থামছে না বাড়তি ভাড়া আদায়

বিআরটিএর অভিযানে ৩৮ মামলায় দুই লাখ টাকা জরিমানা

আজাদী প্রতিবেদন

বুধবার , ১২ জুন, ২০১৯ at ৫:১৯ পূর্বাহ্ণ
135

মামলা জরিমানার পরেও থামছে না বাসে বাড়তি ভাড়া আদায়। গতকাল মঙ্গলবার নগরীর বেশ কয়েকটি স্পটে অভিযান চালিয়ে বাড়তি ভাড়া আদায় বাদেও গাড়ির ডকুমেন্ট হালনাগাদ না থাকা, আইন না মেনে গাড়ি চালানো, ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকাসহ নানান অভিযোগে ৩৮ মামলায় ২ লাখ ১৬ হাজার ৫শ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
এদিকে বাড়তি ভাড়ার অভিযোগে শাহ আমানত সেতুর দুই প্রান্তে নতুন ব্রিজ গোলচত্বর ও মইজ্জ্যারটেক এলাকায় দক্ষিণ চট্টগ্রামগামী বাসগুলোতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছেন বিআরটিএর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম মনজুরুল হক। ঈদের এক সপ্তাহ পার হলেও দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন রুটের বাসগুলোর বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগের প্রমাণ পান তিনি।
পটিয়া-সাতকানিয়া-লোহাগাড়া রুটের বাসগুলো আমিরাবাদ থেকে নতুন ব্রিজের ভাড়া নিচ্ছে ১৫০ টাকা, পটিয়া থেকে নতুন ব্রিজের ভাড়া ২০ টাকা হলেও বাসের চালক হেলপাররা ৫০ টাকা করে আদায় করছে। বাঁশখালী সদর থেকে নতুন ব্রিজের ভাড়া ৬৫ টাকা হলেও অনেক বাস ১২০-১৫০ টাকা পর্যন্ত আদায় করছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে যাত্রীদের সাথে অশালীন ব্যবহার করছে গাড়ির শ্রমিকেরা। এসময় ভ্রাম্যমান আদালত পটিয়া-সাতকানিয়া-লোহাগাড়া ও বাঁশখালী রুটের ৫টি বাসকে মোট ৭৩ হাজার টাকা জরিমানা করেন ম্যাজিস্ট্রেট। দুটি বাস ও ম্যাঙ্মিায় যাত্রীদের কাছ থেকে নেয়া বাড়তি ভাড়া তাৎক্ষণিক ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেন ভ্রাম্যমান আদালত।
এদিকে গত শনিবার বিকেলে চট্টগ্রাম-কঙবাজার রুটে চলাচলকারী শ্যামলী পরিবহনের (ঢাকামেট্রো-ব-১১-১৪৮১) বাসটিকে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অপরাধে মনসা বাদামতল এলাকায় জরিমানা করেন পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমান আদালত। ওইসময় নেওয়া বাড়তি ভাড়া ফেরতের নির্দেশ দেন ভ্রাম্যমান আদালত। ভ্রাম্যমান আদালতের নির্দেশনা শুনে পরবর্তীতে বাড়তি ভাড়া ফেরত দাবি করলে নতুন ব্রিজ এলাকায় এক যাত্রীকে হেনস্তা ও মারধর করেন বাসটির হেলপার। মারধরের ভিডিওসহ ঘটনাটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। মঙ্গলবার অভিযান চলাকালে ওই ঘটনাটি আমলে নিয়ে যাত্রী হয়রানির অপরাধে ওই বাসের মালিককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমান আদালত। পাশাপাশি ওই হেলপারের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মালিকপক্ষকে এক সপ্তাহ সময় বেঁধে দেন।
এ বিষয়ে এস এম মনজুরুল হক বলেন, বাড়তি ভাড়া আদায় রোধে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত আমরা নগরীর প্রায় প্রত্যেক পয়েন্টে অভিযান চালিয়েছি। ঈদের পরেও দেখি একই অবস্থা। সবচাইতে বেশি অভিযোগ দক্ষিণ চট্টগ্রামের বাসগুলোতে। মঙ্গলবার সেতুর দুই প্রান্তে অভিযান চালিয়ে ৬ বাসকে ৯৩ হাজার টাকা জরিমানা করেছি। তাদের সতর্ক করা হয়েছে। তারপরেও অভিযোগ পাওয়া গেলে আগামীতে আরো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে নগরীর কাজিরদেউড়িসহ কয়েকটি স্পটে অভিযান চালিয়েছে আরেক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জিয়াউল হক মীর। তিনি ১৫টি গাড়িকে মামলা দিয়ে ৯১ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন। পাশাপাশি হালনাগাদ কোন প্রকার ডকুমেন্ট না থাকায় দুটি প্রাইভেট কার ডাম্পিং করার আদেশ দেন। অন্যদিকে নগরীর শেরশাহ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৭ মামলার বিপরীতে ৩২ হাজার ৫শ টাকা জরিমানা আদায় করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সোহেল রানা।

x