‘ধন্যবাদ মেয়র’

আজাদী প্রতিবেদন

বৃহস্পতিবার , ১৫ আগস্ট, ২০১৯ at ৫:০৪ পূর্বাহ্ণ
264

কোন ধরনের ধারণা বা প্রস্তুতি না থাকলেও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন পচা চামড়া সরিয়ে নেয়ার নজিরবিহীন ব্যবস্থাপনায় অত্যন্ত দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন নিজেই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়টি মনিটরিং করেন। ঈদের দিন রাস্তা থেকে শতভাগ বর্জ্য সরিয়ে নেয়ার পর দ্বিতীয় দিনে চামড়া পচে যেই বর্জ্য তৈরি হয় তাও অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সরিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে সিটি কর্পোরেশন। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন দুইদিনে নগরী থেকে ১ লাখ ২৫ হাজার পিস চামড়া বর্জ্য হিসেবে অপসারণ করেছে। একই সাথে বিপুল পরিমাণ ব্লিচিং পাউডার বিতরণ ও ছিটানোর মাধ্যমে নগরীকে দুর্গন্ধমুক্ত রাখার ক্ষেত্রেও সিটি কর্পোরেশন অনন্য নজির স্থাপন করেছে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নগরবাসী সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছিরউদ্দিন দৈনিক আজাদীর সাথে আলাপকালে বলেছেন, অবাক করা একটি ব্যাপার। চামড়া বর্জ্য হিসেবে অপসারণ করতে হবে তা আমরা স্বপ্নেও ভাবিনি। তাও আবার এত চামড়া। রাস্তা জুড়ে হাজার হাজার পিস চামড়া পড়ে আছে। দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। পচে গেছে। কি করবো বুঝতে পারছিলাম না। পরবর্তীতে রাত তিনটা পর্যন্ত নগরীর আতুরার ডিপো, হামজারবাগ, বহদ্দারহাটসহ সন্নিহিত এলাকা এবং চৌমুহনী আগ্রাবাদ থেকে এক লাখ ১৫ হাজার পিস চামড়া অপসারণ করা হয়েছে। ঈদের তৃতীয় দিনও বড়পোল এবং বায়েজিদ বোস্তামী এলাকা থেকে প্রায় দশ হাজার চামড়া অপসারণ করা হয়। সব মিলে নগরী থেকে ১ লাখ ২৫ হাজার পিস চামড়া চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন অপসারণ করেছে বলেও মেয়র আ জ ম নাছিরউদ্দিন দৈনিক আজাদীকে বলেন।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সভাপতি কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন দৈনিক আজাদীকে বলেছেন, আমাদের ২৭৩টি গাড়ি ও নিজস্ব ৪ হাজার সেবক সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করে নগরীর সব বর্জ্য অপসারণ করেছে। তবে ঈদের দ্বিতীয় দিন ধারণার বাইরে গিয়ে বিকেল থেকে আমাদের যেই যুদ্ধ শুরু করতে হয় তা ছিল কল্পনাতীত। মেয়র মহোদয়ের সার্বক্ষণিক নির্দেশনায় আমরা রাত তিনটা পর্যন্ত এই চামড়া অপসারণ করতে সক্ষম হই। তিনি বলেন, কোরবানির বর্জ্য অপসারণ নিশ্চিত করতে বিভাগীয় সেল খোলা হয়। কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম গতিশীল করার লক্ষ্যে গঠিত সেলের অধীনে সার্বিক দায়িত্ব পালন করছে পরিচ্ছন্ন বিভাগ। নগরের ৪১ ওয়ার্ডকে চারটি সেলে ভাগ করে ৪ জন কাউন্সিলরকে সেল পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি ১৫ হাজার কেজি ব্লিচিং পাউডার বিতরণ ও ছিটিয়ে দেয়া হয়েছে। এতে করে নগরীকে গন্ধমুক্ত রাখা সম্ভব হয়েছে।
পচে যাওয়া চামড়া বর্জ্য হিসেবে ফেলার কোন অতীত অভিজ্ঞতা সিটি কর্পোরেশনের ছিল না। এত বিপুল পরিমাণ চামড়া ফেলে দিতে হবে তা আমাদের কোন হিসাব নিকাশেও ছিল না। তবুও ঈদের দ্বিতীয় দিন বিকেল থেকে রাত তিনটা পর্যন্ত ২০০ শ্রমিক ও ৮টি পে লোডারের সাহায্যে ৩২টি ট্রাকে ৯০ ট্রিপে এক লাখ ১৫ হাজার পচা চামড়া অপসারণ করা হয়। ঈদের তৃতীয় দিন গতকাল বড়পুল এবং বায়েজিদ বোস্তামী এলাকা থেকে আরো দশ হাজার পিস পচা চামড়া অপসারণ করতে হয়েছে বলেও জানিয়েছেন সিটি কর্পোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শফিকুল মান্নান সিদ্দিকী।
নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ কামালউদ্দিন গতকাল দৈনিক আজাদীকে বলেন, এটি একটি অস্বাভাবিক অভিজ্ঞতা। চামড়া পচা গন্ধে আমাদের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয় হয়ে উঠছিল। আমরা ভয়াবহ রকমের এক পরিস্থিতির মুখে পড়তে যাচ্ছিলাম। ভাগ্যক্রমে সিটি কর্পোরেশনের গাড়ি এসে সব ময়লা নিয়ে গেল। পাউডার ছিটিয়ে দিয়ে আমাদেরকে ভয়াবহ অবস্থা থেকে রক্ষা করলো। তিনি সিটি কর্পোরেশনের মেয়রসহ সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ দিয়েছেন। একই সুরে কথা বলেছিলেন বহদ্দারহাট কাঁচা বাজারের পাশের গলির বাসিন্দা মোখলেসুর রহমান। তিনি বলেন, কী এক ভয়াবহ অবস্থার মাঝে পড়েছিলাম তা বলে বুঝানো অসম্ভব। কিন্তু কর্পোরেশন এগিয়ে এসে আমাদেরকে রক্ষা করেছে। তিনিও সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান।

x