ধর্ষণের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রণয়নের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

‘যারা গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে আন্দোলন করছেন, তারা প্রকৃত অবস্থা চিন্তা করছেন না’

শুক্রবার , ১২ জুলাই, ২০১৯ at ৭:২৩ পূর্বাহ্ণ
241

প্রধানমন্ত্রী এবং সংসদ নেতা শেখ হাসিনা ধর্ষণের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রণয়ন করে অপরাধীদের কঠোর শাস্তি প্রদানের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেছেন, এ ধরনের জঘন্য কার্যকলাপ কখনও মেনে নেয়া যায় না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের আইন আরো কঠোর করা দরকার, আরো কঠোরভাবে তাদের (এসব অপরাধীদের) শাস্তি দেয়া দরকার। কারণ এই ধরনের জঘন্য কার্যকলাপ কখনও মেনে নেয়া যায় না।’ এ ব্যাপারে তার সরকার যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলেও প্রধানমন্ত্রী কঠোর হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করেন। প্রধানমন্ত্রী গতকাল সন্ধ্যায় একাদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় (বাজেট) অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে একথা বলেন। ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এ সময় স্পিকারের দায়িত্ব পালন করছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের কিছু সামাজিক অপরাধ প্রবণতা বেড়ে গেছে। শিশুদের ওপর পাশবিক অত্যাচার অথবা মানুষ খুন করা, ছোট শিশুদের খুন করা- যখন ঘটনা ঘটে এবং এরপর পত্রিকায় সংবাদ হয় (অবাধ তথ্য প্রবাহের এই যুগে) তারপরে যেন এর হারটা বেড়ে যায়। তিনি ইলেকট্রনিক মিডিয়া বা চ্যানেলগুলোর উদ্দেশে ধর্ষকদের চেহারাটা বার বার তুলে ধরার আহবান জানান। যাতে তাদের যেন লজ্জা হয়। এসব সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে পুরুষদেরকেও নারীদের পাশাপাশি প্রতিবাদ-প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু মেয়েরাই এর প্রতিবাদ করবো কেন? এখানে পুরুষ সমপ্রদায়ের জন্য লজ্জার বিষয় যে তারা এই অপরাধটা করে যাচ্ছে। সেজন্য আমাদের পুরুষ সমপ্রদায়কেও আরো সোচ্চার হতে হবে বলে আমি মনে করি।’ খবর বিডিনিউজ ও বাসসের।
এদিকে গ্যাসের দাম বাড়ানোর বিরোধিতায় যারা আন্দোলন করছে, তারা প্রকৃত অবস্থা বুঝতে পারছে না বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। সংসদের বাজেট অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে গ্যাসে কীভাবে ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে এবং প্রতিবেশী দেশের তুলনায় বাংলাদেশে দাম কতটা কম, তার চিত্রও তুলে ধরেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি জানি না, যারা গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে আন্দোলন করছেন, তারা তাহলে কী চান? তারা প্রকৃত অবস্থা চিন্তা করছেন না। আমরা তো ভর্তুকি দিয়েই নিয়ে আসছি। আমাদের রাজস্ব আয় কমে যাচ্ছে। তারপরও আমরা জনগণের কাছ থেকে নিচ্ছি না। খরচটা বিবেচনায় নিতে হবে। আমরা গ্যাস যদি দিতে না পারি, তাহলে কী হবে? উৎপাদন ব্যাহত হবে, রপ্তানি ব্যাহত হবে, কর্মসংস্থানও বন্ধ হয়ে যাবে। সারাদেশে হাহাকার শুরু হবে।’ আগের সঙ্গে এখনকার তুলনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যখন গ্যাস ছিল না, গ্যাসের জন্য হাহাকার। তখন আমাদের ব্যবসায়ীরা বলেছে, যত দাম লাগে এনে দেন, আমরা দেব। আমরা সেটাই করেছি। কিন্তু এখন যারা আন্দোলন করছেন, আমি জানি না। অনেক কথাই বলছেন, অনেক জ্ঞানগর্ভ কথা বলছেন। কিন্তু প্রকৃত অবস্থাটা তারা চিন্তা করছেন না বা আমাদের উন্নয়নটা তারা দেখতে পাচ্ছেন না। এটাই হচ্ছে দুঃখজনক।’
