দক্ষিণ রাউজান গঙ্গা মন্দির এখন সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রাণের উচ্ছ্বাস

মীর আসলাম, রাউজান

সোমবার , ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ at ১১:০৯ পূর্বাহ্ণ
137

নদীর সাথে মানুষের সম্পর্ক সভ্যতার আদিকাল থেকে। নদীকে কেন্দ্র করে বিশ্বের দেশে দেশে গড়ে উঠেছে বসতি আর মানব সভ্যতা। বিশ্বের প্রবাহমান নদীগুলো নানাভাবে প্রভাবিত করেছে মানুষের জীবন, সমৃদ্ধ করেছে সভ্যতার। পানির প্রবাহমান ধারায় যুগে-যুগে বদলে দিয়েছে সভ্যতা- ইতিহাস।
আমাদের এই উপমহাদেশের অনেক নদ নদী নিয়ে রয়েছে হাজারো রকম রূপকথা। নদী নিয়ে মানুষের রোমান্টিসিজমেরও শেষ নেই। দেশে দেশে কবি সাহিত্যিক, ঋষি মুনিঋষিরা বিশেষ বিশেষ নদীকে নিয়ে রচনা করেছেন গান-গল্প-কবিতা। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও নদীর প্রবাহিত পানিকে পবিত্র মনে করা হয়। সনাতন ধর্মাবলম্বিরা গঙ্গা নদীকে দেবী হিসাবে মান্য করে। সমপ্রদায়ের লোকজন গঙ্গা নদীর প্রবাহমান পানিতে স্নান করে নিজেদের পুতপবিত্র করেন। সনাতন ধর্মে নদী মাতৃস্বরূপা। নদীকে দেবীর আসনে বসিয়েছে মহামর্যাদাবান করেছে।
সভ্যতা ও সংস্কৃতির ধারক বাহক গঙ্গার প্রবাহমান পানি ছড়িয়ে ছিটিয়ে যেদিকে প্রবাহ হয়েছে, সেদিকে গড়ে উঠেছে মঠমন্দির। নদীর খালের পানির প্রবাহকে উৎস করে গড়ে তোলা হয়েছে প্রতিষ্ঠান। আমাদের এই সংস্কৃতির চলমান ধারায় সনাতন ধর্মাবলম্বিরা দক্ষিণ রাউজানে প্রবাহমান খালের পানির ধারাকে উৎস করে বিশাল এলাকায় প্রতিষ্ঠা করেছেন গঙ্গা মন্দির। কাপ্তাই সড়ক পাশে (২৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নিকটবর্তী স্থানে) প্রতিষ্ঠা পেয়েছে দৃষ্টিনন্দন গঙ্গা মন্দির। দর্শনার্থীরা প্রায় প্রতিদিন এই মন্দিরে এসে পূজা দিয়ে যায়। বিশেষ দিনে হাজার হাজার নারী-পুরুষ এখানে আসেন স্নান করে নিজেদের শরীর মনকে পুতপবিত্র করতে। মন্দিরের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা দক্ষিণ রাউজান পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ম্যালকম চক্রবর্তীর মতে এই এলাকায় আগে থেকে পূজা হতো মগদেশ্বরী দেবীর নামে। রাস্তার পাশে আছে তার ছোট মন্দির। এখানে পূজার্থীর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পেতে চললে এলাকার জনসাধারণের সহযোগিতায় গঙ্গা মন্দির প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হয়।
একাজে সহায়তা দেন রাউজানের অসমপ্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী সাংসদ এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী। তার সাহায্য সহযোগিতায় গঙ্গা মন্দির একটি দর্শনীয় প্রতিষ্ঠান হিসাবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। প্রতি বছর এই মন্দিরে দূরদুরান্ত থেকে ছুটে আসেন শত শত মানুষ। বারুনীর স্নানের সময় ভিড় সামলাতে ও সুষ্ঠু শান্তিপূর্ণভাবে স্নানে অংশ নিতে নারী পুরুষের জন্য করা হয়েছে বিশাল ঘাট। এছাড়া গঙ্গা মন্দিরের জলরাশিতে প্রতি বছর প্রতিমা বিসর্জনে রাখা হয়েছে সুব্যবস্থা। বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য রাখা আছে প্রয়োজনীয় ঘর ও রন্ধনশালা। সংশ্লিষ্টদের মতে এই প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে সারা বছর চলে সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ড। এখন অনেকেই এই মন্দিরে আসেন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে। সবমিলিয়ে দক্ষিণ রাউজান গঙ্গা মন্দিরকে ঘিরে এ অঞ্চলের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রাণের উচ্ছ্বাস।

x