দিনাজপুরের ঐতিহাসিক কান্তজীর মন্দির

ওম প্রকাশ ঘোষ রায়

শুক্রবার , ১২ অক্টোবর, ২০১৮ at ৭:৪৬ পূর্বাহ্ণ
44

পশ্চিমবঙ্গের দিনাজপুর নয়। বাংলাদেশের দিনাজপুর। ১৯৪৭ সালের দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে দিনাজপুর দ্বিবিভাজিত হয়ে এক অংশ উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর নামে ভারতবর্ষের পশ্চিমবঙ্গে এবং অপর অংশ দিনাজপুর নামে পূর্ব পাকিস্তান তথা বর্তমানে বাংলাদেশের একটি জেলায় পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশের উত্তর প্রান্তে পূণর্ভবা ও টপা নদীর সংযোগ স্থলে এর অবস্থিতি। কান্তজীর মন্দির দিনাজপুর তথা বাংলাদেশের মন্দির স্থাপত্য শিল্পের এক অপরূপ নিদর্শন। এই বিখ্যাত মন্দির দর্শনার্থে নিউজার্সী নিবাসী শ্রীরমেন নন্দীর পরিচিত অর্চনা রায়ের আমন্ত্রণে বাংলাদেশের দিনাজপুরের উদ্দেশ্যে আমি, আমার স্ত্রী অতসী ও মেয়ে প্রিয়াংকা গত ১১ই জুলাই’১৭ইং তারিখ রাত্রে চট্টগ্রাম থেকে বাসে রওনা হই। পরদিন প্রায় দুপুর ১টায় দিনাজপুর পৌঁছলাম। এবং অর্চনা রায়ের বাড়িতে আতিথেয়তা গ্রহণ করি। তাঁর স্বামী সন্তোষ রায় এবং ছেলে জয় ও মেয়ে জয়া আমাদেরকে তাদের পরিবারের একজন করে নেয়।
প্রায় বিকেলে জয়কে সঙ্গে নিয়ে দিনাজপুর শহর দেখতে বেরিয়ে পড়ি। খুব সাজানো গোছানো শহরতো নয়ই। তাছাড়া পরিকল্পিতভাবে শহর গড়ে উঠেনি। নালা নর্দমা নেই বললেই চলে। ঘিঞ্জি এলাকা। রাস্তাঘাট অপ্রশস্ত। যানবাহন বলতে বাসের সংখ্যা বেশী। মাছ, আনাজপাতি, কাপড়, সাংসারিক দ্রব্যাদি, শিল্পজাত দ্রব্যের জন্য ঢাকা ও চট্টগ্রামের উপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। এখানে চাল, গম, পাট, ভুট্টা ও কৃষিজ ফলন বেশী হলেও তুলনামূলকভাবে দামও বেশী। এই দিনাজপুর ছিল সেন রাজাদের আমলে পুন্ড্রবর্ধনের অন্তর্ভূক্ত। প্রাচীনকালে এর পরিচিতি ছিল মৎস্য দেশ নামে। বর্তমানে একে সবুজ শস্যের দেশ বলা হয়। এর নামকরণ নিয়ে একটি প্রবাদ কাহিনী রয়েছে। এই জনপদে দিনাজ নামে এক রাখাল ছিল। ভাগ্যক্রমে একসময় এই রাখাল রাজত্ব পেয়ে রাজা হলে তার নামেই নামকরণ হয় ‘দিনাজপুর’। সেদিনের মত সন্ধ্যেয় অর্চনা দেবীর বাসভবনে ফিরে আসি আমরা এবং পরদিন সকাল বেলা অটোয় চেপে কান্ত নগরে কান্তজীর মন্দিরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হই। দিনাজপুর শহর থেকে প্রায় ১৮ কি.