ধর্ষণের ঘটনা বেড়েই চলেছে

বুধবার , ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ at ৬:৩৬ পূর্বাহ্ণ
34

ইদানিং ধর্ষণের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়ে গেছে বলে বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত সংবাদে জানা যায়। লালসা চরিতার্থ করার জন্য ধর্ষণ এবং প্রতিহিংসা মেটানো বা অন্য কোন কারণে ধর্ষণ। অনেক সময় অপহরণ করে কোথাও আটকে রেখে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। অনেক সময় ধর্ষণের পর ভিকটিমকে খুন করা হয়। প্রতিহিংসার বশে বা অন্য কারণে যে বলাৎকারগুলো হয় সেগুলো সাধারণত: লোক চক্ষুর সামনেই ঘটে। সাধারণ জনগণের প্রশ্ন: কেন আশঙ্কাজনকহারে বাড়ছে নারীর প্রতি চরম অপমানকর এ নির্যাতন? অনেক কারণের মতো অন্যতম একটি হলো সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের অভাব। ধর্ষণ সংঘটিত হলে ভিকটিম ও তার আত্মীয়স্বজনেরা ঘটনাটি চাপা দিতেই সচেষ্ট থাকে বেশি। ইচ্ছা থাকলেও ভোগান্তির ভয়ে অনেকে থানায় যেতে চায় না। থানা দ্রুত ব্যবস্থা নেন না। অনেকে মামলা নিতেও অস্বীকার করেন। মামলার ভিকটিমকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠিয়ে ডাক্তারী পরীক্ষা করান না। পুলিশ আসামি ধরলেও খুব সহজেই তারা কোর্ট থেকে জামিনে ছাড়া পেয়ে যায়। জামিনে এসে মামলা প্রত্যাহার এর হুমকি দেয় বাদীকে। অন্য আর দশটা অপরাধের চেয়ে ধর্ষণ একটু ভিন্ন ধরনের অপরাধ। চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই এর ঘটনায় টাকা পয়সার ক্ষতি হয়। সময়ে টাকা আবার হাতে আসে। দুর্বৃত্তের হাতে জখম হলে তাও চিকিৎসায় সেরে যায়। কিন্তু ধর্ষণের ফলে যে শারীরিক মানসিক-আবেগীয় ও পারিবারিক ক্ষতি হয় তা সহজে সারে না। ধর্ষিতদের উপর এটি একটি চরম আঘাত বা নারীকে শারীরিক, মানসিক আবেগীয় ও সামাজিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে। ধর্ষিত নারী স্বাভাবিক বা যৌন জীবন যাপন করতে পারে না। অনেকের বিয়ে ভেঙে যায়। অনেকে স্বামী পরিত্যক্ত হয়। পারিবারিক জীবনে বীতশ্রদ্ধ হয়ে অনেকে অসামাজিক কাজে জড়িয়ে পড়ে। পরিবারের অন্য সদস্যদের উপরও এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়ে। ধর্ষণ নারী পুরুষের জীবন নষ্ট করে দেয়। নারীর প্রতি চরম অবমাননাকর ও নির্যাতন বন্ধ করতে দরকার সমন্বিত উদ্যোগ। তাই প্রথমেই প্রয়োজন যুগোপযোগী আইন এবং তার কঠোর প্রয়োগ। প্রত্যেক থানায় যাতে ধর্ষণের ঘটনাকে যথোপযুক্ত গুরুত্ব দেয়া হয়, তার ব্যবস্থা করতে হবে। ধর্ষণের মামলাগুলোতে আইনী সহায়তা দেয়ার জন্য সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থাকা দরকার। কিছু কিছু সংগঠন বর্তমানে এ কাজটি করছে এবং ভাল ফল পাওয়া যাচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও তাদের কর্মপরিধি বাড়াতে হবে। এবং যারা ধর্ষণের শিকার হয় তাদেরকে ঘৃণা করলে চরম নির্মমতা প্রদর্শন করা হবে।
– এম.এ. গফুর, বলুয়ারদীঘির দক্ষিণ-পশ্চিম পাড়, কোরবাণীগঞ্জ, চট্টগ্রাম।

- Advertistment -