দুর্গাপূজায় বিশেষ সতর্কতা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর

আজাদী প্রতিবেদন

শুক্রবার , ১২ অক্টোবর, ২০১৮ at ৮:০৭ পূর্বাহ্ণ
15

চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) খন্দকার গোলাম ফারুক বলেছেন, এবারের দুর্গাপূজা নিয়ে স্পেসিফিক (সুনির্দিষ্ট) কোন থ্রেট (হুমকি) নেই। তবে নির্বাচনী বছর হওয়ায়, কেউ হয়ত সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। সেজন্য আমরাও বিশেষভাবে সতর্ক আছি। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে দুর্গাপূজায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে চট্টগ্রাম বিভাগের ১১ জেলার পুলিশ সুপার ও পূজা উদযাপন পরিষদের প্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের কাছে এমন মন্তব্য করেন ডিআইজি। ডিআইজি আরও বলেন, নির্বাচনের বছরে দুষ্কৃতকারী কিংবা কোন অপশক্তি যাতে কোন ধরনের অঘটন দুর্গাপূজায় ঘটিয়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নষ্ট করতে না পারে, সেজন্য আমাদের সব ধরনের পদক্ষেপ আছে। আশা করছি; কোন অপশক্তি ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের সুযোগ পাবে না। ডিআইজি জানান, চট্টগ্রাম বিভাগে এবার সারাদেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্গাপূজা হচ্ছে। চট্টগ্রাম রেঞ্জে দুই হাজার ৭৬০টির মতো পূজামণ্ডপ আছে। এই মণ্ডপগুলোতে তিন ক্যাটাগরিতে ভাগ করে তিনস্তরের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনটি পূজামণ্ডপের জন্য একটি করে মোবাইল টিম থাকবে। তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, ধর্ম যার যার উৎসব সবার। পুলিশ এবং শুধু হিন্দু সমপ্রদায়ের লোকজন নয়, বাঙালি জাতি আমরা একে অপরের সঙ্গে মিলে একসঙ্গে উৎসবে মেতে উঠব। কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা আমরা ঘটতে দেব না।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে গুজব ছড়িয়ে দুর্গাপূজায় নাশকতা করতে পারে বলে আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) নুরে আলম মিনা। সভা শেষে এসপি বলেন, ‘সুযোগসন্ধানী মহল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব কিংবা অশ্লীল ছবি ছড়িয়ে দিতে পারে। এটাকে পুঁজি করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। এটা ঠেকাতে আমাদের পদক্ষেপ আছে। একজন এডিশনাল পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে কমিটি করেছি। দু’জন আইটি এক্সপার্ট নিয়োগ দিয়েছি। তারা সন্দেহভাজন ফেসবুক আইডিগুলো তদারক করছেন।’
এসপি জানান, চট্টগ্রামে এক হাজার ৫১০টি মণ্ডপে পূজা হচ্ছে। এর বাইরে ৩শ’ টির মতো ঘরোয়া পূজার আয়োজন আছে। তিনি বলেন, প্রতিটি মণ্ডপে আনসার সদস্য থাকবে। কিছু কিছু মণ্ডপে একজন কিংবা দু’জন করে পুলিশ সদস্যও থাকবেন। তবে বড় মণ্ডপে যেখানে হাজার হাজার লোক সমাগম হবে, সেখানে বিকেল থেকে ট্রাফিক পুলিশের সদস্য মোতায়েন থাকবে। এছাড়া সাদা পোশাকে পুলিশের পাশাপাশি সার্বক্ষণিক ফোর্সও থাকবে বলে জানান এসপি। নূরে আলম মিনা আরও বলেন, যাদের সামর্থ্য আছে, তাদের মণ্ডপে সিসিটিভি লাগানোর কথা বলেছি। জেনারেটরের মাধ্যমে বিকল্প বিদ্যুতের ব্যবস্থা রাখার জন্য বলা হয়েছে। নগরীতে দুর্গাপূজায় পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সিএমপি কমিশনার মো.মাহাবুবর রহমান। তিনি জানিয়েছেন, এবার নগরীতে ২৫৫টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা হবে। এসব মণ্ডপের নিরাপত্তায় পুলিশ, র‌্যাব, আনসার মোতায়েন থাকবে। এছাড়া গুজব ছড়ানো ঠেকাতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন সিএমপি কমিশনার।
প্রসঙ্গত, আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে শুরু হচ্ছে হিন্দু সমপ্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা।
চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি (অপারেশন এন্ড ক্রাইম) মো. আবুল ফয়েজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক এ মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত ডিআইজি (প্রশাসন ও ফাইন্যান্স) এস.এম রোকন উদ্দিন, জেলা পুলিশ সুপার নুরেআলম মিনা (চট্টগ্রাম), জিহাদুল কবির (চাঁদপুর), ইলিয়াছ শরীফ (নোয়াখালী), মো. আনোয়ার হোসেন খান (ব্রাহ্মণবাড়িয়া), আলমগীর কবির (রাঙামাটি), মো. জাকির হোসেন মজুমদার (বান্দরবান), আ.স.ম মাহতাব উদ্দিন (লক্ষ্মীপুর), এস.এম জাহাঙ্গীর আলম সরকার (ফেনী), মো. আহমার উজজামান (খাগড়াছড়ি), সৈয়দ নুরুল ইসলাম (কুমিল্লা), এবিএম মাসুদ হোসেন (কক্সবাজার), আর.আর.এফ কমান্ড্যান্ট (এসপি) এম.এ মাসুদ, চট্টগ্রাম জেলা পূজা কমিটির সভাপতি শ্যামল কুমার পালিত, সাধারণ সম্পাদক অসীম কুমার দেব, কুমিল্লা জেলা পূজা কমিটির সভাপতি তপন বকশী, ফেনী জেলা পূজা কমিটির সভাপতি রাজীব দত্ত, সাধারণ সম্পাদক শুসেন চন্দ্র শীল, কক্সবাজার জেলা পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক বাবুল শর্মা, লক্ষ্মীপুর জেলা পূজা কমিটির সভাপতি শংকর মজুমদার, সাধারণ সম্পাদক স্বপন চন্দ্র নাগ, খাগড়াছড়ি পার্বত্য পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক তরুণ কুমার ভট্টাচার্য্য, চাঁদপুর জেলা পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক তমাল কুমার ঘোষ, সাধারণ সম্পাদক গোপাল চন্দ্র সাহা, নোয়াখালী জেলা পূজা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক তপন ঘোষ, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পূজা কমিটির সভাপতি অমর কুমার দে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক পরিতোষ রায়, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পূজা কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি শিমুল ভৌমিক, কুমিল্লা মহানগর পূজা কমিটির সম্পাদক অচিন্ত্য দাশ টিটু প্রমুখ। সভায় বিভিন্ন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, থানার অফিসার ইনচার্জ, আর.আর.এফ, নৌ, টুরিস্ট, শিল্প, পুলিশ, ট্রাফিক পুলিশ, এপিবিএন ও পিবিআইসহ বিভিন্ন ইউনিটের ইনচার্জগণ ও পূজা কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। শেষে পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের মাসিক অপরাধ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ভালো কাজের জন্য কয়েকটি ক্যাটাগরিতে পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন রেঞ্জ ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক। সভায় রেঞ্জের শ্রেষ্ঠ কমিউনিটি পুলিশিং ইউনিটকেও পুরস্কৃত করা হয়।

x