মি, উত্তরে অবস্থিত কান্তা নগর গ্রামে তিনশত বছরেরও বেশী সময়ের প্রাচীন টেরাকোটা অলঙ্করণে সমৃদ্ধ কান্তজীর মন্দির আজও অস্তিত্ব ঘোষণা করছে। মূল মন্দিরের বহির্গাত্রের দোচালা বিশিষ্ট ২৪০ ফুট দীর্ঘ ও ১২০ ফুট প্রশস্ত প্রাচীর যা মন্দিরটিকে সুরক্ষা করছে। তাতেও অনেকগুলো ঘর দরজা জানালাবিহীন অযত্নে অবহেলায় পতিত অবস্থায় রয়েছে। তবে পূর্বদিকের ঘরগুলি মন্দিরের অফিস ঘর, ভাড়ার ঘর, রন্ধনশালা ও প্রসাদ বিতরণের ঘর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। উন্মুক্ত খোলামেলা পরিসরে ত্রিতল বিশিষ্ট রক্তিম বর্ণের কান্তজীর মন্দিরটি পাথরের বেদীর উপর স্থাপিত রয়েছে। আর তার সারা অঙ্গে চার দেয়ালে সত্য-ক্রেতা-দ্বাপর-কলি এই চার যুগের পৌরাণিক কাহিনী বর্ণনায় চিত্রিত রক্ত বর্ণের পোড়া মাটির ফলকে আবৃত রয়েছে। সেই সব খণ্ড খণ্ড ফলকে পৌরাণিক ঘটনাবলী যেমন রামায়ণ, মহাভারত আর কৃষ্ণলীলার চিত্র রয়েছে তেমনি তারই পাশাপাশি ফুল, লতাপাতা, পশুপাখি ও জ্যামিতিক নকশাগুলি সত্যিই প্রাচীন স্থাপত্যকলার অপূর্ব নিদর্শন যা মনে দাগ কাটার মতই। এতো না দেখলে উপলব্ধি করা যাবে না। কত নিষ্ঠার সাথে স্থানীয় শিল্পীরা মন্দিরটির কারুকার্য সম্পন্ন করেছে। মন্দিরের উত্তর দিকের গাত্রে সংস্কৃত ভাষায় লেখা একটি শিলালিপি রয়েছে যার বাংলায় অনুবাদ করলে দাঁড়ায়, “রাজা প্রাণনাথ অতি সুন্দর প্রাসাদতুল্য সুরচিত মনোরম নবরত্ন চূড়া বিশিষ্ট শ্রী শ্রী কান্তজীউ মন্দিরটি নির্মাণ শুরু করেন। পিতার সংকল্প সিদ্ধির জন্য রাজা রামনাথ শ্রীকৃষ্ণের নামানুসারে এই মন্দিরটির নাম কান্তজীউ মন্দির রেখে সংকল্প সমাপ্ত করেন। বেদ অব্দি কাল ক্ষিতি শকাব্দে”। শিলালিপি পড়ে কেমন যেন খটকা লাগলো। মন্দিরের নির্মাণকাল সম্পর্কে খুব একটা স্পষ্ট ধারণা হল না। আবার মন্দিরের তৈরীর সময়কার নবরত্ন অর্থাৎ নয়টি চূড়ার একটিও বাস্তবে দেখতে পেলাম না। মন্দিরে উপস্থিত স্থানীয় কয়েকজন বয়োঃবৃদ্ধকে জিজ্ঞাসা করে জানতে পারলাম মন্দিরের একতলার ছাদের চারটি চূড়া, দ্বিতলের ছাদের চারটি চূড়া এবং তৃতীয় তলের চূড়াটি ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় দৃস্কৃতকারীরা ভেঙে ফেলেছে। কিন্তু মন্দিরের সম্পৃক্ত লোকজনকে জিজ্ঞেস করলে তাঁরা ইতস্তত করে জবাব দিলেন, অতীতে কোন এক সময় ভূমিকম্পে মন্দিরের চূড়াগুলি বিনষ্ট হয়ে গেছে