দশ লাখ টাকার লোভই কাল হলো!

স্বর্ণ ব্যবসায়ী হত্যাকাণ্ড

ঋত্বিক নয়ন

বৃহস্পতিবার , ১১ জুলাই, ২০১৯ at ১০:৩৫ পূর্বাহ্ণ
544

স্বর্ণ ব্যবসায়ী সঞ্জয় ধর হত্যা রহস্য উন্মোচনের দ্বারপ্রান্তে পুলিশ। টাকা লেনদেন সংক্রান্ত ঘটনার জের ধরে তাকে খুন করা হয়েছে বলে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। হত্যার পরিকল্পনাকারী সম্পর্কেও নিশ্চিত তারা। সঞ্জয় থেকে এক লাখ টাকা ধার নিয়েছিল স্থানীয় এক কাপড় ব্যবসায়ি। সুদে আসলে সঞ্জয় পরে দশ লাখ টাকা দাবি করে। এ ঘটনা আদালত পর্যন্ত গড়ায়। কাপড়ের দোকান বন্ধ করে দিয়ে ঐ ব্যক্তি শেষ পর্যন্ত টেম্পো চালিয়ে সংসারের খরচ মেটাতে শুরু করে। এ অপমান মানতে পারেনি বাদশা নামে ঐ ব্যক্তি। সেই ক্ষোভ থেকেই এ হত্যাকাণ্ড! ইপিজেড থানাধীন বন্দরটিলা এলাকার মনিশ্রী জুয়েলার্সের মালিক সঞ্জয় ধর হত্যাকাণ্ডের ১৯ দিনের মাথায় গতকাল আজাদীকে এ কথা জানান ইপিজেড থানার ওসি মীর নূরুল হুদা। তিনি বলেন, আমরা মোটামুটি নিশ্চিত এক সময়কার ঘনিষ্ট এক ব্যক্তির সাথে নিহত সঞ্জয়ের আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধ ছিল। এই বিরোধের জের ধরেই ঐ বন্ধু ভাড়াটে খুনিদের মাধ্যমে তাকে খুন করে থাকতে পারে। ডিবিও বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছে। ডিবির তদন্তেও একই বিষয় উঠে এসেছে। আমাদের টিম মাঠে আছে। আসামি ধরা পড়বেই।
গত ২২ জুন রোববার দুপুরে ইপিজেড থানার বন্দরটিলা এলাকার মনিশ্রী জুয়েলার্স থেকে ব্যবসায়ী সঞ্জয় ধরের লাশ উদ্ধার করা হয়। আনুমানিক ৪৬ বছর বয়সী সঞ্জয় ধরের বাড়ি কক্সবাজারের রামু উপজেলায়। তিনি ওই দোকানেই থাকতেন। সঞ্জয়ের গলা কাটা ও পেটের দুই পাশে ছুরির আঘাত ছিল। ২১ জুন শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় দোকান বন্ধ ছিল। রোববার দুপুরে প্রতিদিনের মতো দোকানে ভাত দিতে যান এক নারী। দোকানের দরজার কড়া নেড়ে কোনো সাড়া না পেয়ে ওই নারী দরজা ফাঁক করলে সঞ্জয়ের লাশ দেখতে পায়। নিহতের মামাত বোন ঝর্ণা ধর জানান, শুক্রবার রাত থেকে রোববার পর্যন্ত পরিবারের সদস্যরা সঞ্জয় ধরের সাথে যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হয়। পরিবারের সদস্যরা চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। রোববার পরিবারের সদস্যরা নিহতের কাকাতো ভাইয়ের মাধ্যমে মৃত্যুর সংবাদ পান। নিহতের দুই মেয়ে ও দুই ছেলে রয়েছে। কয়েকদিন আগেই বড় মেয়ের বিয়ে হয়েছে বলে জানান তিনি। সঞ্জয় স্বর্ণ কেনাবেচার পাশাপাশি দাদন ব্যবসাও করতেন বলে পুলিশ জানতে পেরেছে।
পুলিশ জানায়, ১৯ জুন শুক্রবার রাতে ওই দোকানে চার-পাঁচজন বসে সঞ্জয়ের সঙ্গে আড্ডা দিয়েছিল। শুক্রবার রাতেই তাকে খুন করা হয়ে থাকতে পারে। এ ঘটনায় সঞ্জয়ের স্ত্রী রেখা ধর বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে নগরীর ইপিজেড থানায় হত্যা মামলা করেছেন। দুর্বৃত্তরা সঞ্জয়কে খুনের পর প্রমাণ না রাখার জন্য জুয়েলারি দোকান থেকে সিসিটিভি ক্যামেরা খুলে নিয়ে যায়।
ওসি মীর নূরুল হুদা আরো বলেন, আমরা জানতে পেরেছি, একটা সময় সঞ্জয়ের সাথে বাদশা নামে ঐ ব্যক্তির বন্ধুত্ব ছিল। তখন সঞ্জয় থেকে তিনি ১ লাখ টাকা নিয়েছিলেন। বিশ্বাসের সূত্রে তাকে একটি ব্ল্যাংক চেক দিয়েছিলেন। পরে বন্ধুত্বে ফাটল ধরে, যখন সঞ্জয় তার থেকে সুদে আসলে দশ লাখ টাকা দাবি করে। ঐ ব্ল্যাংক চেকে দশ লাখ টাকা বসিয়ে সঞ্জয় তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করে। এই ক্ষোভ থেকে খুনের ঘটনাটি ঘটেছে বলে আমরা নিশ্চিত হয়েছি।

x