দেখা যাবে না যাদের

জাহেদুল কবির

বৃহস্পতিবার , ১৪ জুন, ২০১৮ at ১২:৫৯ অপরাহ্ণ
31

আাজ থেকে রাশিয়ায় শুরু হচ্ছে বিশ্বকাপ ফুটবল। সারা বিশ্ব এখন ফুটবল জ্বরে কাঁপছে। বিশ্বব্যাপী উন্মাদনার কারণে বিশ্বকাপের এই ইভেন্টকে গ্রেটেস্ট শো অন আর্থও বলা হয়। এবার বিশ্বকাপে মাঠ মাতাবেন বিশ্বের অনেক রথীমহারথীরা। স্বাভাবিকভাবে স্পটলাইট থাকবে মেসিরোনালদোনেইমার ও মোহাম্মদ সালাহদের ওপর। এতসব তারকা যখন মাঠ মাতাবেন তখন গত বিশ্বকাপে মাঠ মাতানো অনেক তারকা স্রেফ দর্শক হয়েই থাকবেন। সেই তালিকায় আছেন বেশ কয়েকজন। গত বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে যার গোলে জার্মানি চতুর্থবারের মতো শিরোপা জয় করে, সেই মারিও গোৎসে এবার দলে ডাক পাইনি! এছাড়া রাশিয়া বিশ্বকাপে দল ডাক পায়নি ব্রাজিলিয়ান সেন্টারব্যাক ডেভিড লুইজ। বিশ্বকাপের জায়গা না পাওয়ায় চিলির তারকা অ্যালেঙিস সানচেজকেও মিস করবে ফুটবল বিশ্ব। একইভাবে দর্শক হয়ে থাকছেন ইতালির তারকা গোলরক্ষক জিওনলোজি বুফন ও ব্যাডবয় খ্যাত ইতালির স্ট্রাইকার মারিও বালোতেল্লি। এছাড়া নেই গত বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডকে ফাইনালে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা আরিয়েন রোবেন। এর বাইরেও দর্শক হয়ে থাকবেন বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনার তারকা স্ট্রাইকার এডিন জিকো, ওয়েললস তারকা গ্যারেথ বেল, ইংল্যান্ডের তারকা স্ট্রাইকার ওয়েন রুনি, ফ্রান্সের করিম বেনজামা।

গ্যারেথ বেল (ওয়েলস) : সদ্য সমাপ্ত চ্যাম্পিয়ন্স লীগের ফাইনালে বদলি হিসেবে নেমে ভলি থেকে করা অবিশ্বাস্য গোলটি চোখে না দেখলে বিশ্বাস করাটাই কঠিন। এছাড়া ত্রিশ গজ থেকে দূর আরো একটি অনবদ্য গোল করে রিয়াল মাদ্রিদকে টানা তৃতীয়বারের মতো শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। গত দুই বছর ধরেই এমন সব দারুণ নৈপুণ্য উপহার দিয়ে যাচ্ছেন এই ওয়েলসের তারকা উইঙ্গার গ্যারেথ বেল। কিন্তু তার দেশ এবার বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হওয়ায় বিশ্বকাপে তাকে দর্শক হয়ে থাকতে হচ্ছে। এর আগে অবশ্য গত ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয় দলটি। তবে হঠাৎই উল্টো রথে উড়ে তারা। ফলে বাছাই পর্বের বাধা পের হতে ব্যর্থ হয়।বিশ্বকাপে জায়গাও হয়নি।

আরিয়েন রোবেন ( নেদারল্যান্ড) : জার্মানির বায়ার্ন মিউনিখে তিনি নিয়মিত সদস্য। এই বুড়ো বয়সেও তার চোখ ধাঁধানো গতি, ড্রিবলিং এক কথায় মনোমুগ্ধকর। তার এই সামর্থ্যের প্রমান তিনি বিভিন্ন সময় দিয়ে গেছেন। গত বিশ্বকাপে বলা যায় তার গতির কাছে কুপোকাত হয়ে বিশ্বের বাঘাবাঘা ডিফেন্ডার। কিন্তু সেই গতির ঝড় দেখা থেকে বঞ্চিত হবে বিশ্ববাসী। কারণ সবাইকে হতবাক করে দিয়ে এবার নেদারল্যান্ড বিশ্বকাপে জায়গা করে ব্যর্থ হয়। তাই রোবেনকে রাশিয়া বিশ্বকাপ মিস করবে এতে কোনো সন্দেহ নাই।

অ্যালেঙিস সানচেজ (চিলি) : গত ২০১৫ ও ২০১৬ সালে কোপা আমেরিকা শিরোপা জয়ে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন সামনে থেকে। তার পারফরম্যান্সের ওপর ভর করে চিলি নিজেদের সবচেয়ে বড় শিরোপা জয় করেছে। সেটিও আবার টানা দুইবার বিশ্বের পরাক্রমশালী আর্জেন্টিনার দলকে হারিয়ে। দুর্দান্ত নৈপূণ্যের জন্য তাকে চিলির সোনালি প্রজন্মের তারকা বলা হয়। কিন্তু অবিশ্বাস্যভাবে চিলি এই বিশ্বকাপে জায়গাপাইনি। তাই বিশ্বকাপে দেখা যাবে না ফুটবল নিয়ে সানচেজের কারিকুরি।