বলেই তাঁরা শুনেছে। অথচ, কী আশ্চর্য্য মন্দিরের ভিত্তি, দেওয়াল এবং পোড়া মাটির ফলকগুলোর সামান্য ক্ষতি হলো না এ কেমন কথা। শুধুমাত্র চূড়াগুলি ভাঙলো? জানতে চাইলে তাঁরা কোন সদুত্তর দিতে পারেনি। আবার ১৯৭১ সালে দুর্বৃত্ত কর্তৃক ভাঙার কথা বললে তাঁরা কেমন যেন সত্য ঘটনাটা লুকোতে চাইল। যাইহোক মন্দিরে কোন বিগ্রহ স্থাপিত দেখতে পেলাম না। তখন তাঁরা বলে যে, ৭১’ সালে নাকি প্রাচীন কান্তজীউর মূল্যবান কষ্টিপাথরের মূর্তি এবং মূল্যবান স্বর্ণালঙ্কারটি দুষ্কৃতকারীরা লুট করে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে চূড়াবিহীন মন্দিরটা বিগ্রহহীন অবস্থায় অরক্ষিতই ছিল অনেকদিন। পরবর্তী সময়ে ১৯৭৪ সালে হিন্দুধর্মপ্রাণ জনগণের আবেদনক্রমে বাংলাদেশ সরকারের ব্যবস্থাপনায় নতুন বিগ্রহ স্থাপন করা হয়। তবে এই বিগ্রহটিও চুরি যাওয়ার ভয়ে নিত্য পূজার সময়ে এবং বিশেষ বিশেষ পার্বণে মন্দিরের অস্থায়ী আসনে রাখা হয়। এই প্রাচীন অপরূপ সুন্দর মন্দিরটি দিনাজপুরের রাজবংশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রাজা প্রাণনাথ ১৭০৪ সালে এই কান্তনগরে (অতীতের শ্যামগড়) মন্দিরের নির্মাণ কাজ শুরু করেন। তিনি জীবদ্দশায় মন্দিরটি সম্পূর্ণ করতে পারেন নাই। তবে ১৭৫২ সালে তাঁর দত্তকপুত্র রাজা রামনাথ মন্দিরের কাজ সমাপ্ত করেন। এবং মন্দিরটির নামকরণ করেন “কান্তজীউর মন্দির”। আর এই কান্তজীর নামানুসারে গ্রামটির নাম রাখা হয় “কান্তনগর”। মন্দিরটি স্থাপিত হয়েছিল এক ধর্মপ্রাণ ব্রহ্মচারী কাশীনাথ ঠাকুরের দেবোত্তর সম্পত্তিতে। পরবর্তীকালে কাশীনাথ ঠাকুরের প্রধান শিষ্য শ্রীমন্ত ঐ সম্পত্তির উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হন। শ্রীমন্তের একমাত্র কন্যা লীলাবতীকে বিয়ে করেন রংপুরের রাজপুত্র হরিরাম। তাদের পুত্র শুকদেবের প্রথম স্ত্রীর দুই সন্তান রামদেব ও জয়দেবের (রাজত্বঃ কাল ১৬৭৭ খৃঃ) মৃত্যুর পর ২য় স্ত্রীর সন্তান প্রাণনাথ (রাজত্বকালঃ ১৬৮২ খৃঃ-১৭২২ খৃঃ) সিংহাসনে আরোহণ করেন। এই প্রাণনাথ একসময় বৃন্দাবনে গিয়ে শ্রীরূক্ষ্মিণী কান্ত মন্দিরের বিগ্রহের অনুরূপ একটি রাধাকৃষ্ণের বিগ্রহ সংগ্রহ করে দিনাজপুরে ফিরে আসেন। এবং এই কান্তনগরে মন্দিরের নির্মাণ কাজ শুরু করে বিগ্রহ স্থাপিত করেন। তবে তিনি চেয়েছিলেন মাঝে মাঝে রাধাকৃষ্ণের বিগ্রহটি রাজবাড়িতে নিয়ে গিয়ে পূজার্চনা করবেন। আর তাই ভাদ্র মাসের অষ্টমী তিথিতে নদীপথে বাদ্যবাজনা সহকারে দিনাজপুরের রাজবাড়ীর মন্দিরে নিয়ে যাওয়া হয় এবং কার্তিক মাসের পূর্ণিমা তিথিতে পুনরায় কান্তনগরের মন্দিরে ফিরিয়ে আনা হয়। আজও সেই নিয়ম চলে আসছে।
