ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘তিতলি’

টানা বৃষ্টিতে নগরীর নিম্নাঞ্চল জলমগ্ন

সোহেল মারমা

বুধবার , ১০ অক্টোবর, ২০১৮ at ৬:৪৭ পূর্বাহ্ণ
589

পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পূর্ব মধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। যার কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের গতিবেগ ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়টির নাম দেওয়া হয়েছে ‘তিতলি’। এর প্রভাবে সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে। ফলে ১ নম্বর দূরবর্তী সংকেত নামিয়ে চট্টগ্রাাম, কক্সবাজার, পায়রা ও মংলা সমুদ্র বন্দরসমূহকে ২ নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরা ট্রলার ও নৌকাসমূহকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়টি বাংলাদেশ উপকূলে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে আঘাত হানতে পারে। আর দুর্বল হয়ে পড়লেও নিম্নচাপের প্রভাবে দেশের উপকূলীয় এলাকায় ভারী বৃষ্টি হতে পারে। এদিকে গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে গত সোমবার মধ্যরাতের পর থেকে শুরু হয় বৃষ্টিপাত। গতকালও তা অব্যাহত ছিল। বৃষ্টি কখনো টানা ও কখনো থেমে থেমে বিকাল পর্যন্ত চলে। ফলে নগরের নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের নিরাপদে সরে যেতে মাইকিং করেছে জেলা প্রশাসন। আরও দুয়েকদিন বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মাজহারুল ইসলাম গতকাল সন্ধ্যায় আজাদীকে বলেন, সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়টি ক্রমাগত শক্তি সঞ্চয় করে উত্তর ও উত্তর পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। সেটি ভারতের উড়িষ্যার দিকেও বয়ে যেতে পারে। তিনি বলেন, মঙ্গলবার বিকাল তিনটায় চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর থেকে ৯৭০ কিলোমিটার, কঙবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৯১৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং মংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ৮৭০ কিমি এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থান করছিল ঘুর্ণিঝড়টি। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের আশপাশ এলাকার সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে বলে জানান এই আবহাওয়াবিদ।
এর আগে গতকাল সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘন্টায় ৭৮ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করার কথা জানায় পতেঙ্গা আবহাওয়া অধিদপ্তর। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে বৃষ্টিতে নগরীর চকবাজার, কাপাসগোলা, বাদুরতলা, বাকলিয়া, আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকা, ব্যাপারী পাড়া, হালিশহর, বিমানবন্দর সড়কসহ বিভিন্ন এলাকার অলিগলির রাস্তাঘাট ও বাসা-বাড়িতে পানি ঢুকেছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েন সংশ্লিষ্ট এলাকার লোকজন। কোনো কোনো এলাকায় হাঁটু সমান পানি মাড়িয়ে বিভিন্ন পেশাজীবী ও স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ গন্তব্যস্থলে যেতে দেখা যায়। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নগরের অনেক এলাকায় নালা নর্দমা ও নালা সংস্কার এবং সমপ্রসারণ কাজ চলছে। এ কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন না করায় অধিকাংশ নালা নর্দমা ভরাট হয়ে যায়। ফলে বৃষ্টিতে নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন গতকাল রাতে আজাদীকে বলেন, টানা বৃষ্টিপাত হলে পাহাড় ধসের ঝুঁকি থাকে। তাই প্রাণহানি রোধে মঙ্গলবার বিকাল থেকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের নিরাপদে সরে যাবার জন্য বলা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, যেখানে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় আছে তার কাছে থাকা স্কুলগুলোকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে খুলে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

x