ত্রুটিপূর্ণ যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান বেড়েছে

ট্রাফিক সপ্তাহের তৃতীয় দিনে নগরীতে ৭৭ গাড়ি জব্দ

আজাদী প্রতিবেদন

বুধবার , ৮ আগস্ট, ২০১৮ at ৬:৫৭ পূর্বাহ্ণ
178

ট্রাফিক সপ্তাহ উপলক্ষে তৃতীয় দিনের মতো নগরীতে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়েছে গতকাল মঙ্গলবার। প্রথম দুদিনের তুলনায় তৃতীয় দিন ত্রুটিপূর্ণ যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা বেড়েছে। একই সাথে বেড়েছে গাড়ি জব্দ করার সংখ্যাও।

সিএমপির ট্রাফিক উত্তর বিভাগের প্রসিকিউশন ইনচার্জ আনোয়ারুল হক আজাদীকে এ কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মাননীয় কমিশনার স্যার (সিএমপি কমিশনার) ট্রাফিক সপ্তাহ উদ্বোধনকালে স্পষ্ট বলেছেন, ফিটনেসবিহীন গাড়ি যেন গ্যারেজে থাকে। যে গাড়ি রাস্তায় চলার উপযুক্ত নয়, তা যেন রাস্তায় না নামে। পথচারী যেন রাস্তার নির্ধারিত জেব্রা ক্রসিং এবং ফুট ওভারব্রিজ ব্যবহার করে। নগরবাসী, গাড়িচালক, মালিক, পথচারী আসুন, সবাই সবার ভুল সংশোধন করি। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন আমাদের যে বার্তা দিয়ে গেছে, তা সবাই যেন মেনে চলি। ট্রাফিক পুলিশসহ সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমাদের সড়ক নিরাপদ হবে। আমরা তাঁরই নির্দেশে এবার ট্রাফিক সপ্তাহ পালনকালে ত্রুটিযুক্ত গাড়ির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ কঠোর মনোভাব দেখাচ্ছি। স্বয়ং অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার কুসুম দেওয়ান স্যারের নেতৃত্বে সিনিয়র স্যারদের সবাই রাস্তায় অভিযান মনিটরিং করছেন।

ট্রাফিক বিভাগের তথ্য মতে, গতকাল সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে ট্রাফিক উত্তর বিভাগে মামলা হয়েছে ৬১২টি। জব্দ করা গাড়ির সংখ্যা ৪৮টি। জরিমানা আদায় করা হয়েছে ২ লক্ষ ৪ হাজার ৩০০ টাকা। অন্যদিকে ট্রাফিক বন্দর বিভাগে মামলার সংখ্যা ৪৬২টি। গাড়ি জব্দের সংখ্যা ২৯টি। জরিমানা আদায় করা হয়েছে ১ লাখ ৯০ হাজার ৮০০ টাকা।

আনোয়ারুল হক বলেন, ফিটনেসবিহীন গাড়ি, লাইসেন্স ছাড়া চালক, হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেলসহ ট্রাফিক আইনের ব্যত্যয় হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছি আমরা। আমাদের প্রত্যাশা, মামলা দায়েরজরিমানা আদায়ের পর চালকনাগরিকেরা সচেতন হবেন। এর মাধ্যমে ট্রাফিক ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা বজায় রাখা পুলিশের পক্ষে সহজ হবে।

ট্রাফিক সপ্তাহ উপলক্ষে অভিযান আরো গতিশীল হয়েছে। এর আগে চলতি বছর জানুয়ারি মাস থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত গত সাত মাসে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকায় ট্রাফিক আইন ভঙ্গের দায়ে বিভিন্ন যানবাহনের বিরুদ্ধে মোট ১ লাখ ৩৪ হাজার ৩৭১টি মামলা দায়ের করেছে সিএমপির ট্রাফিক বিভাগ। এসময় ১ লক্ষ ২৯ হাজার ৩৩১টি মামলার নিষ্পত্তি করা হয়। বিভিন্ন অভিযোগে আদায় করা হয়েছে ৪ কোটি ৪৭ লাখ ৬৫০ টাকার জরিমানা।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকার ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে কাজ করে দুটি বিভাগ। সিএমপি ট্রাফিকের উত্তর ও বন্দর জোন মিলে জানুয়ারি মাসে মামলা দায়ের হয়েছে ২৪ হাজার ৪৯২টি। মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে ২১ হাজার ৪৬টি। ফেব্রুয়ারি মাসে মামলা দায়ের হয়েছে ১৯ হাজার ৪৮৮টি। নিষ্পত্তি হয়েছে ১৮ হাজার ২৯৩টি। মার্চে মামলা দায়ের হয়েছে ২১ হাজার ১৩৮টি এবং নিষ্পত্তি হয়েছে ২০ হাজার ৮১৩টি। এপ্রিল মাসে মামলা দায়ের হয়েছে ১৭ হাজার ২৬৪টি এবং মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে ১৯ হাজার ৪৩৫টি। মে মাসে মামলা দায়ের হয়েছে ১৫ হাজার ৮২টি এবং নিষ্পত্তি হয়েছে ১৭ হাজার ২৬৩টি। জুন মাসে মামলা দায়ের হয়েছে ১৩ হাজার ৫৬৯টি এবং মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে ১০ হাজার ৭৫২টি। জুলাই মাসে মামলা দায়ের হয়েছে ২৩ হাজার ৩৩৮টি এবং ২১ হাজার ৬৯৯টি নিষ্পত্তি হয়েছে।

পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে জরিমানা আদায় হয়েছে ৭৯ লাখ ৯৫ হাজার ১০০ টাকা। ফেব্রুয়ারি মাসে জরিমানা আদায় হয়েছে ৪৪ লাখ ২৬ হাজার ৬০০ টাকা। মার্চ মাসে আদায় হয়েছে ৭১ লাখ ৪২ হাজার ২৫০ টাকা। এপ্রিল মাসে আদায় হয়েছে ৬৭ লাখ ৯৫ হাজার ৭৫০ টাকা। মে মাসে আদায় হয়েছে ৬১ লাখ ২ হাজার ২০০ টাকা। জুন মাসে জরিমানা আদায় হয়েছে ৩৭ লাখ ৪১ হাজার ৯৫০ টাকা। জুলাই মাসে জরিমানা আদায় হয়েছে ৮৩ লাখ ৯৬ হাজার ৮০০ টাকা।

প্রসঙ্গত, নিরাপদ সড়কের দাবিতে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ সারা দেশে আন্দোলনে নামে স্কুলকলেজের শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের সময় তারা বিভিন্ন যানবাহনের লাইসেন্স পরীক্ষা ও যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করে। এক পর্যায়ে সরকার তাদের ৯টি দাবি মেনে নেয়। এ অবস্থায় ট্রাফিক আইন মেনে চলার বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে গত রোববার থেকে শুরু হয় ট্রাফিক সপ্তাহ। গত তিন দিন ধরে নগরীতে পুলিশকে কঠোরভাবে ট্রাফিক আইন নিয়ন্ত্রণ করতে দেখা গেছে। যে সমস্ত সড়কে প্রতিনিয়ত যানজটে নাকাল হতে হত নগরবাসীকে, তাদের কয়েকটিতে পুলিশের তৎপরতায় দেখা গেছে যানবাহনের সুশৃঙ্খল লাইন।

x