দীঘিনালায় বন্যায় নষ্ট ফসলি জমি

সমির মল্লিক, খাগড়াছড়ি

বুধবার , ১৭ জুলাই, ২০১৯ at ১০:২৩ পূর্বাহ্ণ
11

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট খাগছড়ির দীঘিনালার মেরুং ইউনিয়নের বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে এখনো পানির নীচে ফসলি জমি। বন্যার পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে শত শত একর ফসলি জমি। ধানের জমি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছে কৃষক । তবে বন্যায় সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মেরুং ইউনিয়নের হাজারো কৃষক। বন্যার পানিতে প্রায় এক সপ্তাহ ডুবে থাকায় নষ্ট হয়ে গেছে আউশ ধানের চারা। এছাড়া অনেক কৃষকের ধানি জমির পাশাপাশি পুরোপুরি নষ্ট হয়েছে ধানের বীজতলা। ঋণ নিয়ে অনেকে জমির আবাদ করেছিল। কিন্তু ধানের চারা রোপণের মাত্র ১০ থেকে ১৫ দিনে বন্যায় প্লাবিত হওয়ায় নষ্ট হয়ে গেছে ধানের জমি। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিভিন্ন ফসলের খেত। বন্যার পানিতে ধানের জমি ডুবে যাওয়ায় দিশেহারা কৃষক।
দীঘিনালা উপজেলার মেরুং ইউনিয়নের কৃষক মো.আলী জানান,‘ বন্যার ১০-১২ দিন আগে আউশের চারা রোপণ করেছি। প্রতি একরে খরচ হয়েছে ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা। বন্যার পানিতে পুরো ফসলি জমি নষ্ট হয়ে গেছে। ঋণ করে আবাদ করেছি,এখন কোথায় ঋণ করব। কি করব জানি না।’ বাচা মেরং এলাকার কৃষক মো. সাহেব আলী, খোকন মিয়া। তারা জানান,‘ এখানে প্রায় ৩ একর জমিতে চাষাবাদ করেছি। বন্যার প্রথম দিন থেকে পানি উঠতে শুরু করেছে। অন্যান্য জায়গায় পানি কমলেও এখানে এখনো পানি আছে। ফসলি জমি পানির নীচে থাকায় পুরোটা নষ্ট হয়ে যাবে। এছাড়া ফসলি জমির বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। সব হারিয়ে নতুন করে আবার চাষাবাদ শুরু করা কঠিন। ’ বন্যার পানি পুরোপুরি নামতে আরো কয়েকদিন লাগতে পারে।
দীঘিনালা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের কর্মকর্তা ওঙ্কার বিশ্বাস জানান,‘ টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যার কারণে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মেরুং ইউনিয়ন। মেরুংয়ে প্রায় ৩০ হেক্টর জমি পানিতে প্লাবিত হয়েছে। বন্যার পানি স্থায়ী হওয়ায় অধিকাংশ বীজতলা ও ধানের চারা নষ্ট হয়ে গেছে। পুরো উপজেলায় ৮০ হেক্টর ধানের জমি নষ্ট হয়েছে।
ফসলি জমির ক্ষতি নিরূপণ করে কেন্দ্রীয় দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত বীজ, সারসহ আর্থিক কোন প্রণোদনার কোন বরাদ্দ পায়নি। বন্যা দুর্গতদের মাঝে সাড়ে ৫ মেট্রিক খাদ্যশস্য সহায়তা দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

x