দুই প্রকল্পে ৫ হাজার কোটি টাকা দেবে এডিবি

শনিবার , ২৭ অক্টোবর, ২০১৮ at ৮:৫৯ পূর্বাহ্ণ
110

বাংলাদেশের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের দুটি উন্নয়ন প্রকল্পে ৬১ কোটি ডলার ঋণ দেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক এডিবি। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী (১ ডলার সমান ৮৩ টাকা ৮৩ পয়সা) বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ ৫ হাজার ১১৪ কোটি টাকা। বৃহস্পতিবার অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) ও এডিবির মধ্যে এ সংক্রান্ত দুটি চুক্তি সই হয়। চুক্তিপত্রে সই করেন ইআরডি সচিব কাজী শফিকুল আযম ও এডিবির আবাসিক প্রতিনিধি মনমোহন প্রকাশ। ঢাকার শেরে বাংলানগরের ইআরডি সম্মেলন কক্ষে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উভয় পক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষা খাতের প্রকল্পটিতে প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে ব্যয় করা হবে ৫০ কোটি ডলার। চলমান চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন প্রকল্পে এ অর্থ খরচ হবে। স্বাস্থ্য খাতের আরবান প্রাইমারি হেল্‌থ কেয়ার সার্ভিসেস ডেলিভারি প্রকল্পে ১১ কোটি ডলার ব্যয় করা হবে। এডিবির এই ঋণ ২ শতাংশ হারে সুদ দিয়ে ৫ বছরের রেয়াতকালসহ ২৫ বছরে পরিশোধ করতে হবে। অনুষ্ঠানে জাননো হয়, ‘ফোর্থ প্রাইমারি এডুকেশন ডেভলপমেন্ট প্রোগ্রাম’ শীর্ষক কর্মসূচির আওতায় দেশের সব শিশুর জন্য শিক্ষা ও শিক্ষণ পদ্ধতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রাথমিক শিক্ষায় সার্বজনীন অভিগম্যতা বৃদ্ধি করার মাধ্যমে বৈষম্য কমানো হবে। খবর বিডিনিউজের।
সরকার এ কর্মসূচি চারটি উদ্দেশ্যে বাস্তবায়ন করছে। সেগুলো হচ্ছে, সকলের জন্য উন্নত শিক্ষা ও শিক্ষণ পদ্ধতি নিশ্চিত করা। প্রাথমিক শিক্ষায় সার্বজনীন অভিগম্যতা বৃদ্ধি করার মাধ্যমে বৈষম্য হ্রাস করা। প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাপনার কার্যকর বিকেন্দ্রিকরণ এবং প্রাথমিক শিক্ষা সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনা প্রণয়ন ও ব্যবস্থাপনার উন্নতি করা। আরবান হেল্‌থ কেয়ার সার্ভিস ডেলিভারি প্রকল্পের অধীনে অফিস, যন্ত্রপাতি, কম্পিউটার সামগ্রী, যানবাহন, আবসাবপত্র কেনা হবে। বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, কর্মশালা ও সেমিনার আয়োজন করা হবে প্রকল্পের আওতায়। প্রকল্পটি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণসহ দেশের ১১টি সিটি কর্পোরেশনে বাস্তবায়ন করা হবে। এ সব এলাকায় বসবাসকারী বিশেষ করে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণের সুযোগ বৃদ্ধি করে তাদের স্বাস্থ্যের মান উন্নত করা। যেসব মানুষকে স্বাস্থ্য সেবা দেওয়া হবে তার অন্তত ৩০ শতাংশ দরিদ্র মানুষকে বিনামূল্যে সেবা দেওয়া এ প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য বলে জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে ইআরডি সচিব শফিকুল আযম বলেন, সরকারের বাজেট বৃদ্ধির পাশাপাশি উন্নয়ন সহযোগীরাও সহায়তার পরিমাণ অনেক বাড়িয়েছে। ২০০৮ সালের তুলনায় গত অর্থবছর পর্যন্ত বিদেশি সহায়তার পরিমাণ ৩০০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। গেল ২০১৭-১৮ অর্থবছরে রেকর্ড ৬৩০ কোটি ডলারের সহায়তা ছাড় হয়েছে। এটা যে কোনও সময়ের চেয়ে বেশি। এডিবি প্রতিনিধি মনমোহন প্রকাশ বলেন, বাংলাদেশের সুষম উন্নয়নের জন্য বিশেষ করে সকল শিশুর শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। সবাইকে শিক্ষা দিতে পারলে দেশে এমনিতেই বৈষম্য কমে আসবে।

x