দুর্বৃত্তায়ন রুখতেই হবে

এস এম সালাহ্‌উদ্দিন সামির

সোমবার , ৭ অক্টোবর, ২০১৯ at ৫:৫৭ পূর্বাহ্ণ
32

একদল মানুষকে উৎসবের সময়টায় রাতে জেগে থাকতে হয় মন্দিরকে হামলার হাত থেকে রক্ষা করার জন্যে! এরচেয়ে লজ্জার ব্যাপার আর কী হতে পারে? একটা মানুষও যতোদিন ধর্মীয় স্বাধীনতা ভোগ থেকে বঞ্চিত থাকবে, ততোদিন কি করে আমরা নিজের দেশকে সামপ্রদায়িক বিষবাষ্পমুক্ত বলে দাবী করবো? বাংলাদেশি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়ে গেছে। চারপাশে উৎসবমুখর একটা আমেজ। কিন্ত দেশের এমন অনেক জায়গা আছে, যেখানে হিন্দু ধর্মের লোকজন দিন কাটাচ্ছেন শঙ্কায়। রাত হলেই শঙ্কাটা আতঙ্কে রূপ নেয়। নানা জায়গায় সনাতন ধর্মাবলম্বী যুবক আর প্রবীণেরা মিলে রাতজেগে পাহারা দিচ্ছেন পূজামণ্ডপ, যাতে ‘অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্ত’রা এসে মন্দিরে হামলা চালাতে না পারে, ভাঙচুর করতে না পারে দুর্গা প্রতিমা। সত্যি বলতে কি আমাদের দেশে এখন পূজা আসে প্রতিমা ভাংচুরের খবরে। ঢাকের শব্দে নয়, মন্দিরে হামলার সংবাদ পেলেই বুঝে যাই দুর্গাপূজার মৌসুম চলে এসেছে। আমরা অসামপ্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখি, নেতারা হাতে মাইক পেলে আবেগ নিয়ে অসামপ্রদায়িক বাংলাদেশ গড়বার কথা বলেন, সেই অসামপ্রদায়িক বাংলাদেশ হবে কিভাবে? যখন এদেশে প্রতিবছর মন্দির ভাঙ্গার উৎসব হয়? প্রতিমা রক্ষার জন্যে কিছু মানুষ যখন রাত জেগে পাহারা দেয়, তখন কীভাবে আমরা শান্তিতে ঘুমিয়ে থাকি, বলতে পারেন কি? অনেক তো হলো! চলুন না আমরা এ নোংরা কাজ থেকে বেরিয়ে আসি, মানুষ হিসেবে আমরা তো অনেক সুন্দর মন-মানসিকতা নিয়েই প্রতিদিন নিজেদের একটু আধটু করে তৈরি করছি। আর ঠিক সেখানে আমরা এমন কুরুচিপূর্ণ সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসি প্রত্যেকে যে যার ধর্ম অনুযায়ী শান্তিতে ধর্ম কর্ম করুক। সুখী সুন্দর সমৃদ্ধ অসামপ্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার জন্য সে কবে থেকে আমরা হা পিত্যেশ করে বসে আছি, পথটা আমাদেরই তৈরি করতে হবে তবে তা এখনই উপযুক্ত সময়। আর আমরা সকল সমপ্রদায় আজ দৃঢ় চিত্তে প্রতিজ্ঞা করবো এ মুহূর্ত থেকে এবার আর কোন খারাপ সংবাদ হতে দেবো না পত্রিকায়। অন্তত আমার প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশে।

x