দিদারের খুনি কে?

আজাদী প্রতিবেদন

বৃহস্পতিবার , ৪ অক্টোবর, ২০১৮ at ৬:৩৪ পূর্বাহ্ণ
376

লালখান বাজারে দিদারুল ইসলাম খুনের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় প্রধান আসামি স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আবু হাসনাত বেলাল। মামলার এজাহারেও ‘প্রধান আসামি ছুরি দিয়ে হত্যাকাণ্ড ঘটায়’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু বেলালের দাবি তিনি ওই সময় এলাকায় ছিলেন না। প্রতিপক্ষ তাকে ফাঁসিয়ে দিতেই মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে। এমন অভিযোগ ও দাবির প্রেক্ষিতে এখন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে- দিদার খুনের প্রধান আসামি কে ?
বেলাল ও তার অনুসারীদের অভিযোগ, এ হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ত না থাকার পরও মামলায় বেলালসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া মামলার বিবরণীর কিছু অংশে ‘ভুল’ তথ্য লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। এর আগে গত ২৯ সেপ্টেম্বর শনিবার বিকালে দু’পক্ষের সংঘর্ষে ছুরিকাঘাতে খুন হন দিদারুল ইসলাম (২৫) প্রকাশ আবির। সে মতিঝর্ণা এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে। রাজনৈতিকভাবে আওয়ামী লীগ নেতা দিদারুল আলম মাসুমের অনুসারী হিসেবে পরিচিত দিদার। এ খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ১ অক্টোবর নিহত দিদারুল ইসলামের বাবা নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে ৩০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০/১২ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। এতে এক নম্বর আসামি করা হয়েছে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আবু হাসনাত বেলালকে। যার সাথে এলাকায় দখলদারিত্ব নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা দিদারুল আলম মাসুমের বিরোধ চলে আসছিল।
অভিযোগ উঠেছে, ওই দিন ঘটনাস্থলে ১ নম্বর আসামি আবু হাসনাত বেলাল উপস্থিত ছিলেন না। এরপরও মামলার এজাহারে তাকে আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া এজাহারে ‘অভিযুক্ত আসামি কর্তৃক ছুরি দিয়ে দিদারুল ইসলামকে সরাসরি হত্যা’ করার বিষয়টিও ঠিক নয় বলে দাবি করা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে আবু হাসনাত বেলালের দাবি তিনি খুনের ঘটনায় জড়িত নন। তিনি বলেন, ‘প্রতিপক্ষরা আমাকে ফাঁসাতে মামলায় আসামি করা হয়েছে।’ তিনি জানান, গত ২৯ সেপ্টেম্বর বিকালে তিনি কেইপিজেডে অবস্থান করছিলেন। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনার সাথে তিনি সম্পৃক্ত নন।
বেলালের সাথে রাজনীতি করছেন এমন কয়েকজনও জানিয়েছেন, এ খুনের সাথে বেলাল জড়িত নয়। প্রতিপক্ষের লোকজনরা তাকে ফাঁসিয়েছে। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন। তবে প্রতিপক্ষের সাথে দীর্ঘদিনের বিরোধের বিষয়টি তারা স্বীকার করেছেন।
এদিকে অনুসন্ধানে প্রতিপক্ষ দু’টি গ্রুপেরই নির্ভরযোগ্য কয়েকটি সূত্র আজাদীকে নিশ্চিত করেছে, মামলার ১ নম্বর আসামি হিসেবে থাকা আবু হাসনাত বেলাল সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশগ্রহণ না করলেও তিনি ঘটনাস্থলের পাশেই উপস্থিত ছিলেন। ওইদিন বিকালে সংঘর্ষ চলাকালে ঘটনাস্থল থেকে আনুমানিক ৫০ গজ দূরে তিনি লালখান বাজার মোড়ে অবস্থান করছিলেন। এ সময় বেলাল তার অনুসারীদের নেতৃত্ব দেন। পরে একটি পর্যায়ে সে ঘটনাস্থলে যায়।
এ ঘটনার কিছুক্ষণ আগে দিদারুল আলম মাছুমের অনুসারীদের হামলার শিকার হয় বেলালের কয়েকজন অনুসারী। পরে বেলালের অনুসারীরা জড়ো হয়ে লালখানবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে দিদারের লোকজনের ওপর হামলা চালায় এবং সেখানেই এ হত্যাকাণ্ডটি ঘটে।
এ ব্যাপারে খুলশী থানার ওসি (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) মো. নাসির উদ্দিন আজাদীকে বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। অভিযুক্ত আসামিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এর পাশাপাশি এ মামলায় সু্‌ষ্ঠু তদন্ত চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। নিরীহ কোন লোক যাতে এ মামলায় হয়রানি না হয় সেদিক দিয়ে আমরা সতর্ক আছি। আশা করি নিরীহ কোন লোক এ মামলায় হয়রানি হবে না। এটা নিশ্চিত থাকতে পারেন বলে জানান ওসি। বর্তমানে এ মামলায় আসামি হিসেবে সালাউদ্দিন লাভলু ও নুরুল ইসলামকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনার আগে গত ২১ সেপ্টেম্বর রাতে উভয়পক্ষের মধ্যে আরেকটি সংঘর্ষ হয়েছিল। এ ঘটনার ক’দিন পরই দিদারের হত্যাকাণ্ডটি ঘটে।
জানা গেছে, এলাকার দখলদারিত্ব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগ নেতা দিদারুল আলম মাসুম এবং সিটি কলেজের সাবেক জিএস ও নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ সদস্য আবুল হাসনাত বেলালের লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়েছিল। অনেকেই পূর্ব থেকে আঁচ করেছিল যে, এ বিরোধ থেকে খুনের ঘটনার জন্ম নিতে পারে।

x