দৃশ্যত কোনো উন্নতি নেই অনুষ্ঠানের একুশ বছরের অর্জন প্রায় শূন্য

আয়শা আদৃতা

বৃহস্পতিবার , ১১ অক্টোবর, ২০১৮ at ১০:৪২ পূর্বাহ্ণ
20

বিটিভি চট্টগ্রামের অনুষ্ঠানের দৃশ্যত কোনো মানোন্নয়ন হচ্ছে না। দেখতে দেখতে প্রায় একুশ বছর হতে চলল, কিন্তু দর্শক তৈরি কিংবা শিল্পী তৈরি কোনোটাতেই কোনো অবদান রাখতে পারল না রাষ্ট্রীয় এ টিভি চ্যানেলটি। প্রতিদিন প্রচারিত হয় একাধিক গানের অনুষ্ঠান। ২১ বছরে কয়েক লক্ষ গান প্রচারিত হয়েছে এ চ্যানেল থেকে। কিন্তু এই লাখ লাখ গানের মধ্যে একটি মৌলিক গানও কি জনপ্রিয় হয়েছে? কোনো গান কি শ্রোতার মুখে মুখে ওঠে এসেছে? নাকি কোনো শিল্পী জাতীয় পর্যায়ে নিজের অবস্থান তৈরি করে নিতে পেরেছে? গানের মতোই প্রতিদিন প্রচারিত হয় অসংখ্য টক শো। থাকেন উপস্থাপক, থাকেন আলোচক। জাতীয় পর্যায় না হয় বাদই দিলাম, চট্টগ্রামের দর্শকদের কাছেও এমন কোনো নাম নেই, যিনি টেলিভিশন উপস্থাপক হিসেবে সাধারণের কাছে জনপ্রিয়। এ ব্যর্থতার দায় কার? কেন, একুশ বছরে একজন শিল্পী, একজন উপস্থাপককেও আমরা পেলাম না। কেন একুশ বছরে একটা জনপ্রিয়, মৌলিক অনুষ্ঠানও আমরা পেলাম না। যারা একুশ বছর ধরে এ কেন্দ্রের সাথে জড়িত, উত্তরটা তারাই ভালো দিতে পারবেন। শিল্পী, কলাকুশলীদের আন্তরিকতা যে প্রশ্নবিদ্ধ সে বিষয়ে কারো সন্দেহ থাকার অবকাশ নেই। বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রকে একটি দর্শকপ্রিয় চ্যানেল করতে হলে কেন্দ্রের জেনারেল ম্যানেজার থেকে শুরু করে শিল্পী, কলাকুশলী সবাইকে আরো বেশি আন্তরিক হতে হবে, দায়িত্বশীল হতে হবে।
সোমবার রাতে প্রচারিত হয় কঙবাজারের আঞ্চলিক গানের অনুষ্ঠান। এ অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করেন, ফরমান রেজা, সোনিয়া বড়ুয়া, দেলোয়ার হোছাইন, অদিতি বড়ুয়া মুমু, মীনা মল্লিক, বশিরুল ইসলাম ও মানসী বড়ুয়া। কক্সবাজারের আঞ্চলিক গান হলেও, গানের কথায় ওঠে এসেছে মানুষের কথা, জীবনের গল্প, প্রেম-ভালোবাসা আর সুখ দুঃখের কথা। মাঝে মাঝে এমন ব্যতিক্রমী আয়োজন অনুষ্ঠান তালিকাকে সমৃদ্ধ করে। বশিরুল ইসলামের সঙ্গীত পরিচালনায় অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন শামীম আকতার।
যুব উন্নয়নমূলক অনুষ্ঠান যুব দিগন্ত মানেই কী শুধু গরু-ছাগল লালন-পালন করে স্বাবলম্বী হওয়ার গল্প? আর কোনোভাবে কি যুব সমাজ স্বাবলম্বী হয় না? তরুণ প্রজন্ম, যুব সমাজ এখন শুধু গরু-ছাগল লালন-পালন আর কম্পিউটা শিক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। হাজার রকম কাজের মাধ্যমে তারা নিজেদের তো প্রতিষ্ঠা করছেই, অন্যদের কাছেও আইকন হিসেবে পরিচিতি লাভ করছে। তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর ব্যবসা করে গ্রামে-গঞ্জে, শহরে-বন্দরে অনেক তরুণ-যুবকরাই আজ অন্যদের পথ দেখাচ্ছে। অথচ যুব দিগন্ত অনুষ্ঠানটি দেখলে মনে হতে পারে, বেকারত্ত থেকে মুক্তি পেতে গরু-ছাগল লালন-পালনই একমাত্র পথ।
একইসাথে এ কথাও উল্লেখ করা প্রয়োজন, কৃষি বিষয়ক আরো একটি অনুষ্ঠানও বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্র থেকে প্রচারিত হয়। এ্‌ও অনুষ্ঠানের ধরণও প্রায় একই। একই ধারণা নিয়ে দুটি অনুষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করা প্রয়োজন। যুব দিগন্ত অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন আমিনুল হক শাহীন আর কৃষি ও কৃষক অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন গৌতম চৌধুরী।

x