ধর্মপুর উচ্চ বিদ্যালয় প্রাক্তনীদের মিলনমেলা

এম এস আকাশ

বৃহস্পতিবার , ৯ মে, ২০১৯ at ১০:২১ পূর্বাহ্ণ
24

সকল শ্রেণির প্রাক্তনীদের দুই দিনব্যাপী স্মৃতিচারণ, আড্ডা, প্রতিষ্ঠাতা-দাতা-প্রয়াত শিক্ষকের শোক প্রস্তাব, শিক্ষক সম্মাননা, মুক্তিযোদ্ধা সম্মাননা, কৃতী শিক্ষার্থী সম্মাননা, সমাজসেবী সম্মাননা, রত্নগর্ভা মা সম্মাননা, বাংলার চিরচেনা মনোরম সাংষ্কৃতিক অনুষ্ঠান ও চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানী ভোজের মাধ্যমে গত ২২ ও ২৩ মার্চ প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী পুনর্মিলনী শেষ হয়েছে। ২২ মার্চ শুক্রবার বিকেলে প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের আহবায়ক মো. শাহজাহান চৌধুরী, যুগ্ম আহবায়ক লায়ন্স এসএম শামসুদ্দিন, এস এম কামাল উদ্দিন, অধ্যাপক দিদারুল আলম, ধর্মপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ কাইয়ুম এর পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং পুনর্মিলনীর উৎসবের গান “সবারই অন্তরে অনাবিল উচ্ছ্বাস প্রাণে প্রাণে স্বর্নালী অনুভব, সুবিশাল আয়োজনে আমাদের অঙ্গনে পুনর্মিলনের এ উৎসব…” অধ্যাপক পংকজ দেব অপু’র কথা ও সুরে সমবেত প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের কন্ঠে পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের সুচনা হয়। বিদ্যালয় মাঠ থেকে দুই সহস্রাধিক প্রাক্তনীর পদ যাত্রায় শুরু হয় পুনর্মিলনী আনন্দ র‌্যালী। গুরুত্বপুর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার শেষ হয় বিদ্যালয় মাঠে। পুনর্মিলনী আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সংরক্ষিত আসনের মহিলা সংসদ সদস্য খাদিজাতুল আনোয়ার সনি। বিশেষ অতিথি ছিলেন নানুপুর লায়লা কবির বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ আ ন ম সরোয়ার আলম। আহবায়ক মো. শাহজাহান চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব মো. লোকমানুল আলমের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন এস.এম শামসুদ্দীন, মনছুর উদ্দীন আহমেদ, ডা. জাহিদ হাসান, মাস্টার মু. ইউনুস, মিয়া এম. ইদ্রিস, এস.এম কামাল উদ্দীন, মো. সিরাজুল হক, দিদারুল আলম, শেখ আবু আহমেদ, মনজুর আহমদ চৌধুরী, সুদত্ত সেবক বড়ুয়া, এস.এম ইউনুস, সেলিম উদ্দিন, মো. ইছহাক, অজিত বড়ুয়া, সোরাব হোসেন, রিজিয়া বেগম, খুরশিদা মনজুর, আকরাম হোসেন, এয়ার মোহাম্মদ, জমিল উদ্দিন, মাসুদ প্রমূখ। পরে কবি সোমা মুৎসুদ্দির সঞ্চালনায় বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী জিয়াউল হোসাইন তুষার গাইলো ”ওরে নীল দরিয়া…” শুক্লা মনি বড়ুয়া গাইলো ”গান গাই আর মনরে বুঝাই…” ফারহানা নুর মিনারা গাইলো ”শুধু গান গেয়ে পরিচয়…” কাউসার উদ্দিন গাইলো ”হাসতে দেখো গাইতে দেখো…” ও চট্টগ্রামের খ্যাতনামা সামান্তরিক ব্যান্ড শিল্পীদের কন্ঠে পরিবেশিত হারানো দিনের গান।