সরকার প্রধান বলেন, তারা চেষ্টা করছেন ভর্তুকি দিয়ে যে এলএনজি আমদানি করা হবে, তা দিয়ে যে উৎপাদন ও উন্নয়ন হবে, তার মাধ্যমেই মানুষের জীবনযাপন সহজ করার চেষ্টা করবেন। গ্যাসের দাম কেন বাড়ানো হল, এদিন সংসদে ভাষণে সরকারের কাছে সেই প্রশ্নের উত্তর চেয়েছিলেন বিরোধীদলীয় উপনেতা রওশন এরশাদ। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দাম বাড়ানোর প্রয়োজনটা কেন ছিল? গ্যাসের বর্ধিত ব্যয় নির্বাহের জন্য পেট্রোবাংলার কোম্পানিগুলো ১০২ শতাংশ দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করেছিল। কারণ এলএনজি আমদানি, এটা খুব ব্যয়সাপেক্ষ। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন মূল্যায়নে দেখেছে, বর্ধিত ব্যয় নির্বাহের জন্য কমপক্ষে ৭৫ শতাংশ দাম বৃদ্ধি করার প্রয়োজন ছিল। সেখানে আমরা কতটুকু দাম বৃদ্ধি করেছি? প্রাহকদের আর্থিক চাপের বিষয়টা বিবেচনা করে কমিশন মাত্র ৩২ দশমিক ৮ শতাংশ দাম বৃদ্ধি করেছে। অর্থাৎ ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি ঘনমিটার প্রাকৃতিক গ্যাসের মূল্যহার ৯ দশমিক ৮০ টাকা।’ শেখ হাসিনা জানান, পাইপলাইন নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ, সম্পূরক শুল্ক, আমদানি পর্যায়ে মূল্য সংযোজন করসহ আমদানি করা প্রতি ঘনমিটার এলএনজি সরবরাহ করতে ব্যয় হয় ৬১ দশমিক ১২ টাকা। অর্থাৎ ৬১ দশমিক ১২ টাকা দাম পড়ে। সেখানে আমরা নিচ্ছি মাত্র ৯ দশমিক ৮০। অর্থাৎ ৫১ দশমিক ৩২ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। গ্রাহকদের আর্থিক চাপ যেন বেশি না পড়ে, সেজন্য সরকার থেকে ৭৯০৯ কোটি টাকা আর্থিক সহায়তা বা ভর্তুকি দেওয়া হবে। তাছাড়া জ্বালানি নিরাপত্তা তহবিল থেকে ২৪২০ কোটি টাকা প্রদান করা হবে।’ মিশ্রিত গ্যাসের মূল্য সহনীয় রাখার লক্ষ্যে ১৮ সেপ্টেম্বর হতে প্রাকৃতিক গ্যাসের উপর সম্পূরক শুল্ক ৯৪ শতাংশ সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে নেওয়ার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এজন্য সরকারের প্রায় ৯২০০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় বন্ধ হয়ে যায়। এই রাজস্ব আদায় করতে পারলে আরও উন্নয়ন করতে পারতাম। কিন্তু মানুষের কথা চিন্তা করেই সেটা আমরা করিনি। ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে গ্যাসের মূল্যহার বৃদ্ধি না করে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি মেটানো হয়েছে।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘প্রতি বছরে আমাদের ১৯ হাজার ৩১০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। সেটাও আমরা সব ট্যাঙ, শুল্ক বাদ দিয়ে দিয়েছি।’
এলএনজি আমদানির জন্য বাংলাদেশে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার পরও অন্যান্য দেশের তুলনায় তা ‘অনেক কম’ বলে মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা। তিডিন বলেন, ‘যারা বলছে, ভারত গ্যাসের দাম কমিয়েছে, তাদের কথা ঠিক না।’ ভারতে বিভিন্ন খাতের বাংলাদেশের চেয়ে যে গ্যাসের দাম বেশি, তার চিত্র তুলে ধরে তিনি।

x