দুর্গাপূজা থেকে দুর্গোৎসব

করবী চৌধুরী

মঙ্গলবার , ৮ অক্টোবর, ২০১৯ at ৬:০৯ পূর্বাহ্ণ
68

‘পূজা’ শব্দটা এসেছে ‘পূজ’ ধাতু থেকে। এই ‘পূজ’ ধাতুর অর্থ হলো ‘বর্ধনশীলতা’। অর্থাৎ পূজা হলো এমন একটা আচার যা করলে জীবনে বর্ধন বা উন্নয়ন হয়। মানুষ তার জড়ভাব থেকে ক্রমশ গমন করে এক উজ্জ্বল আলোকবর্তিকার দিকে।
এবার আসি দুর্গাপূজা প্রসঙ্গে। শাস্ত্রমতে মূলাধারের চতুর্দল পদ্মে অধিষ্ঠান করছেন দেবী মহামায়া দুর্গা। দেবী দুর্গার সাধনায় সিদ্ধ হলে মানুষ ত্রিতাপের জ্বালা থেকে মুক্তি পায়। তার মানে, এই পূজা হলো বন্ধনমুক্তির পূজা। দুর্গাপূজা করলে মনের সংকীর্ণতা থেকে মুক্তি ঘটে মানুষের। মা দুর্গা বিনাশ করেন সকল অমঙ্গলের। খেয়াল করলে দেখা যাবে, দুর্গাদেবীর দশ হাতের মধ্যে একটি হাত আশীর্বাদের জন্য তোলা। বাকী নয় হাতে আছে নয়টি প্রহরণ, যেগুলোর কাজ হলো সমাজের সকল আসুরিক শক্তির বিনাশ করা। পূজার সময় হিসেবে বেছে নেয়া হয়েছে রামচন্দ্রের অকালবোধনের শরৎকালকে। শরতের অসাধারণ আবহাওয়া পূজাকে করে তোলে জনপ্রিয়। দুর্গাপূজা আগে ছিল সম্ভ্রান্তদের বাড়ির পূজা। একটা সময়ে জমিদারবাড়ি, রাজবাড়ি এবং সম্পন্ন গৃহস্থ বাড়ির আঙিনা থেকে বেরিয়ে এসে পরবর্তীকালে সাধারণ মানুষের কাছে এই পূজার জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে।ফলে প্রচলন ঘটে বারোয়ারি পূজার, এবং এভাবেই দুর্গাপূজা হয়ে ওঠে দুর্গোৎসব!
আজকের অবক্ষয়ী সমাজের অনেক খারাপ জিনিষের মধ্যে একটা ভালো জিনিষ হলো আমাদের দেশে সকল ধর্মের মানুষই কিন্ত এই পূজার আনন্দকে উপভোগ করে। দুর্গাপূজাতে ধর্মের প্রাধান্য যতটা না আছে তার চেয়ে অনেক বেশি করে প্রাধান্য পেয়েছে উৎসবের আমেজ। ঈদের আনন্দের মতই সকল ধর্মের মানুষ মেতে ওঠে এই আনন্দে। ‘ধর্ম যার যার উৎসব সবার’। এই নীতিটাতে সবাই বিশ্বাস করতে চায় এখন সবাই। ‘উৎসব’ শব্দটির অর্থ হলো ‘উৎস’ অভিমুখে গমন করা। অর্থাৎ দুর্গাপূজার মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে আমাদের অন্তরের সকলরকম কুসংস্কার, নীচতা, সংকীর্ণতা ইত্যাদিকে সমূলে বিনাশ করা- যার মনে হয় আমরা কিছুটা হলেও বিনাশ করতে পেরেছি। তা না হলে দুর্গাপূজা কখনোই দুর্গোৎসব হয়ে উঠতে পারতো না। সবাইকে শুভেচ্ছা।

x