দশ বছর গেল আন্দোলন কবে বিএনপি ভুয়া, ফখরুলও ভুয়া

কর্ণফুলীর পথসভায় ওবায়দুল কাদের

এম. নুরুল ইসলাম

সোমবার , ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ at ৬:৩১ পূর্বাহ্ণ
630

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বিএনপিকে ‘ভুয়া’ দল ও বিএনপি মহাসচিবকে ‘ভুয়া’ নেতা হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন। আন্দোলন নিয়ে বিএনপির ব্যর্থতার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, মানুষ বাঁচে কয় বছর? দেখতে দেখতে গেল ১০ বছর, আন্দোলন হবে কোন বছর? ১০ বছরে হয়নি, এক মাসে হবে? তিনি বলেন, ‘রোজার ঈদ, কোরবানির ঈদ, তারপর আবার রোজার ঈদ১০ বছরে ২০ টা ঈদ চলে গেছে। নির্বাচনের বাকি তিন মাস। এখন কি আর আন্দোলন হবে? মানুষ এখন ইলেকশনের নীড়ে। এখন কেউ আন্দোলন চায় না।’

নির্বাচনের আগে সাংগঠনিক সফরের অংশ হিসেবে গতকাল রোববার কক্সবাজার যাওয়ার পথে কর্ণফুলী উপজেলায় প্রথম পথসভায় ওবায়দুল কাদের বক্তব্য রাখছিলেন। শিকলবাহা ক্রসিংয়ে কর্ণফুলী উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত এ পথসভায় তিনি বলেন, ‘জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে সাক্ষাতের কথা বলে অনেক নাটক দেখিয়েছে বিএনপি মহাসচিব। জাতিসংঘের মহাসচিবের নামে নাকি একটি চিঠি এসেছে, উনাদের নাকি দাওয়াত দিয়েছেন। ফখরুল সাহেব পত্রপত্রিকা, মিডিয়ায় প্রচার করেছেন যে জাতিসংঘ মহাসচিব তাকে দাওয়াত করেছেন। তিনি যখন জাতিসংঘে গেলেন, মহাসচিব তখন ঘানায়। মহাসচিব যুক্তরাষ্ট্রে নেই। তৃতীয় শ্রেণির একজন কর্মকর্তার সঙ্গে অনেক অনুনয়বিনয় করে কিছুক্ষণ কথা বলেছেন। নালিশ করে দেশে ফিরে এসেছেন।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমার প্রশ্নজাতিসংঘ মহাসচিব দাওয়াত করেছেন বলে কেন বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হল? আমার প্রশ্নকেন মিথ্যাচার করা হল? এর মধ্য দিয়ে কি প্রমাণ হয়?’ কাদের নিজেই বলেন, ‘ভুয়া ভুয়া ভুয়া।’ এসময় তিনি নেতাকর্মীদের প্রশ্ন রাখেন, ‘কে ভুয়া?’ জবাব আসে– ‘বিএনপি।’ তখন ওবায়দুল কাদেরও বলেন, ‘বিএনপি ভুয়া।’ তিনি আবার প্রশ্ন করেন– ‘ফখরুল কি ?’ জবাব আসে– ‘ভুয়া।’ কাদের বলেন, ‘ফখরুলও ভুয়া।’

এরপর ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এরকম প্রতারক দল ক্ষমতায় আসলে দেশে গণতন্ত্র থাকবে না, দেশের নিরাপত্তা থাকবে না, দেশের উন্নয়ন হবে না।’

এ পথসভায় সভাপতিত্ব করেন কর্ণফুলী উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সৈয়দ জামাল আহমদ। আনোয়ারাকর্ণফুলী উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এম এ মালেক ও হায়দার আলী রনির সঞ্চালনায় এ পথসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম এনামুল হক শামীম, ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এমপি। সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমেদ, আনোয়ারা উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল মান্নান চৌধুরী, উপজেলা চেয়ারম্যান তৌহিদুল হক চৌধুরী, রাউজান উপজেলা চেয়ারম্যান এহছানুল হক চৌধুরী বাবুল, আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল মান্নান খান, দক্ষিণ জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শামিমা হারুন লুবনা, দক্ষিণ জেলা শ্রমিকলীগের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার ইসলাম আহমদ, দক্ষিণ জেলা যুবলীগের সভাপতি আ..ম টিপু সোলতান, দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের প্রমুখ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক মন্ত্রী আবদুল মতিন খসরু, সাবেক মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সবুর, বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি ওয়াশিকা আয়শা খান এমপি, নজরুল ইসলাম চৌধুরী এমপি, মোস্তাফিজুর রহমান এমপি, সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুছ ছালাম, দক্ষিণ জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ সভাপতি আবুল কালাম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, যুগ্ম সম্পাদক শাহজাদা মহিউদ্দীন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক কর্ণফুলী উপজেলা চেয়ারম্যান ফারুক চৌধুরী, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক এম. হান্নান চৌধুরী মঞ্জু, ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন, সাবেক সভাপতি এস এম জাকির হোসেন, ভূমি প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সহকারী সচিব রিদুয়ানুল করিম চৌধুরী সায়েম প্রমুখ।

