দুবাইয়ে কন্ডিশন দেখেই হবে বাংলাদেশের একাদশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক

শুক্রবার , ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ at ৩:৫৭ পূর্বাহ্ণ
6

দুবাইয়ে এখন বেশ গরম। তবে একেবারে অসহনীয় নয়। তাপমাত্রাটা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে ঝাঁঝালো রোদ। আর উষ্ণতাও খুব বেশি। এই তাপমাত্রা এশিয়া কাপে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচের দিনও থাকবে। যদিও দুবাইতে খেলা গুলো হবে দিবারাত্রিতে। তারপরও বিকেলে কড়া রোদ থাকে। আর্দ্রতাও থাকবে বেশি। কাজেই ধরেই নেয়া যায়, দুবাইয়ের অসহনীয় উত্তাপ ও আর্দ্রতার কারণে ক্রিকেটারদের বাড়তি ঘাম ঝরাতে হবে। আবার দিনে প্রচণ্ড গরম পড়লেও সন্ধ্যার পরে নাকি দুবাইয়ের আবহাওয়া খানিক বদলে যায়। দুবাই স্টেডিয়ামের কিউরেটর টবি লামসডেনের কথায় তেমনই আভাস পাওয়া গেছে।

এবারের এশিয়া কাপে আবহাওয়া একটা বড় প্রভাব ফেলতে পারে। সন্ধ্যার পরে রোদ না থাকলে উষ্ণআর্দ্র আবহাওয়া বজায় থাকবে। পাশাপাশি আবার শিশিরও পড়ে। ফলে উইকেটের চরিত্র ও আচরণে ভিন্নতা আসতে পারে। অর্থাৎ একেক সেশনে উইকেট একেক রকম আচরণ করতে পারে। বিকেলে কড়া রোদের মধ্যে পেসাররা বাড়তি সুবিধা পাবেন। আর সন্ধ্যার পর শিশির পড়লে খুব স্বাভাবিকভাবে সীম ম্যুভমেন্ট হবে। আবার স্পিনারদের বল গ্রিপ করতেও কষ্ট হতে পারে।

শিশিরের কারণে বল ভিজে যাবে। ফলে স্পিনারদের বল গ্রিপিংয়ে সমস্যা হবে। আর সে কারণেই কিনা বাংলাদেশের একাদশ সাজাতে, লক্ষ্য, পরিকল্পনা আর কৌশল নির্ধারণে দুবাইয়ের আবহাওয়ার বদলে যাওয়া রূপের কথাও মাথায় রাখতে হবে বলে মনে করছেন টিম ম্যানেজম্যান্ট। শিশির ভেজা উইকেটে পরের সেশনে ফিল্ডিং করার সময় অনেক বেগ পেতে হবে। স্পিনার খেলানোটা বাড়তি একটা ঝুঁকি। তাছাড়া বল স্কিড করার সম্ভাবনা যেহেতু বেশি। তাই বাড়তি পেসার নিয়ে নামাই অধিক যুক্তিযুক্ত। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ একাদশে বাড়তি স্পিনার খেলানোর সম্ভাবনা কমে যেতে পারে। সাকিব আল হাসানের সাথে বড়জোর একজন স্পিনার দেখা যেতে পারে। মানে বাড়তি স্পিনার হিসেবে মেহেদী হাসান মিরাজ আর বাঁহাতি নাজমুল হোসেন অপু, দুজনার খেলার সম্ভাবনা অনেক কমে যাবে। শিশির পড়লে তিন স্পিনার নিয়ে খেলার সম্ভাবনা থাকবেনা । তখন একজন বাড়তি পেসার দেখা যেতে পারে।

আবহাওয়া, উইকেট আর আউটফিল্ড কন্ডিশন বিবেচনায় আনা হলেও চার পেসার নিয়ে মাঠে নামার সম্ভাবনা নেই বাংলাদেশের। তাতে একজন ব্যাটসম্যান কম নিয়ে খেলতে হবে। ব্যাটিং শক্তি যাবে কমে। সেক্ষেত্রে তিন পেসার নিয়েই নামতে পারে বাংলাদেশ। স্পেশালিষ্ট স্পিনার কোটায় সাকিব আল হাসানের সাথে অফস্পিনার মিরাজ, বাঁহাতি নাজমুল অপুর একজন আর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ এবং মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকে দিয়ে কাজ চালানোর সম্ভাবনা বেশি। আবার মোহাম্মদ মিঠুনকে মিডল অর্ডার পজিশনে নিয়মিত খেলানো হতে পারে। তার মানে তামিমলিটন, সাকিব, মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহর পর ছয় নম্বরে খেলবেন মিঠুন। শিশির পড়লে সাত নম্বরে মোসাদ্দেকের বদলে আরিফুলও ঢুকে যেতে পারেন। কারণ একদম নিয়মিত না হলেও আরিফুলও ঘরোয়া ক্রিকেটে সীম বোলার হিসেবে পরিচিত। তার সাথে হয়তো আর একজন স্পিনার (মিরাজঅপুর একজন) আর মাশরাফি, মোস্তাফিজের সাথে ও রুবেলআবু হায়দার রনির যে কোনো তিন পেসার খেলবেন। তবে যেই কম্বিনেশন নিয়ে ভাবা হোকনা কেন সবদিক বিবেচনা করেই মাঠে নামতে চায় বাংলাদেশ। কারন শ্রীলংকার বিপক্ষে যে জয় দিয়ে এশিয়া কাপ শুরু করতে চায় বাংলাদেশ।

x