দ্বিতীয় চট্টগ্রাম ইনডি ফিল্ম ফেসট

নাজনীন নূর

বৃহস্পতিবার , ১৬ মে, ২০১৯ at ৪:২১ পূর্বাহ্ণ
18

দৃশ্যছায়া এর উদ্যোগে ৩ মে থিয়েটার ইন্সটিটিউট চট্টগ্রামে বেশ জমজমাট আয়োজনে দিন ব্যাপী অনুষ্ঠিত হল দ্বিতীয় চট্টগ্রাম ইনডি ফিল্ম ফেসট। ফিল্ম প্রদর্শনের পাশাপাশি চট্টগ্রাম ইনডি ফিল্ম ফেসট এর অন্যতম আকর্ষণ ছিল দৃশ্যছায়া অ্যাওয়ার্ড নাইট। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া ফিল্মগুলোর থেকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার প্রদান করার পাশাপাশি ছিল মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। এই বছর থেকে অর্থাৎ ২০১৯ সাল থেকে দৃশ্যছায়া সংস্কৃতি জন সম্মাননা প্রদান করা হয়। দৃশ্যছায়া আবৃত্তি শিল্পী সম্মাননা (মরণোত্তর) পেয়েছেন আবৃত্তি শিল্পী ও বোধন আবৃত্তি পরিষদের সভাপতি প্রয়াত রণজিৎ রক্ষিত। দৃশ্যছায়া নাট্যকার সম্মাননা পেয়েছেন নাট্যকার প্রদীপ দেওয়ানজী। দৃশ্যছায়া নাট্য নির্দেশক সম্মাননা পেয়েছেন নাট্য নির্দেশক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় নাট্যকলা বিভাগের প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান অসীম দাশ। দৃশ্যছায়া সঙ্গীত শিল্পী সম্মাননা পেয়েছেন নাট্যজন ও সঙ্গীত শিল্পী শান্তুনু বিশ্বাস। দৃশ্যছায়া মূকাভিনয় সংগঠক সম্মাননা পেয়েছেন মূকাভিনেতা ও প্যান্টোমাইম মুভমেন্ট এর সভাপতি রিজোয়ান রাজন। এছাড়া নিয়মিত নাট্য ট্রুপ হিসেবে ফেইম স্কুল অব ড্যান্স, ড্রামা এন্ড মিউজিক সম্মাননা পায়। দৃশ্যছায়ার সেরা অভিনয়শিল্পী সম্মাননা (মরণোত্তর) পেয়েছেন অকাল প্রয়াত তরুণ অভিনেতা ও নাট্যকর্মী রুমেল বড়ুয়া। রুমেল স্মৃতি দৃশ্যছায়ার সেরা কর্মী সম্মাননা পেয়েছেন আসবাবির হক চৌধুরী। আলফা’ সিনেমার জন্য অভিনেতা আলমগীর কবির বিশেষ সম্মাননা পান। সেরা পরিচালক এবং সেরা চলচ্চিত্র পুরস্কারটি যায় দ্যা ব্ল্যাক নাইট এর ঝুলিতে, সেরা এডিট এবং আর্ট ডিরেকশন গিয়েছে বিলুপ্ত ঠিকানায় এর ঝুলিতে। সেরা অভিনেত্রী গেছে যৌথ ভাবে একাত্তরের দিন এবং ফ্রিডম এর কাছে। আন্ডার দ্যা ইন ফ্লুয়েন্স পেয়েছে সেরা ক্যামেরা ওয়ার্ক। সেরা অভিনেতা ও সেরা অডিও ওয়ার্ক গেছে আগুন্তুক টিমের কাছে। সেরা গল্প হয়েছে রোদ্দুর এবং সেরা স্ক্রিপ্ট হয়েছে ফ্রিডম। রুমেল স্মৃতি দৃশ্যছায়ার সেরা কর্মী হয়েছেন আসবাবির হক চৌধুরী রাফসান। অ্যাওয়ার্ড নাইটের উপস্থাপনায় ছিলেন সাইকা। মূকাভিনয় পরিবেশন করেন মাসউদুর রহমান। সঙ্গীত পরিবেশন করেন মোঃ ইব্রাহীম ও শাফাক বিন নূর। নৃত্য পরিবেশন করেন পূজা বড়ুয়া। উৎসবের প্রতিযোগিতা শাখায় দেখানো হয় রোদ্দুর (জেরিন চৌধুরী, মৃত্তিকা বড়ুয়া, প্রমা পারমিতা নির্মিত), বিলুপ্ত ঠিকানায় (সায়মা ফারজানা নির্মিত), পুরুষাতঙ্ক (অপরাজিতা সঙ্গীতা নির্মিত), মোমেনটস ও আন্ডার দ্যা ইন ফ্লুয়েন্স (রবি চক্রবর্তী নির্মিত), দ্যা ব্ল্যাক নাইট (শেখ মোহাম্মাদ আরাফাতুর রহমান নির্মিত), ফ্রিডম (মাহমুদ হাসান শুভ নির্মিত), আগন্তুক (মিনহাজুল আলম জিশান নির্মিত), ঢাকা শাটস (আহমেদ তাহসিন শামস নির্মিত), চক্র (মতিউর সুমন নির্মিত), একাত্তরের দিন (সাব্বির আহমেদ সোহাগ নির্মিত), থ্রি নট থ্রি (কাজি আশরাফ এলাহি নির্মিত), অনন্ত জীবন ১৯৪৬ (আব্দুল্লাহ আল মারুফ নির্মিত)। এছাড়া বিশেষ প্রদর্শনী হিসেবে তৃতীয় বিশ্বের ম্যাজিক (আনোয়ার হোসেন পিন্টু নির্মিত) এবং নির্মাতা তারেক মাসুদকে নিয়ে ডকুমেন্টারি ফেরা (প্রসুন রহমান নির্মিত) প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম শহরে দেখানো হয়। এই দুটো সিনেমা শেষে চারুশিল্পী ঢালী আল মামুন এবং সত্যজিৎ রায় গবেষক ও নির্মাতা আনোয়ার হোসেন পিনটু নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করেন। এসময় দর্শক সারিতে উপস্থিত ছিলেন আরেকজন চারুশিল্পী ও নির্মাতা দিলারা বেগম জলি। এর পরপরই তরুণ নির্মাতা ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের মধ্যে জমজমাট একটি সিনে আড্ডা অনুষ্ঠিত হয় অ্যাওয়ার্ড নাইটের আগ অবধি। তিন পর্বে বিন্যস্ত দিনব্যাপী সিনেমা মুখর গোটা আয়োজনে শুরুতেই অকাল প্রয়াত রুমেল বড়ুয়া এর প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয় তার অভিনীত ভিজুয়াল কাজ দিয়ে।
সকালে দেখানো হয় রুমেল বড়ুয়া অভিনীত শর্ট ফিল্ম পতাকা (ইফতেখার আহমদ সায়মন নির্মিত), বিকেলে দেখানো হয় অ্যাডভেঞ্ছারার (রফিকুল আনোয়ার রাসেল নির্মিত) এবং অ্যাওয়ার্ড নাইটের শুরুর ক্ষণে মিউজিক ভিডিও ওয়াই ইয়ু ডিড ইট টু মি’ (মাসউদুর রহমান নির্মিত) দেখানো হয়। উৎসবের পোশাক স্পন্সর হিসেবে ছিল অনলাইন বুটিক শপ নাজনীন’স। সব মিলিয়ে জমজমাট একটি সিনেমা মুখর দিন উপহার দিল দৃশ্যছায়া।

x