দুর্নীতি সমাচার

সত্যব্রত বড়ুয়া

শুক্রবার , ৩ মে, ২০১৯ at ৬:৪১ পূর্বাহ্ণ
29

একটি সাংস্কৃতিক সংগঠনের সভায় এসে দেখতে পেলাম আয়োজকরা প্রধান অতিথি আসছেন না বলে সভা শুরু করতে পারছেনা। আমি আগেই জানতাম প্রধান অতিথি মহোদয় সঠিক সময়ে সভায় উপস্থিত হবেন না, কারণ তিনি প্রধান অতিথি। প্রধান অতিথির বৈশিষ্ট্যই হলো দেরীতে উপস্থিত হওয়া (ব্যতিক্রমও অবশ্য রয়েছে)। প্রধান অতিথি আমার পরিচিত ব্যক্তি। সভা শেষে তাঁর সাথে দেখা করে বললাম, আজকে আপনি দুর্নীতি করেছেন। আমার কথা শুনে তিনি অবাক হয়ে গেলেন। আমি তাঁকে বললাম দুর্নীতির অর্থ নীতিহীনতা। আপনি দেরীতে সভায় উপস্থিত হয়ে আজকে নীতিহীনতার পরিচয় দিলেন। এটা দুর্নীতি। আমি আপনাকে এই অপ্রিয় সত্য কথাটা বলে অসদাচরণ করলাম। অসদাচরণ করাটাওতো দুর্নীতি। ইচ্ছে করলে এ জন্যে আমাদের দু’জনকে দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তি বলা যায়। কিন্তু আমাদের কেও দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তি বলবে না। আমি আগে ঘুষখোরদের গালাগালি করতাম। এখন করিনা। কারণ সহজে কাজ উদ্ধারের জন্যে আমি তাদের ঘুষ দেই। ঘুষ না দিলে বার বার অফিসে ধরনা দিতে হবে। ঘুষ না দিয়ে আমার উপায় নেই বলেই আমাকে ঘুষ দিতে হয়। ভেবে দেখলাম দু’জনেই আমরা দুর্নীতি করছি। আমি আমার স্ত্রীকে সেদিন বললাম, তুমি গ্যাসের চুলোর আগুন না নিভিয়ে দুর্নীতি করছ। সে রেগে বললো, বই পড়ে পড়ে তোমার মাথা খারাপ হয়ে গেছে। তোমাকে পাবনার হেমায়েতপুরে মানসিক চিকিৎসার জন্যে পাঠানো দরকার। পাগলা গারদে দু’দিন থাকলে পাগলামি চলে যাবে। রাস্তার ভিখেরি ভিক্ষে চাওয়ামাত্র আমি সাধারণত এক টাকা দিয়ে দেই। পাড়ার মানুষ বলে আমার মন নাকি খুব নরম। কেউ কেউ বলে, ওনার মতো দয়ালু ব্যক্তি আর হয় না। আমি আসলে ভিখেরিকে ভিক্ষে দেই বিরক্ত হয়ে। এক টাকা দিয়ে আপদ বিদেয় করি। এটা প্রতারণা। প্রতারণা করাটাও দুর্নীতি। আপনি লক্ষ্য করবেন একজন দক্ষ রাজনীতিবিদ যখন জনতার সামনে হাজির হন তখন তাঁর মুখে হাসি থাকে। সামনে যাকে দেখেন তার সাথে কোলাকুলি করেন। কোনো কোনো সময় দুঃখী মানুষকে দেখে চোখের জলও পড়ে। এসব চিত্র সাধারণত দেখা যায় নির্বাচনের আগে। ভোট দিয়ে তাকে বিজয়ী করলেন। এর পর আপনি যদি তাঁর সাথে দেখা করতে যান তখন দেখা করার অনুমতিই পাবেন না। বুঝতে পারলেন দক্ষ রাজনীতিবিদ ব্যক্তিটির মুখে হাসি আর চোখের জল পড়া হলো অভিনয়। এটা প্রতারণা। মানে দুর্নীতি। আমি সেদিন এক অফিসের বড় কর্মকর্তার সাথে বিশেষ প্রয়োজনে দেখা করতে গিয়েছিলাম। দেখলাম তিনি অফিসের টেলিফোনে তাঁর স্ত্রীর সাথে ব্যক্তিগত ব্যাপারে কথা বলছেন। প্রায় আধঘন্টা কথা বলবার পর আমাকে বললেন, আজকে কাজের চাপ বেশি, আজ আর হবে না। পরে দেখা করতে বললেন। অফিসের টেলিফোন ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা যায় না। এটা দুর্নীতি। আমি আপনি পদচারী সেতু দিয়ে হাঁটিনা। এই না হাঁটাটা দুর্নীতি। দুর্নীতি করছি জেব্রা ক্রসিং দিয়ে না হেঁটেও। আমরা যে নর্দমায় পলিথিন ব্যাগ ফেলি এটাও দুর্নীতি। সভার আলোচক হয়ে ১০ মিনিটের জায়গায় ১ ঘন্টা বক্তৃতা দেওয়াও দুর্নীতি। আমরা যারা ডিসি হিলের পাশে বাস করছি তারা এখন কানে কম শুনছি। এটা আমাদের হয়েছে কানফাটা মাইকের আওয়াজ শুনে শুনে। এই উঁচু শব্দে মাইক বাজানোও দুর্নীতি। আমি টেলিভিশনের খবর শুনছিলাম। ঘর ঝাড়ু দেওয়ার সময় কাজের বুয়াও খবর শুনছিল। সে আমাকে বললো, চাচা খবরে যে দুর্নীতি দমনের কথা শুনলাম এই দুর্নীতি কথাটার অর্থ কি। আমি বললাম, তুমি যে ঘর ঝাড়ু না দিয়ে আমার সাথে গল্প করছ এটা হলো দুর্নীতি। বুয়া বললো কিছুই বুঝতে পারলাম না। আমিও বুঝি কী?

x