংগ্রামী শিল্পীর সঙ্গে কোনো ভবিষ্যৎ নেই বলেই সেই প্রেমকে বিদায় জানিয়েছিলেন সুনিতা। সুনিতা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়ার পর নাকি এই তারকা আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এসব কথা উড়িয়ে দিয়ে সুনিতা তাঁর ফেসবুকে বলেন, ‘এসব কথা মিথ্যা। নওয়াজউদ্দিন নিজের বইয়ের বিক্রি বাড়ানোর জন্য এসব মিথ্যা কথা লিখেছেন।’

সম্প্রতি ভারতের একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই টেলিভিশন অভিনেত্রী জানান, নওয়াজউদ্দিনের বক্তব্য শুধু তাঁর ভাবমূর্তিই নষ্ট করেনি, তাঁর বৈবাহিক জীবনেও ক্ষতি ডেকে এনেছে। বলিউডের এই অভিনেতার সঙ্গে সুনিতার প্রেমের কথা তাঁর স্বামী জানলেও এই শিল্পীর মা-বাবা ও শ্বশুরবাড়ির অন্য কেউ এটি জানতেন না। সুনিতার ভাষ্য, ‘কে তাঁর সাবেক প্রেমিকের কথা অভিভাবকদের কাছে বলবে বলুন? অনুমতি ছাড়া আমার কথা এভাবে লেখার সাহস তাঁর (নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী) হয় কী করে? সে আমার জীবনে অপূরণীয় ক্ষতি করে ফেলেছে।’

নওয়াজউদ্দিন নিজে বিবাহিত। তাঁর সংসারে দুই সন্তান আছে। সুনিতা রাজওয়ারও বিয়ে করে সুখে শান্তিতে সংসার করছিলেন। কিন্তু নওয়াজউদ্দিনের মিথ্যাচার সুনিতাকে শ্বশুরবাড়িতে অনেক খাটো করে দিয়েছে। রীতিমতো অপমানিত বোধ করছেন তিনি। তাই নওয়াজউদ্দিনের টুইটারে ক্ষমা প্রার্থনাকেই যথেষ্ট মনে করছেন না সুনিতা। তিনি বলেন, ‘টুইটারে ক্ষমা চাইলেই হবে না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সে (নওয়াজউদ্দিন) এমন কোনো জনপ্রিয় ব্যক্তি না। তাঁর জীবনী একটি শীর্ষস্থানীয় প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান থেকে বের হয়েছে। কাজেই এখন তাঁকে জাতীয় টেলিভিশন ও পত্রিকায় ক্ষমা চাইতে হবে। সামান্য একটি টুইটে কী হবে?’

এদিকে, সুনিতা আগেই জানিয়েছেন তাঁর সঙ্গে নওয়াজউদ্দিনের প্রেম ছিল বড় জোর ছয় থেকে সাত মাস। নওয়াজউদ্দিনের বরাবরই মানুষের কাছ থেকে সহানুভূতি কুড়ানোর স্বভাব। তা ছাড়া নিজের ব্যক্তিজীবনের কথা সবাইকে বলে বেড়াতে নাকি সে অস্বস্তি বোধ করেন না। নওয়াজউদ্দিনের হীন মানসিকতার জন্যই তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক শেষ করে দিয়েছিলেন সুনিতা। সুনিতা ও নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী দুজনই দিল্লির ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামার শিক্ষার্থী ছিলেন। নওয়াজউদ্দিন সিনিয়র ছিলেন বলে তাঁকে খুব শ্রদ্ধা করতেন সুনিতা। এই শ্রদ্ধা পরে প্রেমে পরিণত হয়, যা সুনিতা দাবি করেছেন। ছোট পর্দায় এই অভিনেত্রীর জনপ্রিয় কিছু সিরিয়াল ‘সগুন’, ‘ইয়ে রিস্তা ক্যায়া কেহলা তা হ্যায়’, ‘হিটলার দিদি’, ‘সন্তোষী মা’। ফিল্মি বিট

x