দুস্থ আর্ত পীড়িতদের পাশে জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (কঃ) ট্রাস্ট

আবদুল হালিম আল মাসুদ

সোমবার , ১১ জুন, ২০১৮ at ১০:৩৬ পূর্বাহ্ণ
27

শাহানশাহ্‌ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (কঃ) ট্রাস্ট দারিদ্র্য বিমোচন প্রকল্প (যাকাত তহবিল) গঠন করে মানবসম্পদ উন্নয়নে বাস্তব ভিত্তিক আর্তমানবতার সেবা করে দরিদ্র সমাজের বন্ধুতে পরিণত হয়েছে। দারিদ্রতার সাথে যাদের বসবাস, অভিভাবকহীন হয়ে জীবনমান গঠনে যারা অসহায়, অনাকাঙিক্ষত বিপদ এসে যাদের ব্যবসা বাণিজ্যে ধস, প্রতিবন্ধী হয়ে সমাজের অভিশাপ শব্দটি যারা লালন করছে, মেধা থাকা সত্ত্বেও অর্থের অভাবে শিক্ষার সুযোগ থেকে যারা বঞ্চিত হচ্ছে, কিশোর থেকে বয়স বাড়ছে অথচ কোন কর্মই তাদের জীবন গঠনে সহযোগিতা পাচ্ছে না, কন্যাদায়গ্রস্ত পরিবারের বিষাদময় দুর্বিষহ যাদের জীবন, চিকিৎসার ব্যয় নির্বাহে হিমশিম যাদের মনমানসিকতা, তেমনি অসহায় জনসমাজের মানবিক দায়িত্ব নিয়ে শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (কঃ) ট্রাস্ট পরিচালিত দারিদ্র্য বিমোচন প্রকল্প যাকাত তহবিলের মাধ্যমে দুস্থ জনগোষ্ঠীদের জীবিকায়ন সমৃদ্ধ করতে বিশেষ উদ্যোগটি সামাজিক জীবনে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। ২০০৩ সাল থেকে এ তহবিলের মাধ্যমে এ পর্যন্ত সারাদেশে ২০৯জনকে ব্যবসায় পুঁজি, ১৭৭জনকে আর্থিক সহায়তা, ২৯জনকে ঋণ পরিশোধে সহায়তা, ৩২জনকে অটোরিকশা, ২৫ জনকে বিদেশ গমনে সহায়তা, ১৩জনকে মৎস্য খামার, ১৩জনকে সিএনজি চালিত ট্যাক্সি ক্রয়ে সহায়তা, ৩জনকে কম্পিউটার, ৩জনকে ইটভাঙার মেশিন, ৫৩জনকে গবাদি পশুর খামার, ৩৯জনকে কলের লাঙ্গল, ১০জনকে হাঁস মুরগীর খামার, ৪জনকে সেচ পাম্প, ১জনকে মাছ ধরার জালনৌকা ক্রয় সহায়তা, ৯৫জনকে শিক্ষায়, ৩৭৪জনকে বিবাহ সহায়তা, ৩০৫জনকে গৃহনির্মাণে, ১৭৩জনকে চিকিৎসা সহায়তা ও দেশের বিভিন্ন স্থানে দক্ষ নারী উন্নয়নে ১৩টি সেলাই প্রশিক্ষণ স্থাপন সহ মোট ১ হাজার ৫৭১ জনকে ৩,৯৭,৪৪,৯৩০ টাকা প্রদান করা হয়েছে এবং তা সারা বছর ধরে চলমান থাকে।

() চট্টগ্রাম বাঁশখালীর পশ্চিম নাছাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. রাসেল। বয়স ১৪। মা আছে সাথে একটি ছোট বোন। বাবা অন্যত্র বিয়ে করে সংসার পেতেছে। রাসেল ফেরি করে মা বোনের জীবিকা নির্বাহ করে। ফেরির জন্য বাঁশখালী থেকে চট্টগ্রাম শহরের যাওয়ার পথে চলন্ত গাড়ি থেকে পা পিছলে পড়ে গেলে পিছন থেকে অন্য গাড়ি এসে রাসেলের বাম পা পিস্ট করে চলে যায়। অবশেষে গাড়ির চাকায় পিস্ট হওয়া পা’টি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা চলাকালে কেটে ফেলা হয়। অভাগী মা সন্তানের চিকিৎসার অর্থ জোগাড় করতে দিগ্বিদিক ছুটাছুটি শুরু করেন। শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (কঃ) ট্রাস্ট পরিচালিত দারিদ্র্য বিমোচন প্রকল্প যাকাত তহবিলের পক্ষ থেকে ২৫ হাজার টাকা প্রদান করে রাসেলের যাবতীয় চিকিৎসা সেবা সহ পরবর্তী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়। অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে চলে যাওয়া রাসেল এখন সুস্থ হয়ে এলাকায় একটি পানের দোকান করে জীবিকা নির্বাহ করছে।

() সেলাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন : শাহানশাহ্‌ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (কঃ) ট্রাস্ট পরিচালিত দারিদ্র্য বিমোচন প্রকল্পের উদ্যোগে গ্রামীণ নারীদের উন্নয়নে চট্টগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কিশোরগঞ্জ জেলায় ১৩টি সেলাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এতে প্রতি মাসে দুই শতাধিক মহিলা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে মানবশক্তিতে রূপান্তর হচ্ছে।

() চন্দনাইশ বৈলতলী ইউনুস মার্কেট এলাকার মোহাম্মদ হাকিম আলীর পুত্র এখলাছ মিয়াকে দারিদ্র বিমোচন প্রকল্প যাকাত তহবিল থেকে একটি কলের লাঙ্গল কিনে দেয়া হয়।

() চন্দনাইশ কাঞ্চননগর এলাকার মৃত ইসহাক মিয়ার পুত্র ফরিদ আহমদ। একজন নির্মাণ শ্রমিক। তিনিও একজন এ প্রকল্প হতে সুবিধাভোগী। দারিদ্র্য বিমোচন প্রকল্প যাকাত তহবিলে আবেদন করে তিনি পেয়েছেন এক লক্ষ টাকা অনুদান। তা দিয়ে তিনি একটি ইট ভাঙার মেশিন ও ট্রাক্টর ক্রয় করেন। এটি দিয়ে তিনি এখন উপার্জন করছেন।

() এ ছাড়া চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল রোগী কল্যাণ সমিতিতে দুস্থ রোগীদের চিকিৎসা সহায়তায় এক লক্ষ টাকার নগদ চেক প্রদান করা হয়। চেক গ্রহণ কালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মো. জালাল উদ্দীন বলেন, হত দরিদ্র মানুষদের রিকশা প্রদান, কৃষি উপাদান হিসেবে ট্রাক্টর ও সেচ পাম্প প্রদান, দুস্থ নারীদের সেলাই মেশিন, বিদেশ গমনে সহায়তা, কর্জ পরিশোধে সহায়তা, পঙ্গুদের জন্য ট্রলি প্রদান, প্রতিবন্ধীদের শিক্ষা সহায়তা প্রদান, বিবাহ সহায়তা, দূরারোগ্য রোগীদের চিকিৎসা ব্যয়ে সহায়তা, এমনকি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসারত হত দরিদ্র রোগীদের ঔষধপত্র এবং চিকিৎসা সরঞ্জমাদি কেনার জন্য রোগীকল্যাণ সমিতিকে আর্থিক সাহায্য দিয়ে শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (.) ট্রাস্টের দারিদ্র্য বিমোচন প্রকল্প যাকাত তহবিল ব্যাপকভাবে কাজ করে চলেছে। তাদের ব্যাপক কর্মকাণ্ড অবশ্যই প্রশংসার দাবীদার এবং এ ধরণের সমাজ হিতৈষী ও মানবতাবাদী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের জন্য অতিব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে এককভাবে দারিদ্র্য বিমোচন করা সম্ভব নয়। এ জন্য আমাদের সমাজের ধনী ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনকে দারিদ্র্য বিমোচনে ব্যাপকভাবে এগিয়ে আসতে হবে। এ প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ড অন্যান্য সামাজিক প্রতিষ্ঠানের জন্য অনুসরণযোগ্য।

লেখক : সাধারণ সম্পাদক, দারিদ্র্য বিমোচন প্রকল্প (যাকাত তহবিল) পরিচালনা পর্ষদ।

x