তৈয়্যব শাহ্‌ (রহ.) দ্বীন বাঁচাবার যে নির্দেশ দিয়েছেন তা আজ বড় বেশি প্রাসঙ্গিক

মুক্ত আলোচনায় শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার নওফেল

রবিবার , ২৫ আগস্ট, ২০১৯ at ১০:৩৪ পূর্বাহ্ণ
138

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব’র বঙ্গবন্ধু হলে আওলাদে রাসুল, আল্লামা হাফেজ সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ্‌ (রা)’র ২৭তম সালানা ওরশ উপলক্ষে আয়োজিত ‘গাউসে জামান আল্লামা তৈয়্যব শাহ্‌ (রহ.)’র জীবন-দর্শন-অবদান’ শীর্ষক মুক্ত আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিষ্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেছেন, হুজুর কেবলা তৈয়্যব শাহ্‌ (রহ.)’র নির্দেশ ‘কাম করো, দ্বীনকো বাঁচাও, সাচ্ছা আলেম তৈয়ার কর’ আজ এটি বড় বেশি প্রাসঙ্গিক। তিনি সেদিন দেখতে পেয়েছিলেন, আমাদের প্রিয় দ্বীন-ইসলামকে ধ্বংস করার জন্য বাতেল ফেরকা কীভাবে চক্রান্ত করে যাচ্ছে, চক্রান্ত চলছে ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে। সূফি-আউলিয়াদের ইসলামে কোন হানাহানি নেই উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, তলোয়ারের শক্তিতে বিজয় আসেনি, বরং বিজয় এসেছে তাঁদের আর্দশের শক্তিতে। তাই আজ আউলিয়ায়ে কেরামের সেই শিক্ষার চর্চা করা এবং আল্লামা তৈয়্যব শাহ্‌’র নির্দেশিত পথে দ্বীনের জাগরণে কাজ করছে আনজুমান, জামেয়া ও গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ।
তিনি আরও বলেন, তৈয়্যব শাহ্‌ হুজুরের সংস্কার জসনে জুলুস’র আজ ইসলামি জজবার উজ্জল নিদর্শন। তাঁর জীবন-দর্শন-অবদান কালে-কালে বিশ্ব মানবতাকে মুক্তির দিশা দেবে উল্লেখ করে জীবনের সর্বস্তরে হুজুর কেবলার আদর্শ ও শিক্ষা বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি। গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ’র উদ্যোগে গতকাল ২৪ আগস্ট চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব বঙ্গবন্ধু হলে অনুষ্ঠিত মুক্ত আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষা উপ-মন্ত্রী ব্যারিষ্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল উপরোক্ত আহ্বান জানান। গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ’র কেন্দ্রিয় চেয়ারম্যান আলহাজ পেয়ার মুহাম্মদ কমিশনারের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম-মহাসচিব এড. মোছাহেব উদ্দিন বখতিয়ারে’র সঞ্চালনায় এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন, জেমস ফিনলে’র ম্যানেজিং ডাইরেক্টর আলহাজ্ব আহমদ কামরুল চৌধুরী, আনজুমান-এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট’র সেক্রেটারি জেনারেল আলহাজ্ব মুহাম্মদ আনোয়ার হোসেন।
আলোচনায় অংশ নেন আল্লামা এম.এ মান্নান, দৈনিক আজাদীর চীফ রির্পোটার আলহাজ্ব হাসান আকবর, আঞ্জুমান প্রেস ও পাবলিকেশনস সেক্রেটারি প্রফেসর কাজি শামসুর রহমান, জামেয়ার চেয়ারম্যান আলহাজ্ব প্রফেসর দিদারুল ইসলাম, সাউদার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাওলানা সৈয়দ জালাল উদ্দিন আল্‌-আজহারী, গাউসিয়া কমিটি কেন্দ্রিয় ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ মুহাম্মদ আনোয়ারুল হক, আলহাজ্ব আবদুল হামিদ, মহাসচিব আলহাজ্ব শাহজাদ ইবনে দিদার, আলহাজ্ব মাহাবুবুল হক খান, সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব মাহাবুব এলাহি সিকদার, মহানগর গাউসিয়া কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব মোহাম্মদ আবুল মনসুর, সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মাহবুবুল আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব সাদেক হোসেন পাপ্পু, উত্তর জেলার সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, দক্ষিণ জেলার সাধারণ সম্পাদক মাস্টার হাবিব উল্লাহ প্রমুখ। বক্তারা বলেন, হুজুর কেবলার সমগ্র জীবন ছিল দ্বীনের পুনর্জীবনের এক মহামিশন। যে মিশনের যাত্রা শুরু হয়েছিল আটশো বছর আগে বড়পীর গাউসুল আযম জিলানী (রা)’র হাতে। তিনি ত্বরিকতের সাথে শরিয়ত, দ্বীনি খেদমত ও সহীহ্‌ আক্বিদার সমন্বয় সাধনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন। ইসলাম ও সূফিবাদের সহীহ্‌ ধারার জাগরণে তিনি ছিলেন চলমান হিজরি শতাব্দির অগ্রদূত এবং মহান সংস্কারক। শুধু তাই নয়, সমসাময়িক নির্ভরযোগ্য ওলামা-মাশায়েখ ও বুজুর্গগনের দৃষ্টিতে তিনি ছিলেন জামানার গাউস এবং মুজাদ্দিদ। পরিশেষে মাওলানা ইমরান হাসান কাদেরীর পরিবেশনে মিলাদ, কেয়াম ও মুনাজাত করা হয়। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

x