দেশীয় মাছের আকাল দেখা দিচ্ছে গ্রামাঞ্চলে

মাহবুব পলাশ : মীরসরাই

সোমবার , ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ at ৯:১৫ পূর্বাহ্ণ
33

চট্টগ্রামের কৃষি ও গ্রামীণ তেপান্তর প্রধান জনপদ মীরসরাই উপজেলায় মৌসুমেও মিঠা পানিতে দেশি প্রজাতির মাছ মিলছে না। মুক্ত জলাশয়, নদীনালা, খালবিলে মৌসুমের শুরুতে গত বছর যে পরিমাণ মাছ পাওয়া গেছে চলতি মৌসুমে তা অর্ধেকে নেমে গেছে। ফলে বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় মাছের দাম আকাশচুম্বী। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জমিতে অতিরিক্ত সার প্রয়োগ, মা মাছ নিধন, অভয়াশ্রমের অভাব ও সংরক্ষণে সরকারিবেসরকারি কোনো উদ্যোগ না থাকায় দিন দিন দেশি মাছ হারিয়ে যাচ্ছে। দেশি মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে স্থানীয় মৎস্য বিভাগ নির্বিকার। অনেকে বলছেন, বৃষ্টি হলেই মাছ বাজারে আসতে শুরু করবে কিন্তু চলতি মৌসুমে আশানুরূপ বৃষ্টির পর বর্ষা প্রায় শেষ প্রান্তে তবু ও প্রাকৃতিক জলাশয় থেকে মাছ উৎপাদন না হওয়ায় বাজারে দেশি মাছ উঠছে না। জলাশয়গুলোতে এক সময় শিং,মাগুর, কই, টেংরা, শোল, গজার, বোয়াল, আইর, বালিয়া, ভেদা, বাইম, পুঁটি, চান্দা, চিংড়ি, ফলি, বউপুঁটি, কালবাউশ, হলই সহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ পাওয়া যেত। বর্তমানে এসব প্রজাতির মাছ এবার আর চোখেই পড়ছে না।

দুর্গাপুর গ্রামের আলতাফ হোসেন জানান, এক সময় মিঠাছরা থেকে বয়ে আসা ইছাখালী খাল দিয়ে অনেক ধরনের দেশি মাছ পাওয়া যেত এখন আর তেমন মাছ হয় না। মাঠের পাশে শত শত খাঁডিতে চারা দিয়ে পরে জাল মেরে কোরাল, কাডাইছা, শোইল, বাইলা সহ কতো মাছই না নিত্য পাওয়া যেত। অনেকে পরিবারের প্রয়োজন সারিয়ে স্বজন পরিজনদের জন্যও পাঠাতো। আর হাটে তো হরেক রকম দেশী মাছ উঠতোই। কাটাছরা গ্রামের নুরুজ্বামান বলেন বামনসুন্দর খাল থেকে চিরিং, বাডা, চেউয়াসহ কতো মাছ উঠতো। মানুষ বর্ষা মৌসুমে চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত মাছ শুকিয়ে সংরক্ষণ করত। বর্তমানে এসব আর ভাবাই যায় না।

এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহমুদুল ইসলাম বলেন জমিতে অতিরিক্ত সার প্রয়োগ, ডিমওয়ালা মা মাছ নিধন, অভয়াশ্রম নেই ও দেশি মাছ রক্ষায় বেসরকারিভাবে কোনো উদ্যোগ না থাকায় দিন দিন এ মাছ হারিয়ে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্ষা মৌসুমের শুরুতে কিছু দিন মাছ ধরা বন্ধ রাখলে দেশি মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি করা সম্ভব।

x