দেশে ধনীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে

রবিবার , ৩০ জুন, ২০১৯ at ৬:১৯ পূর্বাহ্ণ
42

দেশ উন্নতির দিকে এগিয়ে চলেছে। এখন দেশের কিছু কিছু মানুষ কোটি টাকা মূল্যের গাড়ি হাকিয়ে চলেন। মন্ত্রী, এমপিদেরও সম্পদের অভাব নেই। তারা একেকজন কোটিপতি। নির্বাচনে যে সব প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন তাদের প্রায় প্রত্যেকেই কোটিপতি। অবশ্য তারা ছাড়াও দেশে এখন হাজার হাজার মানুষ কোটিপতি হয়েছেন দেশের সম্পদ নানাভাবে হাতিয়ে নিয়ে। তাদের অনেকেই এমন গাড়িতে চড়েন যার মূল্য কোটি টাকার উপরে। বিশ্বের নামী-দামী ব্রান্ডের গাড়িতে চড়েন। এসব ব্রান্ডের গাড়ি নিয়ে ঢাকার রাস্তায় চলাচল করতে দেখা যায়। উন্নত বিশ্বের কেউ কেউ ব্যঙ্গ করে বাংলাদেশেরএসব ধনীদের বলে থাকেন গরীব দেশের বড় লোক। তাদের একথা একেবারে উড়িয়ে দেয়া যায় না। এর কারণ একটি শ্রেণি বিপুল বিত্ত-বৈভবের মালিক হলেও সার্বিকভাবে দেশের মানুষ আনুপাতিকহারে বিত্তবান হতে পারেনি। সমাজতন্ত্রবাদীরা বলতে পারেন, দরিদ্রদের শোষণ করে তারা ধনী হয়েছেন। তবে ধনী-দরিদ্রের পার্থক্য অস্বাভাবিক হলেও দেশের প্রবৃদ্ধি ঘটেছে উল্লেখ করার মতো। এক শ্রেণির মানুষের লুটপাট এবং চুরির মধ্যেও দেশ এগিয়ে চলেছে। অবশ্য এসব লুটপাট ও চুরি যদি না হতো এবং টাকা পাচার না হতো তবে উন্নতিটা আরও বেশি চোখে পড়তো। অর্থনীতিতে বাংলাদেশকে যে দক্ষিণ এশিয়ার ইমার্জিং টাইগার বলা হচ্ছে টাইগার এতো দিনে দৌড়াতে শুরু করত। এক্ষেত্রে সরকার যদি লুটেরা এবং চোরদের ধরে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করত তবে একাজটি সহজ হয়ে যেত। দেখা যাচ্ছে সরকার এ কাজটি করতে পারেনি। সরকার মানুষের মাথা পিছু গড় আয় ১৭৫১ ডলার বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে। যদিও বরাবরই এ আয় বৃদ্ধি নিয়ে বিতর্ক থেকে যাচ্ছে। গড় আয়ের হিসাবটি আপেক্ষিক। কারণ যে ব্যক্তি কোটি টাকা মূল্যের গাড়িতে চড়েন তার আয় এবং শ্রমজীবীর আয় এক হওয়ার কথা নয়। ঐ কোটিপতির আয়ই গড় হিসাবের মাধ্যমে একজন শ্রমিকের আয়ের সাথে যুক্ত হচ্ছে। অন্যদিকে যে বেকার তারতো আয় হওয়ারই কথা নয়। তারপরও তার আয় ১৭৫১ ডলার হয় কি করে? এ হিসাব থেকে বুঝতে অসুবিধা হয় না কিছু মানুষের অর্থ সম্পদের উন্নতি দিয়ে দেশের অর্থনীতির উন্নতির সূচকটি হিসাব করা হচ্ছে। উন্নত বিশ্বে এই গড় আয় হিসাব করা হলেও আমাদের দেশে মতো তাদের ধনী-দরিদ্র্যের ব্যবধান এতটা থাকে না। আমাদের দেশে ধনী ও দরিদ্র্যের আয়ের বৈষম্য এড়িয়ে যায়। স্বীকার করলে তো আর তার সাফল্য বলে কিছু থাকে না। তবে সরকার যে উন্নতি করছে তা দেখার জন্য কৌশল হিসেবে বেছে নিয়েছে কিছু স্থাপনা এবং অবকাঠামো। উন্নতির মূল স্মারক হিসেবে এখন ধরা হচ্ছে পদ্মা সেতুকে। বিষয়টি এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে পদ্মা সেতু হলে আমরা যেন একেবারে উন্নত দেশে পরিণত হয়ে যাব। সার্বিক উন্নতির বিষয়টি যে এখনও ধীর গতির রয়েছে তা একজন সাধারণ মানুষেরও বুঝতে অসুবিধা হয় না।
এম. এ. গফুর, বলুয়ার দীঘির দক্ষিণ-পশ্চিম পাড়, কোরবানীগঞ্জ, চট্টগ্রাম।

x