ততক্ষণে সূর্যদেব মাথার উপর প্রখর রৌদ্র ছড়াচ্ছে। আমরা একটু হতাশ হলাম। মন্দিরে বিগ্রহ দেখতে পেলাম না বলে। আর অমনি হঠাৎ করে শাঁখ ও উলুধ্বনিতে মন্দির প্রাঙ্গণ চঞ্চল হয়ে উঠে। মন্দিরের পূর্বপাশে অফিস ঘরের দিক থেকে দু’জন পুরোহিত রাধা ও কৃষ্ণের বিগ্রহ দু’জন ছত্রধারী সহকারে মন্দিরে এনে সামনের বারান্দায় কাঠের আসনে স্থাপন করেন। অর্থাৎ প্রাত্যহিক পূজা শুরু হবে। আমরা ভাগ্যবান। কান্তজীর পূজা দেখে তৃপ্ত হলাম। আর ভক্তিভরে প্রণাম করে আশীর্বাদ গ্রহণ করি। লক্ষ্য করলাম পূজা শেষে আবার রাধাকৃষ্ণের বিগ্রহ অফিস ঘরের দিকে নিয়ে যাওয়া হল। রাধাকৃষ্ণ বিহীন মন্দির শূন্য পড়ে রইল। একটু পরেই আমরা অফিসঘরের সামনে কান্তজীর পূজার অন্নভোগ প্রসাদ পেলাম। দর্শনার্থীও তেমন একটা নেই। হাতে গোনা ১৫/২০ জন হবে। বাংলাদেশের অন্যতম সুন্দর প্রাচীন এই মন্দির দর্শন করতে বিভিন্ন সময়ে দেশ বিদেশ থেকে বহু পর্যটক কান্তনগরে আসেন। প্রতিবছর কার্তিক মাসের পূর্ণিমা তিথিতে রাসলীলা উপলক্ষে মন্দির প্রাঙ্গণে বসে রাসের মেলা। আবার জ্যৈষ্ঠ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে শ্রীকৃষ্ণের স্নান উৎসব হয়। পুণ্যার্থীরা শ্রীকৃষ্ণের বিগ্রহকে ১০৮ ঘটি জল দিয়ে স্নান করানোর পুণ্যময় দৃশ্য উপভোগ করে থাকেন। মন্দিরের উত্তর চত্বরে একটি তমাল বৃক্ষ রোপণ করা হয়েছে। কিন্তু সেই স্থলের আদি প্রাচীন বৃক্ষটি আর নেই। মন্দিরের পূর্ব পাশে রয়েছে দোল বেদী। এই বেদীকে ঘিরে প্রতিবছর দোল উৎসব পালিত হয়ে থাকে। এবং পশ্চিম পাশে রয়েছে রাস বেদী। তার সামান্য উত্তরে একটি দীঘি ছিল যা ‘কন্যা ডুবি’ নামে পরিচিত। বর্তমানে এই দীঘিটি ভরাট হয়ে তাতে চাষ আবাদ করা হচ্ছে। মন্দির প্রাঙ্গণে একটি শিব মন্দিরও রয়েছে। তাতে স্থাপিত হয়েছে কালো পাথরের শিব লিঙ্গ। প্রতি বছর মাঘ মাসে কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশ তিথিতে শিবরাত্রি ব্রত পালিত হয়। এবং নিয়মিত শিবের পূজা হয়ে থাকে। আমরা আর বেশি দেরী না করে মন্দির চত্বর থেকে বেরিয়ে আসি। মন্দিরের বহির্গাত্র প্রাচীরের অনতিদূরে একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত মন্দির দেখতে পেলাম। এই মন্দিরের নাম অর্চনা মন্দির। এটি দেখতে অনেকটা শিব মন্দিরের মতই। রাজা প্রাণনাথ বৃন্দাবন থেকে রাধাকৃষ্ণের বিগ্রহ কান্তনগরে নিয়ে এসে তাৎক্ষণিকভাবে এই মন্দিরটি তৈরী করেন। কিন্তু কালের করাল গ্রাসে আজ এটি ভগ্নস্তূপে পরিণত হয়েছে। ১৯৫২ সালে দিনাজপুর রাজবংশের সর্বশেষ রাজা জগদীশ চন্দ্র রায় বাহাদুর রাজবাড়ী ও সহায় সম্পদ ত্যাগ করে কলকাতায় চলে যান। দেশত্যাগ আর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরবর্তীকালে স্থাপত্যশিল্পের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী কান্তজীউর মন্দিরটি রাজ দেবোত্তর এস্টেটের এজেন্ট কর্তৃক বর্তমানে রক্ষণাবেক্ষণ ও পূজা অর্চনা পরিচালিত হয়ে চলেছে। কান্তজীকে প্রণতি জানিয়ে আমরা প্রায় বিকেলে অর্চনা দেবীর বাস ভবনে ফিরে আসি। সারা দিনের মন্দির দর্শনের ক্লান্তিতে রাতটুকুন কেটে গেল। পরদিন অর্থাৎ ১৪ই জুলাই’১৭ইং তারিখে আমরা সকাল ১০টায় রাজবাড়ী দেখার জন্য রওয়ানা হয়ে যাই। দিনাজপুর শহর থেকে প্রায় ১৪ কি.মি উত্তর পূর্বদিকে এর অবস্থিতি। রাজবাড়ীতে অতীতের ঐতিহ্য নেই। যা ছিল দু’শ বিঘারও বেশি জমি নিয়ে চারশত বছরের রাজবংশের গড়া রাজবাড়ী। আজ তার প্রায় সকল জমিই সাধারণের দখলে বেহাত হয়ে গেছে।
রাজবাড়ী দেখে নিয়ে দিনাজপুর শহরে পৌঁছার ৬ কি.মি. আগে তাজহাট গ্রামে “রাম সাগর দীঘি” পৌঁছলাম। যদিও এটি সাগর নয়। নামে সাগর হলেও সুবিশাল এই “রাম দীঘি” টি ১৯৫২ খৃঃ মহারাজা রামনাথ রাখ খনন করেছিলেন প্রজাদের জলকষ্ট নিবারণার্থে। তাছাড়া আরও কয়েকটা মন্দির দর্শন করেছি যেমন শুকো মন্দির, রসিক জিউমন্দির, কালিয়াজীউর মন্দির ইত্যাদি। পরিশেষে দিনাজপুর শহরের থানার পেছনে একটি প্রাচীন কালীকা মায়ের মন্দির “মোসান কালী” বাড়িতে এসে পৌঁছলাম। তখন মায়ের মন্দিরে সান্ধ্য আরতি চলছিল। এই কালীকা মা অতি জাগ্রত দেবী। প্রবাদ আছে, প্রাচীনকালে মায়ের মন্দিরে ডাকাতেরা নরবলী দিয়ে মাকে সন্তুষ্ট করে ডাকাতি করতে বের হত। এখন আর নরবলী প্রথা নেই। তবে পশুবলী প্রথার প্রচলন রয়েছে। স্থানীয় হিন্দুরা মায়ের মন্দিরে মনস্কামনা পূরণার্থে পূজা দিয়ে থাকেন। আমরা মায়ের রাতুল চরণে প্রণতি জানিয়ে সেদিনের মত ফিরে এসে রাতটুকুন সুনিদ্রায় কাটিয়ে দিই। জয়তু মা মোসান কালী, জয়তুঃ কান্তজীঃ।

x