দু মাসের মধ্যে ইস্টার্ন রিফাইনারির নতুন ইউনিটের কাজ শুরু

ইআরএলের সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ ।। ধারণক্ষমতা হবে ৩ মিলিয়ন টন ।। সম্পন্ন হবে তিন বছরে

আজাদী প্রতিবেদন

মঙ্গলবার , ৮ মে, ২০১৮ at ৩:৩৬ পূর্বাহ্ণ
539

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু বলেছেন, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার দেশব্যাপী নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নতুন একটি রিফাইনারি করতে বলেছেন। যেটি বিগত দিনে অন্য সরকার চিন্তাও করেনি। আগামী দুই মাসের মধ্যে নতুন রিফাইনারির (ইস্টার্ন রিফাইনারি ইউনিটটু) কাজ শুরু হবে। এর ধারণক্ষমতা হবে ৩ মিলিয়ন টন। আমাদের বর্তমান ধারণক্ষমতা দেড় মিলিয়ন টন।

গতকাল দুপুরে নগরীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএল) সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখছিলেন। প্রসঙ্গত, ১৯৬৮ সালের ৭ মে থেকে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করে ইআরএল। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কর্মকর্তাকর্মচারীদের দক্ষতার কারণে ৫০ বছর পরও ইস্টার্ন রিফাইনারি ৯৫ শতাংশ সক্ষমতায় চলছেএটা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। বাংলাদেশের এখন যে গ্রোথ (প্রবৃদ্ধি) তাতে তেল ও পেট্রোলিয়ামের ব্যবহার আরও বাড়বে। নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি নিশ্চিত করার জন্য নতুন এই রিফাইনারি প্রচণ্ডভাবে দরকার। যেখানে বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। আমি দায়িত্ব নেয়ার পর দেখি চট্টগ্রামেই তেলের একমাত্র ডিপো। চট্টগ্রামে যদি কিছু হয় তাহলে পুরো বাংলাদেশে বিরাট সমস্যা হয়ে যাবে, এই চিন্তা থেকে পরে আমি খুলনাতে ডিপো করেছি।’ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের উন্নয়নের অগ্রযাত্রা ধরে রাখতে আগামী নির্বাচনে শেখ হাসিনার সরকারকে আবারও ক্ষমতায় আনতে হবে। না হলে এই সমস্ত সকল উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বন্ধ হয়ে যাবে।’

অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন প্রতিমন্ত্রী। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইআরএল এর নতুন ইউনিটের ডিজাইন শেষ হয়েছে। ইতোমধ্যে আমি নির্দেশ দিয়েছি, দুই মাসের মধ্যে নেগোশিয়েশন শেষ করে তারা যেন কাজ শুরু করতে পারে। নতুন ইউনিটের নির্মাণ কাজ শেষ হতে তিন বছর লাগবে। এর জন্য প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭ হাজার কোটি টাকা।’ তিনি বলেন, ‘আমরা ডিপ সি’তে পাইপ লাইন তৈরি করছি। সেই পাইপ লাইনে যে তেল আসবে এটা নতুন রিফাইনারিতে যেন ফিড ইন করতে পারে। ইআরএলের অধীনে পাইপলাইনের মাধ্যমে সাগরে বড় জাহাজ থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল খালাসের জন্য ‘ইনস্টলেশন অব সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং উইথ ডবল পাইপলাইন’ নামে সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকার আরেকটি প্রকল্পের কাজ চলছে।’ জ্বালানি খাতের সিস্টেম লসের বিষয়ে জানতে চাইলে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমাদের বছরে একশ থেকে দেড়শ মিলিয়ন ডলারের তেল পিলফারেজ হয়, আমি বলব না চুরি। ডিপ সি এবং ঢাকাচট্টগ্রাম পাইপ লাইন করছি, এগুলো সম্পন্ন হলে দেড়শ দুইশ মিলিয়ন ডলার আমরা সেভ করতে পারবো।’

তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, ‘ইতোমধ্যে এলএনজির এফএসআরইউ (ভাসমান স্টোরেজ ও পুনরায় গ্যাসে রূপান্তকরণ ইউনিট) এসেছে। আশা করছি, যদি সবকিছু ঠিক থাকে, আবহাওয়া যদি ভালো থাকে এ মাসের মধ্যে এলএনজি পাইপলাইনে দিতে পারব।’ দামের বিষয়ে তিনি বলেন, অবশ্যই ইন্ডাস্ট্রিয়াল এবং কর্মাশিয়াল খাতে কিছুটা প্রাইস অ্যাডজাস্টমেন্ট হবে।

সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিদ্যুৎ, খনিজ ও জ্বালানি সম্পদ বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. তাজুল ইসলাম বলেন, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি নিশ্চিত করার জন্য বর্তমান সরকারের অনেকগুলো প্রকল্প চলমান আছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দক্ষ নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জন্য রোল মডেল।

সভাপতির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ বলেন, আপনারা জানেন, সরকার দুটি রূপকল্প হাতে নিয়েছে। সেগুলো হচ্ছে২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করা। শুধু তাই নয়, আগামী ২১০০ সালে বাংলাদেশ কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে সেই উন্নয়নের নকশাও এঁকেছেন প্রধানমন্ত্রী। ৮২ বছর পরে আমরা অনেকেই বেঁচে থাকবো না। কিন্তু বর্তমানে দেশে উন্নয়নের যে ধারা চলছে, সেটি ২১০০ সাল পর্যন্ত টেনে নেয়ার মহাপরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি আমরা।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রাহমাতুল মুনিম, ইআরএল এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আকতারুল হক, বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত ম্যারিআনিক বরদিন।

x