দুবাই টেস্টে ড্র করেও জয়ের স্বাদ অস্ট্রেলিয়ার

ক্রীড়া প্রতিবেদক

শুক্রবার , ১২ অক্টোবর, ২০১৮ at ৭:৪৭ পূর্বাহ্ণ
3

টেস্ট ক্রিকেট মানে ঘুম পাড়ানি মাসিপিসির গান। এমন প্রবাদ দীর্ঘ দিনের। কিন্তু টেস্ট ক্রিকেট মানে এখন আর ঘুম পাড়ানি মাসি পিসির গান নয়। এখন টেস্ট ক্রিকেটও উত্তেজনা ছড়ায়। গতকাল যেমন শ্বাসরূদ্ধকর এক অবস্থার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে পাকিস্তান এবং অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার দুবাই টেস্ট। যেখানে ড্র করেও জয়ের সমান স্বাদ পেল অস্ট্রেলিয়া। পাকিস্তানের মুখের গ্রাস কেড়ে নেওয়ার মত জয়টা কেড়ে নিল অস্ট্রেলিয়া। বলা যায় উসমান খাজা আর টিম পেইন মিলে পাকিস্তানকে জয় বঞ্চিত করেছে। শেষ দিনের শেষ বল পর্যন্ত উত্তেজনা ছড়িয়ে শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ড্র করে অস্ট্রেলিয়া। আর এই ড্রয়ের স্বাদ যেন তাদের কাছে জয়ের চাইতেও বেশি। শেষ দিনে পাকিস্তানের জয়ের জন্য দরকার ছিলো ৭টি উইকেট। ম্যাচ বাঁচাতে অস্ট্রেলিয়ার খেলতে হতো পুরো ৯০ ওভার। দুবাইয়ের অতীত ইতিহাস কিংবা উইকেটের বর্তমান অবস্থায় সফরকারী অস্ট্রেলিয়ার জন্য কাজটি ছিলো মোটামুটি পাহাড় ডিঙানোর সমান।
সেই কঠিন কাজটিই অনায়াসে করে ফেললেন ট্রাভিস হেড, উসমান খাজা ও টিম পেইনরা। সারা দিনে নিজেদের উইকেট বাঁচিয়ে খেলতে হতো পুরো ৪৫০টি বল। পাকিস্তানের বৈচিত্রপূর্ণ বোলিং অ্যাটাকের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে বাজি ধরার লোক ছিলো খুব অল্পই। কিন্তু বাজির দান উল্টে জয়ের সমানই এক ড্র পেলো অস্ট্রেলিয়া। দিনের একেবারে শেষভাগে টিম পেইনের সাথে মাটি কামড়ে বল গুলো খেলে গেছেন নাথান লিয়ন। আর তাতেই কপাল পুড়ে পাকিস্তানের। নানা চেষ্টা করেও পাকিস্তানী বোলাররা আউট করতে পারেনি এই দুই অসি ব্যাটসম্যানকে।
চতুর্থ দিনে মোহাম্মদ আব্বাসের ১২ বলের ঝড় সামলে ৫০ ওভার ব্যাট করে ৩ উইকেট হারিয়ে ১৩৬ রান করেছিলো অস্ট্রেলিয়া। জয়ের জন্য ৭ উইকেট হাতে নিয়ে দরকার ছিলো ৩২৬ রান। তবে শেষ দিনে অস্ট্রেলিয়ার ভাবনায় জয়ের বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিলো ড্র’টাই। নিজেদের এ কাজে সফল হয়েছেন খাজা, পেইন, হেডরা। পঞ্চম দিন প্রথম সেশনে কোনো উইকেট হারায়নি অস্ট্রেলিয়া। দিনের প্রথমভাগটা নির্বিঘ্নেই পার করেন আগের দিনের দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান উসমান খাজা ও ট্রেভিস হেড। তবে লাঞ্চের পরপরই পার্টটাইম স্পিনার মোহাম্মদ হাফিজের বোলিংয়ে লেগ বিফোরের ফাঁদে ধরা পড়েন অভিষিক্ত হেড। আউট হওয়ার আগে ১৭৫ বল খেলে ৭২ রান করেন তিনি। হেড রান পেলেও ব্যর্থ হন আরেক অভিষিক্ত মারনাস লাবুচানে। পরে অধিনায়ক টিম পেইনকে নিয়ে লড়াই চালিয়ে যান খাজা। তুলে নেন ক্যারিয়ারের সপ্তম টেস্ট সেঞ্চুরি। পেইন ও খাজা মিলে ষষ্ঠ উইকেটে ২১৮ বল খেলে গড়েন ৭৯ রানের জুটি।
দিন শেষের ১৫ ওভার বাকি থাকতে দৃশ্যপটে আবির্ভূত হন পাকিস্তানি লেগস্পিনার ইয়াসির শাহ। দুই ওভারের মধ্যে তুলে নেন তিন উইকেট। ৩০২ বলের ম্যারাথন ইনিংসে ১৪১ রান করে ফেরেন উসমান খাজা। দিন শেষের তখনো বাকি প্রায় ১৩ ওভার। কিন্তু হাতে উইকেট মাত্র ২টি। তখন অফস্পিনার নাথান লিওনকে নিয়ে আবারও মাটি কামড়ে ব্যাটিং শুরু করেন অধিনায়ক পেইন। কাটিয়ে দেন বাকি ওভারগুলো। তুলে নেন ক্যারিয়ারের পঞ্চম হাফসেঞ্চুরি। শেষ পর্যন্ত ২১৯ বল খেলে ৬১ রানে অপরাজিত থাকেন অসি অধিনায়ক।
১৪০তম ওভারের পঞ্চম বলটি পেইন ঠেকিয়ে দিতেই উল্লাসে মেতে ওঠে অস্ট্রেলিয়ার ড্রেসিংরুম। কারণ দিনের বল বাকি তখন মাত্র আর একটি। যা দিয়ে দুই উইকেট তুলে নেওয়া সম্ভব নয় পাকিস্তানের। আর সে একবল বাকি থাকতেই ম্যাচটির সমাপ্তি টানেন আম্পায়াররা। অসিদের উল্লাসটা এমন ছিল যেনো ম্যাচটি জিতেই নিয়েছে তারা। ২ উইকেট বাকি থাকায় ৯০ ওভার পূরণ হওয়ার এক বল আগেই ড্র মেনে নেয় পাকিস্তান। প্রায় সাড়ে ছয় ঘণ্টার ম্যারাথন ইনিংসে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে ম্যাচ সেরার পুরস্কারটা জিতেছেন উসমান খাজা।

x