দূষণের প্রভাবে বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ছে

শুক্রবার , ২৩ আগস্ট, ২০১৯ at ৪:৩৪ পূর্বাহ্ণ
14

বায়ু দূষণে বিশ্বে প্রতি বছর প্রাণ হারায় ৭০ লাখ মানুষ। সবচেয়ে দূষিত শহর দিল্লি। মেগাসিটিগুলোর মধ্যে ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত মুম্বাই রয়েছে চার নাম্বারে। আর ঢাকার অবস্থান তৃতীয়। শুধু বায়ু দূষণ নয়, শব্দ দূষণ, পানি দূষণ, নদী দূষণ নানা সমস্যায় আক্রান্ত চট্টগ্রামসহ সারাদেশ। সারাদেশের সমৃদ্ধির প্রাণ কর্ণফুলী। কর্ণফুলী এখন দখল ও দূষণে বিপন্ন। ড্রেজিংয়ের নামে নদী ভরাট করে একদিকে গড়ে তোলা হয়েছে অবৈধ বসতি। অন্যদিকে শিল্প কারখানার বর্জ্য প্রতিনিয়ত দূষণ হচ্ছে দেশের প্রাণ প্রবাহ হিসেবে খ্যাত এ নদী। দখলে-দূষণে মৃতপ্রায় এ নদী রক্ষায় কার্যত কোন উদ্যোগ নেই। আইন বা প্রতিরোধের কোন কার্যকরী ব্যবস্থা না থাকায় বাংলাদেশ আজ দূষণেও বিশ্বের সকল দেশের শীর্ষে অবস্থান গ্রহণ করেছে। মাত্রাতিরিক্ত শব্দের অত্যাচারে জনজীবনে উঠেছে নাভিশ্বাস। নগরবাসীর হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, শিরপীড়া, অনিদ্রা, বদহজম ও পেপটিক আলসার আক্রান্ত হবার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত এ দূষণ। মাত্রাতিরিক্ত জনসংখ্যা বৃদ্ধি, দ্রুত ও অপরিকল্পিত নগরায়ণ, অপর্যাপ্ত আবর্জনা নিষ্কাশন ব্যবস্থা, কালো ধোয়া ও শব্দ দূষণ এর ফলে নগর জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দেশের পরিবেশ অধিদপ্তর কালে-ভদ্রে বিভিন্ন গাড়ির কালো ধোঁয়া পরীক্ষা করলেও শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে একেবারে নির্বাক স্থবির। বিষাক্ত কালো ধোঁয়ার কারণে শাস্তি হয় নি অদ্যবধি। শব্দ ও ধোঁয়া দূষণ মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছে গেছে দেশের বেশ কয়টি শহরে ও বন্দরে। এক মিটার দূরত্বে দু’জন মানুষের একটু উচ্চৈঃস্বরে কথাবার্তায় শব্দ উৎপন্ন হয় ৬০ ডেসিবেল। যদি কেউ ক্রমাগত ঘণ্টা ৮০ থেকে ৯০ ডেসিবেল শব্দের মধ্যে থাকে তাহলে ২৫ বছরের মধ্যে তিনি বধির হবেন। ৮শ ২৫ ডেসিবেল মাথায় কেউ বাস করলে তার চোখ ও মস্তিষ্ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নার্ভ সিস্টেম প্রতিক্রিয়ায় তিনি হৃদরোগ ও লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হতে পারেন। এদেশে শব্দ দূষণ নীরব অত্যাচার চালাচ্ছে। বাংলাদেশে বিভিন্ন দূষণ মারাত্মক সমস্যা হিসেবে দেখা দিলেও জনগণের ও কর্তৃপক্ষের কারো মাথা ব্যথা নেই। শব্দ ও ধোঁয়া দূষণ প্রতিরোধের যে আইন আছে তাও মেনে চলা হয় না।
– এম. এ. গফুর, বলুয়ার দীঘির দক্ষিণ-পশ্চিম পাড়, কোরবানীগঞ্জ, চট্টগ্রাম।

x