দেবাশিস্‌ রুদ্রের একক আবৃত্তি সন্ধ্যা

আনন্দন প্রতিবেদক

বৃহস্পতিবার , ৭ জুন, ২০১৮ at ৪:২৫ পূর্বাহ্ণ
15

বাইরে তখন ঝুম বৃষ্টি আর মেঘের গর্জন। মিলনায়তনে বাজছে বাঁশিঁর সুর । ঠিক ৭ টায় মঞ্চে এসে উপস্থিত হলেন সঞ্চালক প্রিয়াংকা বিশ্বাস চৌধুরী । তিনি প্রথমেই শিল্পীকে মঞ্চে ডেকে নিলেন। এরপরই পরিবেশিত হলো এক একটি মনোমুগ্ধকর আবৃত্তি। গত ১১ মে শুক্রবার সন্ধ্যা ৭ টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে ত্রিতরঙ্গ আবৃত্তি দল আয়োজন করেছিলো সংগঠনের সভাপতি আবৃত্তিশিল্পী দেবাশিস্‌ রুদ্রের “চেতনার অনুভবে আপন সত্তায়” শীর্ষক একক আবৃত্তি সন্ধ্যা। অনুষ্ঠানটি উৎসর্গ করা হয় একুশে পদক প্রাপ্ত প্রয়াত কবি বেলাল চৌধুরীকে। অনুষ্ঠানের প্রারম্ভে শিল্পীর জীবনী পাঠ করেন দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আবৃত্তিশিল্পী সুপ্রিয়া চৌধুরী। আবৃত্তির পাশাপাশি ছিল অতিথিবৃন্দ ও শুভানুধ্যায়ীদের কথামালা। কথামালা পর্বে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রের জেনারেল ম্যানেজার মনোজ সেনগুপ্ত। বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষাবিদ হাসিনা জাকারিয়া বেলা, সাহিত্যিক ও সংস্কৃতি সংগঠক আলম খোরশেদ, বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের বার্তা সম্পাদক নুরুল আজম পবন, অক্সফোর্ড মডার্ন স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ জয়নাল আবেদীন ও ইঞ্জিনিয়ার দেলোয়ার মজুমদার। বক্তারা আলোচনায় বলেন আবৃত্তি এমন একটি মাধ্যম যার মধ্য দিয়ে শুধুমাত্র শিল্পের চর্চা নয়, সমাজের প্রতি ও আবৃত্তিশিল্পীরা দায়িত্ব পালন করছে। বক্তারা আরো বলেন, আবৃত্তি সংগঠনগুলো সাংগঠনিক চর্চার মধ্য দিয়ে দেশের সংকট ,জঙ্গীবাদ , যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও অন্যায়ের প্রতিবাদে জোরালো ভূমিকা রেখে যাচ্ছে। প্রধান অতিথি বলেন , বিটিভি, চট্টগ্রাম কেন্দ্র আবৃত্তির প্রচার ও প্রসারের ক্ষেত্রে আবৃত্তি সংগঠন ও শিল্পীদেরকে কাজের সুযোগ দিতে সবসময় আগ্রহী এবং তিনি নিত্য নতুন অনুষ্ঠানের ভাবনা জানাতে শিল্পীদেরকে আহবান জানান। আবৃত্তিশিল্পী দেবাশিস্‌ রুদ্র মোট ২১টি কবিতা আবৃত্তি করেন তার মধ্যে কবি বেলাল চৌধুরীর ‘কবিতা জীবনকে শুষে নেয়’, সৈয়দ শামসুল হকের ‘তোমাকে অভিবাদন বাংলাদেশ’, নির্মলেন্দু গুণের ‘ আফ্রিকার প্রেমের কবিতা ও ‘যাত্রাভঙ্গ ’, মহাদেব সাহার ‘ আমি কি বলতে পেরেছিলাম ’, শামসুর রাহমানের ‘বাইবেলের কালো অক্ষরগুলো’, কাজী নজরুল ইসলামের ‘মানুষ’, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘প্রশ্ন’, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘আমি কি রকমভাবে বেঁচে আছি’, হুমায়ূন আজাদের ‘শুভেচ্ছা’, জসীমউদ্‌দীনের ‘প্রতিদান’, হেলাল হাফিজের ‘যাতায়াত’, বাদল সৈয়দের ‘অর্ধেক’, মল্লিকা সেনগুপ্তের ‘মেয়েটি রোদের সাথে’, সুকুমার বড়ূয়ার ‘মেজবান’, শুভ দাশগুপ্তের ‘বাঁশি’, ভাস্কর চৌধুরীর ‘আমার বন্ধু নিরঞ্জন’, আনিসুল হকের ‘তুই কি আমার দুঃখ হবি’,মাসুদুজ্জামানের অনুবাদে কবি আলী জোহারের ‘আমি একজন রোহিঙ্গা’, কামাল চৌধুরীর ‘নিয়াজী যখণ আত্মসমর্পন লিখছে’। শিল্পীকে অনুষ্ঠানে ফুল ও উপহার দিয়ে শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন মশরুর হোসেন, ফারুক তাহের , মুজাহিদুল ইসলাম, মোঃ সেলিম ভুঁইয়া, ইকবাল হোসেন জুয়েল ও মেজবাহ্‌ চৌধুরী, মিঠু তলাপাত্র, মোঃ রানা ও আশেক আরেফীন, আব্দুল আজিজ ও সোহেল আনোয়ার। শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন আবৃত্তিশিল্পী রণজিৎ রক্ষিৎ, রাশেদ হাসান, শুভাশীষ শুভ ও সংগীতশিল্পী সুপর্ণা রায় চৌধুরী। পুরো আয়োজনটির আবহ সংগীত পরিকল্পনায় নাট্যজন মঈনউদ্দীন কোহেল ও আলোক পরিকলাপনায় ছিলেন নাট্যনির্দেশক মোস্তাফা কামাল যাত্রা। মঞ্চ ও দৃশ্য পরিকল্পনায় ছিলেন ইয়াসির সিলমী।

x