দিনভর বর্ষণ নিচু এলাকায় জলজট

আজাদী প্রতিবেদন

রবিবার , ৭ জুলাই, ২০১৯ at ১০:১৭ পূর্বাহ্ণ
168

ভর মৌসুমে বৃষ্টি না হওয়ায় আক্ষেপ ছিল সাধারণ মানুষের। সেই আক্ষেপ দূর হয়েছে গতকাল। শুক্রবার রাত থেকে গতকাল মধ্য রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে নগরীসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায়। কখনো একটানা, কখনো থেমে থেমে। আবহাওয়া অফিসের ভাষায়, ভারী বৃষ্টিপাত। অবশ্য বৃষ্টির প্রত্যাশা মিটলেও দুর্ভোগে ভোগান্তিও ছিল নগরবাসীর। কারণ, শহরের বিভিন্ন এলাকা হাঁটু সমান পানিতে তলিয়ে যায়। এতে বেহাল হয়ে পড়ে তাদের জীবনযাত্রা। যদিও বৃষ্টির সময় জোয়ার থাকায় জলজট ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাত ৯টা পর্যন্ত সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ১০২ দশমিক ৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগে দুপুর ১২টায় ছিল ৭৫ মিলিমিটার। পরবর্তীতে বিকেল ৩টায় ৮০ মিলিমিটার এবং সন্ধ্যা ৬টায় ৮৪ মিলিমিটার রেকর্ড করা হয়েছে। এদিকে আজ রোববারও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে দৈনিক আজাদীকে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস কর্মকর্তা শেখ ফরিদ আহমেদ। তিনি বলেন, ‘মৌসুমী বায়ু সক্রিয় থাকার কারণেই এ বৃষ্টিপাত হতে পারে। অতি ভারী বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ী এলাকায় কোথাও কোথাও ভূমিধ্বসের সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে আবহওয়া অফিসের এক সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, ‘উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে। এর প্রভাবে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা, উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং সমুদ্র বন্দরসমূহের উপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। চট্টগ্রাম, কঙবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে তিন নম্বর স্থনীয় সর্তক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।’ উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতেও এ সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে।
এদিকে বৃষ্টির প্রভাবে গতকাল নগরীর নিঁচু এলাকায় তলিয়ে গেছে। এরমধ্যে আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক, হালিশহর, ছোটপুল, মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, চকবাজার, খাতুনগঞ্জ, চাক্তাইসহ বিভিন্ন এলাকায় জলজট ছিল। আগ্রাবাদের জাম্বুরি মাঠ সংলগ্ন মা ও শিশু হাসপাতালের নিচতলায় পানি ঢুকে যায়। বিকেল পাঁচটার দিকে পানি ঢুকতে শুরু করে এবং ধীরে ধীরে তা হাঁটু সমান হয়ে যায়। অবশ্য এ সময় জোয়ার থাকায় পানির পরিমাণ বেশি ছিল। পানি উঠলে নিচতলার রোগীদের বিভিন্ন ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়। হাসপাতালের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. নূরুল হক সাংবাদিকদের বলেন, পানি উঠার কারণে চলাফেরায় কিছুটা সমস্যা হলেও হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম অব্যাহত ছিল। এদিকে বৃষ্টি এবং সরকারি ছুটির দিন থাকায় রাস্তাঘাটে যানবাহন কম দেখা গেছে। বিশেষ করে প্রাইভেট গাড়ির উপস্থিতি ছিল কম।

x