প্রার্থী হিসাবে জাবেদকে পরিচয় করিয়ে দিলেন কাদের : এ সভায় কর্ণফুলীআনোয়ারা আসনের প্রার্থী হিসেবে ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদকে পরিচয় করিয়ে দেন ওবায়দুল কাদের। এ সময় তিনি বলেন, ‘ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব! চট্টগ্রামের মানুষ জানে, কর্ণফুলী হচ্ছে বিএনপির ঘাঁটি! সেই ঘাঁটি দেখে যান, ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। কর্ণফুলী এখন আওয়ামী লীগের সঙ্গে। কর্ণফুলী এখন শেখ হাসিনার সঙ্গে। কর্ণফুলী এখন তরুণ জননেতা জাবেদের সঙ্গে।’ তিনি বলেন, বাবু ভাইয়ের রক্তের উত্তরসূরী, উদীয়মান নেতা, স্বচ্ছতার প্রতীক সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের নেতৃত্বে দক্ষিণ চট্টগ্রাম আজ উজ্জীবিত। নেতৃত্ব কিভাবে দিতে হয়, এলাকার উন্নয়ন কিভাবে করতে হয় জাবেদ তার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাই এলাকার উন্নয়ন চাইলে আপনাদের কাছে জাবেদের বিকল্প নেই। জাবেদ আপনাদের এলাকায় উন্নয়ন দিয়েছে, শতভাগ বিদ্যুৎ দিয়েছে, কিন্তু আমি আমার এলাকায় ৯০ ভাগ দিতে পেরেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্ব ও সাহসিকতায় বাংলাদেশ আজ বিশ্ববাসীর কাছে উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে।

ধানের শীষ পেটে বিষ’ : ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘কর্ণফুলীর পথসভায় যে পরিমাণ লোক সমাগম হয়েছে, বিএনপি গত দশ বছরে এত মানুষ কোথাও জড়ো করতে পারেনি।’ তিনি বলেন, ‘সারা দেশে নৌকার পালে হাওয়া লেগেছে। সবাই বলেন, ধানের শীষ পেটের বিষ, ধানের শীষ সাপের বিষ।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে বিএনপি কোটার ওপর ভর করেছিল। ছাত্রছাত্রীদের নিরাপদ সড়কের আন্দোলনে ভর করেছিল। আওয়ামী লীগ অফিসে হামলা হয়েছিল। অথচ এক মহিলা কাঁদতে কাঁদতে বলছে, আওয়ামী লীগ অফিসে নাকি চারজনকে মেরে ফেলা হয়েছে। একজনকে রেপ করা হয়েছে। এটা কি ? গুজব সন্ত্রাস। এটা এখনও আছে। এই গুজব সন্ত্রাস প্রতিরোধ করতে হবে।

ঐক্যবদ্ধ থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘জনগণের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করবেন। ঘরের মধ্যে ঘর করবেন না। মশারির মধ্যে মশারি টাঙাবেন না। ঐক্যবদ্ধ থাকেন। ঐক্যের রেজাল্ট আছে। গাজীপুরে আমরা ঐক্যবদ্ধ ছিলাম, জিতেছি। খুলনায় ঐক্যবদ্ধ আমরা জিতেছি। সিলেটে কলহ ছিল, সামান্য ভোটে হেরেছি। আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ থাকলে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না।’

তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুযোগ্য নেতৃত্বে দেশ গত ১০ বছরে বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ অবিশ্বাস্যভাবে এগিয়ে গেছে। যার কারণে আওয়ামীলীগ আবারও ক্ষমতায় আসবে দেখে তারা আজ দিশেহারা।’

আওয়ামীলীগকে বাদ জাতীয় এক্য কিভাবে : জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার প্রসঙ্গ টেনে ওবায়দুর কাদের বলেন, ‘নেতায়নেতায় ঐক্য, এটা জাতীয়তাবাদী ঐক্য। আইআরআই জরিপে এসেছে শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা ৬৬ শতাংশ। ৬৬ শতাংশ জনপ্রিয়তাকে বাদ দিয়ে জাতীয় ঐক্য হয় না। আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে কোনো জাতীয় ঐক্য হবে না। হবে জাতীয়তাবাদীসামপ্রদায়িক ঐক্য। বাংলাদেশের জনগণের কাছে এই ঐক্যের কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই।’

x