থাকবে র‌্যাব-পুলিশের বিশেষ নজরদারি

থার্টি ফার্স্ট : উন্মুক্ত স্থানে অনুষ্ঠান নয়

আজাদী প্রতিবেদন

বুধবার , ২৭ ডিসেম্বর, ২০১৭ at ৩:৪১ পূর্বাহ্ণ
228

ঘটনাবহুল ২০১৭ সালকে বিদায় ও নতুন বছরকে বরণে উন্মুখ বন্দর নগরী চট্টগ্রাম। থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপন উপলক্ষে নগরীর অভিজাত হোটেল সমূহে বিশেষ আয়োজন রেখেছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও চিটাগাং ক্লাবসহ বিভিন্ন ক্লাবের নানা বর্ণাঢ্য আয়োজনে নতুন বছরকে বরণ করবে নগরবাসী। থার্টি ফার্স্ট নাইটের সংস্কৃতি মূলত: পাশ্চাত্য ভাবধারায় উজ্জ্বীবিত এদেশীয় কিছু মানুষের আনন্দের বহি:প্রকাশ। গত দেড় দশক ধরে এরা দিনটি পালনে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতে থাকে। এবারো তার ব্যতিক্রম হবে না। তবে এবারও থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপন উন্মুক্ত স্থানে করা যাবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে রমনার বাংলাদেশ পুলিশ অফিসার্স মেসে ঢাকা মেট্রোপলিটন শ্যুটিং ক্লাবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে বেরিয়ে তিনি এ কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নিরাপত্তার স্বার্থেই থার্টি ফাস্ট উপলক্ষে উন্মুক্ত স্থানে সভা-সমাবেশ, গান-বাজনা-অনুষ্ঠান করতে দেওয়া হবে না। ওইদিন যা কিছু করার সব হবে ঘরের মধ্যে।
জানা গেছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এ নিদেৃশ বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে প্রস্তুতি নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। থার্টি ফার্স্টকে ঘিরে কেউ যাতে উচ্ছৃঙ্খল হয়ে উঠতে না পারে, সেজন্য বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে র‌্যাব ও পুলিশ। পুলিশ সারপ্রাইজ চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালাবে। একই সাথে চলবে বহ্মক রেইডও। সিএমপির মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মো: কামরুজ্জামান আজাদীকে বলেন, ইংরেজী নববর্ষ বরণকে কেন্দ্র করে যাতে উচ্ছৃঙ্খলতা সৃষ্টির মাধ্যমে নগরীর পরিস্থিতি অস্থির না হয় সে বিষয়টি আমরা নিশ্চিত করবো।
ককটেল পার্টি, ফ্যাশন শো, ডিস্কো-ডিজে পার্টি, কনসার্টের আয়োজনে উদযাপিত হবে থার্টি ফার্স্ট নাইট পর্যটন নগরী কক্সবাজারে। যারা সেখানে যেতে পারছে না নানা কারণে, তারা নগরীর কাছে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত কিংবা আনোয়ারা পার্কি বিচে গিয়ে স্বাদ মিটানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। নগরীর রেডিসন ব্লু, হোটেল আগ্রাবাদ, হোটেল পেনিনসুলা, হোটেল প্যাভিলিয়ন, হোটেল ওয়েলপার্ক, হোটেল টাওয়ার ইনসহ বিভিন্ন অভিজাত হোটেলে আনন্দ বিনোদনের নানা আয়োজন করা হয়েছে।
সূত্রমতে থার্টি ফার্স্ট নাইটে আনন্দ উৎসবে বাধা দেবে না র‌্যাব-পুলিশ। তবে আনন্দের নামে কোন ধরনের উচ্ছৃঙ্খলা কঠোর হস্তে দমনের লক্ষ্যে ৩০ ডিসেম্বর থেকে র‌্যাব-পুলিশের আড়াইহাজার সদস্য মাঠে নামানো হচ্ছে। ৩০ ডিসেম্বর রাত থেকে নগরীর ঝুঁকিপূর্ণ কয়েকটি পয়েন্ট বন্ধ করে দেয়া হবে। এছাড়া নগরীর প্রবেশ মুখ কর্ণফুলী ব্রিজ এলাকা ও সিটি গেট এলাকায় চেকপোস্ট বসানো ছাড়াও সারপ্রাইজ চেকিংয়ের ব্যবস্থা থাকছে।
সিএমপির সূত্রমতে থার্টি ফার্স্ট নাইট উপলক্ষে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত ও তার আশেপাশের এলাকায় অতিরিক্ত ৮০০ পুলিশ দায়িত্ব পালন করবে।। যেহেতু নগরীতে মূল উন্মাদনা থাকে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে, তাই নিরাপত্তা ব্যবস্থা সেখানে কঠোর রাখা হবে। মোড়ে মোড়ে চেকপোস্ট বসানো হবে। যানবাহন ও দেহ তল্লাশি করে সন্দেহভাজনদের গ্রেফতার করা হবে। বিভিন্ন অভিজাত হোটেল ও পাড়ায় নেয়া হচ্ছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সাদা পোশাকে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা সক্রিয় থাকবেন। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে তারা প্রয়োজনে ভিডিও দৃশ্য ধারণ করবেন। র‌্যাব-৭ এর টহল টিম নগরজুড়ে টহল দেবে। এছাড়া সাদা পোশাকে নগরজুড়ে র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার কর্মকর্তারা সক্রিয় থাকবেন।

x