দুষ্ট গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল ভাল

সামিনা ভূঁইয়া সুমি

শনিবার , ২০ জুলাই, ২০১৯ at ৭:৫৪ পূর্বাহ্ণ
61

বাংলাদেশে নারীদের আত্মহত্যার কারণের কোনো সমীক্ষা আমি পড়িনি, কিন্তু খবরে প্রতিনিয়ত যা শুনি তা থেকে মনে হয় বিচ্ছেদ প্রাপ্ত থেকে বিবাহিত, ধর্ষিত, নির্যাতিত মেয়েদের আত্মহত্যার সংখ্যাটাই বোধহয় অনেক বেশি। এর জন্য আইনের শাসনের ফাঁকফোকর যেমন আছে, প্রয়োগের ব্যর্থতা আছে তেমনি আমাদের সমাজে আরেক ভয়ঙ্কর শ্রেণির মানুষ আছে, যারা নারীদের চুলচেরা বিশ্লেষণে মশগুল থাকেন। করুণা হয় সেইসব নারীদের জন্য, যারা ‘হাউজ ওয়াইফ’ নামধারী একেকজন শিক্ষিত বুয়া! এরা সমস্ত শিক্ষা আর আত্মসম্মানবোধ বিসর্জন দিয়ে খুশিতে গদগদ হয়ে দিনশেষে শান্তির ঢেঁকুর তুলে অন্য নারীর হাঁড়ির সন্ধান নিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এই শ্রেণির পুরুষ ও নারীদের প্রধান কাজই হচ্ছে, নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো এবং এই মহৎ কাজটা তারা করে থাকেন খুব আনন্দের সাথে।
অন্যের হাঁড়ির খবর নিতে গিয়ে নিজেদের শাড়ি এবং লুঙ্গির গিঁট্টু যে কখন খুলে গেছে, সেই খবরটাও তারা বেমালুম ভুলে যায়। এদের ঘরে হাজারটা সমস্যা থাকলেও তারা অন্যের ব্যক্তিগত বিষয়ে নাক ডুবিয়ে দুর্গন্ধ খুঁজতে খুব ভালোবাসে। এই শ্রেণির মানুষের প্রধান কাজই হচ্ছে শকুনের মতো লোলুপ দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে থাকা। সেই তীক্ষ্ণ দৃষ্টি ইট, কাঠের দেয়াল ভেদ করে তাদের কাঙ্ক্ষিত কুরুচিপূর্ণ চিন্তার বীজ বপন করে। সম্ভব হলে আরো দুই জোড়া চোখ ধার করে নিয়ে আসে বাড়তি নজরদারির জন্য।
বাঙালির মনমানসিকতাটাই এখন এমন হয়ে গেছে যে, যুগে যুগে সীতাদেরই অগ্নিপরীক্ষা দিতে হবে তার সতীত্বের! কার ঘরে কে এলো, কে গেলো, কেন এলো, সেই খবর নেয়ার লোকের সংখ্যা অগণিত। কিন্তু দীর্ঘকাল, বছরের পর বছর কতোটা অক্লান্ত পরিশ্রম, কত বেলা অর্ধাহারে, অনাহারে দিন কাটায় কত কেউ, তার খোঁজ কেউ রাখেনা কখনো। অথচ যে পুরুষ সন্তানসম্ভবা স্ত্রী রেখে অন্য সম্পর্কে জড়ায়, স্ত্রী সন্তানের প্রতি সমস্ত দায়িত্ব ভুলে যায়, সমাজে তারাই সৎ! পুরুষদের কোনো কলঙ্ক হয় না। যত দোষ সব নারীর! এই সমাজের কিছু নোংরা মানুষ স্বেচ্ছায় আর অবলীলায় মেয়েদের দুশ্চরিত্রা আখ্যা দিয়ে তাদের গৃহবন্দী করে রাখার কাজটা করে আসছে খুব সুচতুরভাবে। প্রশ্ন জাগে, নারীরা কবে সমাজের এই নোংরা আর বিকৃত রুচির মানুষ নামধারী অমানুষগুলোর হাত থেকে রেহাই পাবে? কবে শুধুমাত্র মানুষে উত্তীর্ণ হবে?
এমন অনেক নারী দেখতে পাওয়া যায়, যারা বিবাহ বিচ্ছেদের পর সন্তান নিয়ে একা জীবনে বাঁচার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এবং তারা ভালোই আছেন। ভালো থাকার জন্য একজন নারীর প্রয়োজন আত্মবিশ্বাস, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং সচ্ছলতা। সাথে একজন যোগ্য পুরুষসঙ্গী জুটে গেলে তা উপরি পাওনা, আর না থাকলেও খুব একটা সমস্যা নেই, বরং দুষ্ট গরুর চেয়ে শূন্য গোয়ালই আধুনিক নারীর বেশী কাম্য।

x