জিয়ানলুইজি বুফন (ইতালি) : বিশ্বের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি বুফন। কেউ কেউ তো তাকে ইকার ক্যাসিয়াস এবং লেভ ইয়াসিনদের কাতারেও রাখেন। ২০০৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে ফ্রান্সকে হারানোর অন্যতম নায়ক ছিলেন তিনিই। জিনেদিন জিদানের মতো কিংবদন্তি ফুটবলারও তাকে পরাস্ত করতে পারেননি। সেই বুফনই থাকছেন না এবারের বিশ্বকাপে। কারণ ছাড়পত্রই পায়নি তার দেশ চারবারের চ্যাম্পিয়ন ইতালি।

এডিন জেকো (বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনা) : গত বিশ্বকাপে আলো ছড়িয়েছেন তিনি। একইভাবে ইতালিয়ান লিগ সিরিএ’র দল এএস রোমাকে চ্যাম্পিয়ন্স লীগের সেমিফাইনালে তুলেছেন একক নৈপূণ্যে। তবে ইতালিয়ান লিগ সিরি আ জেতাতে না পারলেও দলকে রেখেছেন সেরার লড়াইয়ে। অন্যদিকে বাছাই পর্বের গণ্ডি পেরোতে না পারায় বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি তার দেশ বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনা। তার রাশিয়া বিশ্বকাপ খেলা হচ্ছে না তার।

মারিও গোৎসে (জার্মানি) : গত বিশ্বকাপে যার গোলে আর্জেন্টিনা দীর্ঘ প্রতিক্ষার অবসান ঘটাতে পারেনি তিনি মারিও গোৎসে ফাইনালে সেদিন আর্জেন্টিনা জার্মানদের সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছিল সমানে সমানে। হঠাৎই লিওনেল মেসিদের স্তব্ধ করে দিয়ে মারিও গোৎসে বল জড়িয়ে দেন আর্জেন্টিনার জালে। ম্যাচের সময় ১১৩ মিনিট। তাঁর সেই গোলে ২৪ বছর পর ২০১৪ বিশ্বকাপের শিরোপা উঁচিয়ে ধরে জার্মানি। এবার রাশিয়া বিশ্বকাপে নেই সেই মারিও গোৎসে! তাকে দলেই রাখেনি জার্মান কোচ জোয়াকিম লো।

করিম বেনজেমা (ফ্রান্স) : সদ্য শেষ হওয়া চ্যাম্পিয়ন্স লীগের সেমিফাইনালে করেছিলেন জোড়া গোল। এছাড়া ফাইনালে করেছেন আরেকটি। তবে ফ্রান্সের সেই তারকা স্ট্রাইকার করিম বেনজমাকে দলেই রাখেনি ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশম। শোনা যাচ্ছ, কোচের সাথে বেনজামার সম্পর্ক খুবই অম্লমধুর। যার ফলশ্রুতিতে এবার তাকে মাঠে দেখা যাবে না।

ওয়েন রুনি (ইংল্যান্ড) : তাকে বলা হতো ডেভিড বেকহাম পরবর্তী ইংলিশদের সবচেয়ে বড় তারকা। ক্লাব ক্যারিয়ারে বারবার প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে চললেও ইংলিশ কোচ গ্যারেথ সাউথগেটের মন গলাতে পারেনি রুনি। ফলস্বরূপ ২৩ জনের দলে তাকে বিবেচনায় করা হয়নি। তাই এই বিশ্বকাপে তাকে দর্শক হয়েই থাকতে হবে।

মারিও বালোতেল্লি (ইতালি) : খ্যাপাটে স্বভাবের কারণে ইতোমধ্যে নিজের নামের সাথে ব্যাডবয় তকমা লেগে গেছে। ফুটবলের বাইরেও খবরের শিরোনাম হয়েছেন অনেকবার। তবে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে চূর্ণবিচূর্ণ করে দেয়ার ক্ষমতা রাখেন তিনি। বর্তমানে ফরাসি লিগ ওয়ানের নিসের হয়ে খেলছেন তিনি। কিন্তু এবার তার দেশ ইতালি বাছাই পর্ব পার হতে না পারায় তাকেও দেখা যাবে না বিশ্বকাপে।

ডেভিড লুইজ (ব্রাজিল) : গত বিশ্বকাপে ব্রাজিল দলে ছিলেন একজন অপরিহার্য সদস্য। কিন্তু এই বিশ্বকাপে কোচ তিতের দলে ব্রাত্য হয়েই রইলেন। অথচ ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে চেলসির হয়ে নিয়মিত আলো ছড়িয়ে যাচ্ছেন এই ব্রাজিলিয়ান সেন্টারব্যাক। তাই বিশ্বকাপে তাকেও ভীষণ মিস করবে সমর্থকরা।

x