দুই সড়কের কিছু অংশ বুঝে নিতে চসিককে সিডিএর চিঠি

এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে : এলইডি পোল স্থানান্তরে কর্পোরেশন পেল ৭২ লাখ টাকা

মোরশেদ তালুকদার

বৃহস্পতিবার , ১৪ মার্চ, ২০১৯ at ৬:৪০ পূর্বাহ্ণ
930

রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সিডিএ এভিনিউ সড়কের বহদ্দারহাট থেকে লালখান বাজার অংশ এবং বায়েজিদ বোস্তামী রোডের দুই নম্বর গেট থেকে বেবী সুপার মার্কেট পর্যন্ত অংশ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে বুঝিয়ে দিতে চায় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে গতকাল মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীনকে দাপ্তরিক পত্র দিয়েছেন সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম। তবে ফ্লাইওভার ও ফ্লাইওভারের নীচে চলমান সৌন্দর্যবর্ধন কাজ সিটি কর্পোরেশনের কাছে হস্তান্তর করবে না বলে মেয়রকে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ফ্লাইওভার নির্মাণ করায় সড়ক দুটির ৪ দশমিক ৭০ কিলোমিটার অংশ বর্তমানে সিডিএ’র তত্ত্বাবধানে রয়েছে।

এদিকে বাস্তবায়নাধীন ‘লালখান বাজার থেকে শাহ আমানত বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ’ প্রকল্পের আওতায় সিটি কর্পোরেশনকে ৭২ লাখ চার হাজার ৫৬৬ টাকা পরিশোধ করেছে সিডিএ। প্রকল্পটির অ্যালাইনমেন্টের মধ্যে রাস্তার ডিভাইডারে স্থিত স্ট্রিট লাইটসমূহ অপসারণ ও পুন:স্থাপনের জন্য সিটি কর্পোরেশনের চাহিদা অনুযায়ী এ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। গতকাল নগর ভবনে ক্ষতিপূরণের এ টাকার চেক তুলে দেন ‘লালখান বাজার থেকে শাহ আমানত বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ’ প্রকল্প পরিচালক মো. মাহফুজুর রহমান। এসময় উপস্থিত ছিলেন সিডিএ’র বোর্ড মেম্বার ও চসিকের কাউন্সিলর হাসান মুরাদ বিপ্লব ও চসিকের প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্নেল মহিউদ্দীন আহমেদ।
চসিকের প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্নেল মহিউদ্দীন আহমেদ দৈনিক আজাদীকে বলেন, এলইডি প্রকল্পের আওতায় আমরা পোল লাগিয়েছি। আমাদের পোলগুলো আছে মিড আইল্যান্ডে। এখন মিড আইল্যান্ডে এলিভেটেড এঙপ্রেসওয়ের পিলার বসবে। সেজন্য পোলগুলো সরাতে হবে এবং নতুন করে বসাতে হবে। স্থানান্তর করার জন্যই সিডিএ আমাদেরকে টাকা পরিশোধ করেছে।
এদিকে সিডিএ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লালখান বাজার থেকে শাহ আমানত বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এঙপ্রেসওয়ে প্রকল্পের মূল নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেছিলেন। ওইদিন পতেঙ্গায় এ কাজের ফলক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে ২০১৭ সালের ১১ জুলাই জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ৩ হাজার ২৫০ কোটি ৮৩ লাখ টাকায় সিডিএ’র গৃহীত প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। চার লেনের এই এলিভেটেড এঙপ্রেসওয়ের মূল অংশের দৈর্ঘ হবে সাড়ে ১৬ কিলোমিটার ও প্রস্থ ৫৪ ফুট। নয়টি এলাকায় ২৪টি র‌্যাম্প (গাড়ি ওঠানামার পথ) থাকবে। নগরের টাইগারপাসে চারটি, আগ্রাবাদে চারটি, বারিক বিল্ডিং মোড়ে দুটি, নিমতলী মোড়ে দুটি, কাস্টমস মোড়ে দুটি, সিইপিজেডে চারটি, কেইপিজেডে দুটি, কাঠগড়ে দুটি, পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত এলাকায় দুটি র‌্যাম্প থাকবে। নির্মাণকাজ শেষ হলে শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে এলিভেটেড এঙপ্রেসওয়ে।
সড়ক বুঝে নেয়ার আহ্বান :
ফ্লাইওভার নির্মাণ করায় সিডিএ এভিনিউ সড়কের মুরাদপুর থেকে লালখান বাজার এবং বায়েজিদ বোস্তামী রোডের দুই নম্বর গেট থেকে বেবী সুপার মার্কেট পর্যন্ত মোট চার দশমিক ৭০ কিলোমিটার অংশ সিডিএ’র তত্ত্বাবধানে ছিল। ফ্লাইওভার নির্মাণকালীন সময়ে এ অংশের সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব ছিল সিডিএ’র। বর্তমানে সেই সংস্কার শেষ করেছে সিডিএ।
এদিকে গতকাল মেয়রকে পাঠানো চিঠিতে সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম বলেন, ‘মুরাদপুর, দুই নম্বর গেট ও জিইসি জংশনে ফ্লাইওভার নির্মাণ’ প্রকল্পের আওতায় বহদ্দারহাট ফ্লাইওভার হতে লালখান বাজার পর্যন্ত সিডিএ এভিনিউ রোডের উভয় পাশে এবং দুই নম্বর গেট হতে বেবী সুপার মার্কেট পর্যন্ত বায়েজিদ বোস্তামী রোডের উভয় পাশে কার্পেটিং, ড্রেইন ও ফুটপাত নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।’
চউক (চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ) অর্ডিন্যান্স ৪০-সি ধারা মোতাবেক বহদ্দার হাট থেকে লালখান বাজার ও দুই নম্বর গেইট থেকে বেবী সুপার মার্কেট পর্যন্ত রাস্তা, ড্রেন ও ফুটপাত মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের উদ্দেশ্যে বুঝে নেওয়ার জন্য একজন প্রতিনিধিকে নির্দেশ দেয়া’র জন্যও চিঠিতে অনুরোধ করা হয়।
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, সড়কটির বিভিন্ন অংশে পাইপ লাইন বসানোর জন্য খোঁড়াখুঁড়ি করছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। সিডিএ’র পাঠানো চিঠিতেও সে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।
এ বিষয়ে চিঠিতে বলা হয়, ‘বর্তমানে বহদ্দার হাট থেকে লালখান বাজার পর্যন্ত সিটি কর্পোরেশন থেকে রাস্তা কর্তনের অনুমতি নিয়ে চট্টগ্রাম ওয়াসার নিয়োজিত ঠিকাদার রাস্তা কর্তন করে ভূগর্ভস্থ পাইপ লাইন স্থাপন কাজ চলমান আছে। এতে সিডিএ কর্তৃক ইতোমধ্যে কার্পেটিং ও রোড মার্কেটিং দ্বারা সম্পন্নকৃত সম্পূর্ণ নতুন রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’
উল্লেখ্য, বিগত কয়েক বর্ষায় সড়কটির ক্ষতিগ্রস্ত অংশের জন্য চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়েছিল সাধারণ পথচারীদের। ওই সময় সিডিএ, ওয়াসা ও সিটি কর্পোরেশন পরস্পরকে দায়ী করেছিল। বিষয়টি নিয়ে দৈনিক আজাদীতে একাধিক প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়েছিল।

x