দ্রোহভরা আকুতি

শাহানা ইয়াসমিন

বুধবার , ৯ অক্টোবর, ২০১৯ at ৬:৫২ পূর্বাহ্ণ
212

আবরার ফাহাদ আজ একটি ক্রন্দন, এক বুকফাটা চিৎকার, এক নাড়ছেঁড়া আহাজারি, অস্থির মিছিলের আস্ফালন, আকাশমুখী ক্রুদ্ধ মুষ্টিহাত, ব্যানার আর পোস্টারে ছেয়ে যাওয়া জ্বলজ্বলে একটি নাম। কিন্তু এমনতো হবার কথা ছিল না। দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠের সবকটিতে সুযোগ পাওয়া ছেলেটি নিজেকে নির্বাচকের পর্যায়ে নিয়ে নির্বাচন করেছিল বুয়েট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। মা-বাবার অহংকারই শুধু নয় তার চারপাশে সবাইকে সে উজ্জ্বল আভাচ্ছটায় ভরিয়ে দিয়েছে, সৃষ্টি করেছে নিরঙ্কুশ আঙুল উঁচিয়ে দেখানো এক উদাহরণ। অনেক সখ করে বুয়েটে পড়তে আসা অসম্ভব মেধাবী ছাত্র আবরার হয়ত ভাবতেও পারেনি এখানেই তার স্বপ্নের ধ্বংসযজ্ঞ রচিত হবে। কি অপরাধ ছিল তার? নিজের মতামত প্রকাশ? সেটাই কি ছিল তার বড় অপরাধ? এর জন্যেই একটা জীবনকে পিটিয়ে মেরে ফেলার মত হিংস্র, পাশবিক অত্যাচার! আবরারকে যারা মেরেছে তাদের মনের কোণায় শেষ মুহূর্তেও এতটুকু মমত্ববোধ কেন জাগ্রত হলো না। ভিন্ন চিন্তা ভিন্ন মত কেন আমরা সহ্য করার মতন সহনশীলতা দিয়ে সন্তানদের মানুষ করতে পারিনি। এ দায়ভার আমাদেরও কিছুটা থেকে যায়। পারিবারিক বন্ধন, মূল্যবোধ, দয়া, মায়া, মমতা, ভালোবাসা এসবের সরোবরে ধুইয়ে দিতে পারিনি কেন? যদি পারতাম তবে কি ওরা আবরারের উপর নির্মম হতে পারত? আমরা কিছুই পারিনি। পারিনি আবরারকে কথা বলবার সুযোগ করে দিতে, সাথে পারিনি আবরারকে যারা পিটিয়ে মেরে ফেলেছে তাদের মধ্যে এতটুকু মনুষ্যত্ববোধ পুরে দিতে। ধিক্কার জানাই, আমাকে, নিজেকে, আমাদেরকে। আমরা মানুষ থেকে বিবর্তন ধারার উলটোপথে ছুটে চলেছি। বিজ্ঞানীরা তোমরা আরেকবার নব বিবর্তনবাদ নিয়ে গবেষণা করো। এবার পশু থেকে মানব নয়, মানব থেকে পশু হবার পালা। হয়ত নির্মমতা আর নিষ্ঠুরতার পাল্লা এতটাই ভারি যে পশুও বুঝি আমাদেরকে তাদের দলে নেবে না। অসম্ভব মেধাবী আবরার ছেলেটি হতে পারত পৃথিবী কাঁপানো কোন ব্যক্তিত্ব। দেশের দশের নাম উজ্জ্বল করা এক অহংকার। আমাদের কি কিছুই করার নেই? হয়ত আছে, হয়ত নেই। অক্ষমতার শৃংখলতা ভেঙে আসবে অন্য কোন আবরার। হতে পারে সংখ্যায় শত কোটি। তখন ওরা কজনকে মারবে,রুদ্ধ করবে? দ্রোহভরা গভীর আকুতিতে এখন আমরা দর্শকমাত্র। তবে শুদ্ধ উচ্চারণে যেসব আবরারের পদচিহ্ন এখনো নিঃশ্বাস নিচ্ছে তাদের জন্যে সৃষ্টিকর্তার কাছে একটাই চাওয়া, ‘তুই, তোরা ভালো থাক, অন্তত: বেঁচে থাক।’

x