২৩ মার্চ সকাল ১০টায় বিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষার্থী ক্ষদে বিতর্কিকদের মন মাতানো যুক্তি আর প্রাক্তনীদের মুহুর্মুহু করতালীর মধ্য দিয়ে শুরু হয় শৈশবে ফেরার গল্প…..। “দারিদ্রতা দুরীকরণ নয়, পরিবেশ রক্ষাই এই শতকের বড় চ্যালেঞ্জ” বিষয়ের পক্ষে ছিলেন ইনতিসার আহমেদ চৌধুরী, আইনুজ্জামান চৌধুরী, ইছমাল সাদিক। বিপক্ষে ছিলেন তাসমিমা তাবাসসুম, রেহানা আকতার, আনসাল বিনতে দিদার। বিজয়ী হয় বিপক্ষ দল। প্রাক্তন ছাত্র এস এম আবু তাহেরের সঞ্চালনায় স্মৃতি চারণ করেন, ডা. শাহজান মাহমুদ, গোলাম রহমান, আবু বকর সিদ্দিকী, ড. আবু মুছা চৌধুরী, ওসমান গনি সিদ্দিকী, গোলাম মোস্তফা, জসিম উদ্দিন, মনসুর উদ্দিন আহমেদ, খোরশেদুল আলম, জামাল সিকদার, নাজমুন নাহার, মঈন উদ্দিন, আবদুস ছালাম. ডা. মোহাম্মদ মুহসীন, জিয়াউল হক, শাহ জালাল, নুর জাহান বেগম, চৌধুরী ফরহাদ করিম, সোহরাব হোসেন সৌরভ, সাইদুল আরেফিন বোরহান, ডা. রিয়াজ আমীন, আরাফাত, দৌলত মনজু, এরফান, তাঞ্জিন মনি, সাজিদা জেসমিন, তাসলিয়াত তাবিন প্রমূখ।
দুপুরে তিন সহস্রাধিক মানুষের চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানী ভোজের পর বিকেলে “প্রাক্তন শিক্ষক ও মুক্তিযোদ্ধা সম্মানা প্রদান” অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ডা. আফছারুল আমীন এমপি। এতে বিশেষ অতিথি নাজিরহাট বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ এস এম নুরুল হুদা বলেন, স্বাধীন বাংলার প্রথম প্রধান প্রধান বিচারপতি মো. ইদ্রিস, ভাষা বিজ্ঞানী ড. মুহাম্মদ এনামুল হক, ভাষা সৈনিক এডভোকেট মুহাম্মদ ফয়েজ, বাংলা একাডেমীর সাবেক মহাপরিচালক ড. মনসুর মুছার স্মৃতিধন্য এই অঞ্চল শিক্ষা-সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য লালনের এক উর্বর ভুমি।
এখানে সংবর্ধিত করা হয় প্রাক্তন ছাত্র সাবেক জেলা লায়ন্স গভর্নর এস এম শামসুদ্দিন, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি এস এম কামাল উদ্দিন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সদ্য পদোন্নতি প্রাপ্ত ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. সোহরাব হোসেনকে। রত্নাগর্ভা মা সম্মাননা দেওয়া হয় আশরফ জাহান ও হাসিনা বেগমকে। সংবর্ধিত শিক্ষক ছিলেন এম এ সামাদ, মইনুদ্দিন জাহেদ, আকতার হোসেন চৌধুরী, আবু নাসের, আকরাম শাহ, মাস্টার সাইফুল ইসলাম। পরে সাংষ্কৃতিক সন্ধ্যায় নিশান বড়ুয়া গাইলো ”এই স্বর্নালী সন্ধ্যায়…” মিম গাইলো ”একলা চলো…” শহীদুল্লাহ গাইলো ”তুমি আমার…” চট্টগ্রামের অজয় চক্রবর্তী গাইলো ”সেই তুমি কেন এতো অচেনা হলে…, পুরনো সেই দিনের কথা…”। রাজশ্রী বড়ুয়া গাইলো ”যেই প্রেম স্বর্গ থেকে এসে জীবনে অমর হয়ে রয়…”।

x