দশ মাসেও চালু হয়নি পানছড়ি বাজার

পাহাড়িদের বাজার বর্জন

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি

মঙ্গলবার , ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ at ৯:০৭ পূর্বাহ্ণ
66

দশ মাস ধরে খাগড়াছড়ির পানছড়ি বাজারে আসছে না পাহাড়ি ক্রেতারা। এতে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে ব্যবসায়ীরা। খাগড়াছড়ি জেলা সদর থেকে প্রায় ২৫ কিমি দূরে পানছড়ি উপজেলা বাজার। সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ দোকানই প্রায় ক্রেতাশূন্য। প্রতি সপ্তাহের বোরবার খাগড়াছড়ির পানছড়ি সদর উপজেলার হাটের দিন। পাহাড়ি-বাঙালি ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগমে মুখরিত হয় বাজার । কিন্তু বর্তমান চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন । সাপ্তাহিক হাটের দিন হলেও বাজারে পাহাড়ি ক্রেতা দেখা যায়নি। সাপ্তাহিক হাটের দিনকে কেন্দ্র করে বাজারে প্রায় অর্ধকোটি টাকার লেনদেন হত।
পানছড়ি বাজার কমিটি সূত্রে জানা গেছে, পানছড়ি বাজারে আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর নেতাদের অবস্থানকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্ব-সংঘাত ও বিরোধের সূত্র ধরে একটি পক্ষ বাজার বর্জন করে। এরপর থেকে পাহাড়ি ক্রেতারাও বাজার বর্জন করেছে। স্থানীয় পাহাড়িরা আশেপাশের বাজারে গিয়ে বিকিকিনি করছে। কিন্তু পানছড়ি উপজেলার প্রধান বাজারে পাহাড়িদের আনাগোনা নেই। ফলে দুর্ভোগে পড়েছে সাধারণ পাহাড়ি ও বাঙালি ক্রেতারা।
পানছড়ি বাজারের চলমান সংকট নিরসনের দাবি জানিয়েছেন পানছড়ি বাজারের বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যবসায়ীরা। পানছড়ি বাজারে অনুষ্ঠিত এক ব্যবসায়ীদের সভায় এ দাবি জানানো হয়। এসময় ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘ ১০মাস যাবত একটি বিশেষ মহলের উস্কানিতে পাহাড়ীরা পানছড়ি বাজার বয়কট করেছে যার কারণে বাজারসহ পানছড়িবাসীর জীবনমানের অবস্থা খুবই করুণ। বর্তমানে ক্রেতাশূন্য হওয়ায় বিক্রেতারা আর্থিক ক্ষতি গুনছে। অনেক ব্যবসায়ী ঋণ করে ব্যবসা করতে বাধ্য হচ্ছে। অনেকে আবার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছে। বাজার চালু করার জন্য সরকার ও প্রশাসনের প্রতি দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। পানছড়ি বাজারের প্রবীণ ব্যবসায়ী আহাম্মদ সৈয়দের সভাপতিত্বে ও মো. সোলাইমানের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন বাজার ব্যবসায়ী কাজী এনামূল হক, মো. আলমগীর হোসেন, পলাশ চৌধুরী, মো. ইউসুফ আলী, মো. হাশেম, মো. আবুল কাশেম, মো. আবুল হোসেন ও ইউপি সদস্য আসিফ করিম প্রমূখ। পাহাড়িদের বাজার বর্জনের সাথে নিজেদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপিডিএফ’এর কেন্দ্রীয় সংগঠক মাইকেল চাকমা জানান, বাজারে চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা অবস্থান করে সাধারণ পাহাড়ি জনগণকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে, হুমকি দিয়েছে। মিঠুন চাকমা হত্যার আসামীসহ একাধিক সন্ত্রাসী বাজারে ভিতরের অবস্থান করে এসব কার্যক্রম করছে । তাই সাধারণ জনগণ সচেতনভাবে বাজার বর্জন করেছে। এর দায় ইউপিডিএফ নিবে না। পানছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্ম তৌহিদুল ইসলাম বলেন, বাজার বয়কটের কারণে আঞ্চলিক সংগঠনগুলো জড়িত। ফলে একাধিকবার বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হলেও সফল হয়নি। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাজার বর্জনের বিষয়টি সুরাহার জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালে ১৯ মে আঞ্চলিক সংগঠন ইউপিডিএফ বাজার বয়কটের ঘোষণা দিলে ২০ মে থেকে আজ অব্দি বাজারে বিরাজ করছে ভুতুড়ে অবস্থা।

x