দাম্পত্য জীবন ও কিছু কথা

সোমবার , ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ at ৭:৪৯ পূর্বাহ্ণ
168

দাম্পত্য কলহ নানা পরিবারেই রয়েছে। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয় পরিবারগুলো সুখেই আছে। কিন্তু ভেতরে দৃষ্টি দিলে ভিন্ন চিত্র চোখে পড়ে। আমাদের দেশের বেশির ভাগ বিয়ে হয়ে থাকে সামাজিক বিধিবিধান মেনে। কিছু বিয়ে হয় আবার পাত্র-পাত্রীর ইচ্ছানুসারে কোর্ট ম্যারেজের মধ্য দিয়ে। সামাজিক বিয়েতে সুন্দর ও পরিশীলিত দাওয়াত পত্র তৈরি করা হয়। সন্তান বড় হলে সামর্থ্যবানও যোগ্য হলে পিতামাতা বিয়ের জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন। ভালো পাত্র-পাত্রীর সন্ধানে নেমে পড়েন। কখনো আত্মীয় বা ঘটকের মাধ্যমে পাত্র-পাত্রী খোঁজা হয় এবং প্রয়োজনীয় আলাপ-আলোচনার মধ্যে দিয়ে বিয়ের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। পাত্র-পাত্রী নির্বাচন একটি জটিল কাজ। অনেক বাবা মার পছন্দ ছেলের জন্য চাকরিজীবী বা ব্যবসায়ী বউ। এ ক্ষেত্রে সম্ভবত তাদের আশা, নতুন বউয়ের উপার্জিত অর্থ তাদের সংসারে বাড়তি অক্সিজেন যোগাবে। কিন্তু তারা একবারও ভাবেন না, ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী বউ তার অর্জিত অর্থ-স্বামীর সংসারে খরচ করতে বাধ্য নয়। কিছু ব্যবসায়ী বা চাকরিজীবী বউ আছেন যারা নিজের অর্জিত অর্থ শ্বশুর-শাশুড়ির সংসারে ঢালেন এবং পরিবারের সার্বিক উন্নতির জন্য প্রাণপণে চেষ্টা করেন। আবার কিছু চাকরিজীবী বা ব্যবসায়ী বউ আছেন যারা স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়ির ভালো কোন কথারও তোয়াক্কা করেন না। প্রচলিত সামাজিক বিধিমালাকে দেখেন ভিন্ন দৃষ্টিতে। অনেক ক্ষেত্রে অন্যের সঙ্গে গোপন সম্পর্কের সূত্র ধরে স্বামী-সন্তানদের ফেলে যেতে এদের এতটুকু বুক কাঁপে না। এ শ্রেণির বউ এক রোখা জেদি এবং বেপরোয়া, ধর্মের প্রতি তেমন আস্থাশীলও নন। মিথ্যার আশ্রয় নেয়া প্রতারণা করা এদের চরিত্রের বড় বৈশিষ্ট্য। স্বামীর অর্জিত অর্থ সম্পদ আত্মসাৎ করে তাকে পথের ভিখারী বানাতেও দেখা যায় এদের। আবার এক ধরনের স্বামী আছেন, যারা স্ত্রীর আচরণে অনেকটা বাধ্য হয়ে নিজের অর্জিত অর্থ নিজের কাছে রাখেন, স্ত্রী ও শ্বশুর বাড়ির লোকদের সঙ্গে নানা কারণে সুসম্পর্ক রাখেন না। দাম্পত্য জীবনের দরজায় এক সময় কড়া নাড়ে মধ্য বয়স। জীবনে মধ্য বয়স এমন যখন বিবাহিত জীবনে কি পেলাম আর কি পেলাম না এ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি প্রাধান্য পায়। দীর্ঘজীবন অতিবাহিত হওয়ার পর মধ্য বয়সে এসে শুরু হয় স্বামী স্ত্রীর মধ্যে পাওয়া না পাওয়ার হিসাব-নিকাশ। হিসাব-নিকাশ যদি ত্রুটিপূর্ণ হয় তাহলেই শুরু হয় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য এমন কি চূড়ান্ত বিচ্ছেদও। এই মনোমালিন্য বা বিচ্ছেদ সন্তানদের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। সন্তান-বাবার পক্ষ নেবে না মার পক্ষ নেবে-এ নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগতে থাকে। ফলে দিনের পর দিন মা-বাবার ঝগড়া বিবাদ তাকে মুখ বুঝে সহ্য করতে হয়। এক পর্যায়ে সেই সন্তানদের ভাষা রুক্ষ্ণ হয়ে ওঠে। আত্মীয়-স্বজন কারো সঙ্গেই সে সুষ্ঠুভাবে মেলামেশা করতে পারে না। মধ্য বয়স যারা শান্তিতে কাটাতে পারেন, বলা যায় শেষ জীবন তাদের সুখের। শেষ জীবনটা সংসার জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সমাজকে সুদৃঢ় রাখার জন্য পরিবারের ভূমিকা অনস্বীকার্য। বর্তমানে আমাদের যে সমাজ ব্যবস্থা তা অস্থিতিশীল। একে স্থিতিশীল ও সুন্দর রূপ দেয়ার জন্য প্রয়োজন সুখি পরিবার। কলহ ও বিপদমুক্ত, আন্তরিক ও বিশ্বস্ত স্বামী স্ত্রীই সুখি পরিবার, সুখি সংসার নিশ্চিত করতে পারে।
– এম. এ. গফুর, বলুয়ার দীঘির দক্ষিণ-পশ্চিম পাড়, কোরবাণীগঞ্জ, চট্টগ্রাম।

x