তৈরি হোক দর্শনযোগ্য অনুষ্ঠান গুরুত্ব দেয়া হোক মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক অনুষ্ঠানে

আয়শা আদৃতা

বৃহস্পতিবার , ৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ at ৬:০৮ পূর্বাহ্ণ
10

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দেখলাম ‘তথ্য প্রযুক্তি ও অগ্রগতি’ নামে তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক একটি অনুষ্ঠান। বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রে তথ্যপ্রযু্‌ক্িত বিষয়ক অনুষ্ঠান প্রচারিত হয় কদাচিৎ। এ অনুষ্ঠানটি শুধু আলোচনাতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। আলোচনার ফাঁকে ফাঁকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জগতের নতুন কিছু আবিষ্কারের ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করা হয়েছে, যা অনুষ্ঠানটিকে দর্শনযোগ্য করে তুলেছে অনেকখানি। মো, রেজাউল করিমের উপস্থাপনায় আলোচনায় অংশ নেন ড. রাশেদ মোস্তফা। যদিও তিনি তেমন একটা আলোচনার সুযোগ পাননি। যেটুকু সুযোগ পেয়েছেন সেটুকুতেও তিনি দর্শকদের তৃপ্ত করতে পেরেছেন বলে মনে হয় না। তথ্য ছিল কিন্তু আলোচনায় গভীরতা ছিল না। উপস্থাপকের উচ্চারণ আরো স্পষ্ট হলে অনুষ্ঠানটি দেখে পুরোপুরি তৃপ্তি বোধ করা যেত। আলোচনা ছাড়াও চারটি বিষয়ের ভিডিও চিত্র উপস্থাপন করা হয়েছে। যার একটি নিউমোনিয়া রোগের বাবলসিডার নিয়ে। বাঙালি বিজ্ঞানী ডা. জুবায়ের চিশতির উদ্ভাবিত এ যন্ত্রের মাধ্যমে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বলা হয়, নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে পৃথিবীতে প্রতিবছর প্রায় ৯ লাখ ২০ হাজার মানুষ মৃত্যুবরণ করেন। দক্ষিণ এশিয়াতে এর সংখ্যা সব চাইতে বেশি। বাংলাদেশি চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ জোবায়ের চিশতি সবসময় নিউমোনিয়া নিয়ে কাজ করে গেছেন। তিনি নিউমোনিয়া সংক্রান্ত অনেকগুলো গবেষণা করেছেন। তার হাতে অনেক নিউমোনিয়া আক্রান্ত শিশু সুস্থ হয়েছেন। সমপ্রতি নিউমোনিয়া প্রতিরোধে পরিত্যক্ত শ্যাম্পুর বোতল ও পাইপ ব্যবহারের মাধ্যমে তিনি নিউমোনিয়া চিকিৎসায় এ পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। সম্প্রতি তাঁকে নিয়ে বিবিসিতে একটি প্রতিবেদন প্রচারিত হয়। মূলত সে প্রতিবেদনটিরই অংশ বিশেষ দেখানো হল এ অনুষ্ঠানে। এছাড়া নতুন ভার্চুয়াল রিয়েলিটি হেডসেট অকুলাস কোয়েস্ট, হাইপার লুপ ও থ্রি ডি প্রিন্টিংয়ের ওপর তিনট ভিডিও চিত্র দেখানো হয়।
২৫ নভেম্বর প্রচারিত হয় পর্যটন বিষয়ক অনুষ্ঠান আমার চট্টলা। হিমাদ্রি রাহার উপস্থাপনায় নিয়মিত এ অনুষ্ঠানের এবারের পর্বে প্রচারিত হয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের তীর্থ স্থান কৈবল্যধামের ওপর একটি প্রতিবেদন। স্বল্প সময়ের এ অনুষ্ঠানে কৈবল্যধামের যে ইতিহাস-ঐতিহ্য, পর্যটন স্পট হিসেবে এর সম্ভাবনা কি, তা বুঝে ওঠতে দর্শকদের বেগ পেতে হয়েছে। ক্যামেরায়ও ছিল কাঁচা হাতের কাজ। একই দৃশ্যের বারবার চিত্রায়ন সম্পাদনার টেবিলকেও প্রশ্নের মুখে ফেলে। পর্যটন বিষয়ক অনুষ্ঠান আরো সমৃদ্ধ এবং তথ্য নির্ভর হওয়া বাঞ্ছনীয়।
সোমবার সন্ধ্যায় প্রচারিত হয় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক নিয়মিত অনুষ্ঠান মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযোদ্ধা সাহাবুদ্দিনের উপস্থাপনায় এবারের পর্বে স্মৃতিচারণ করেন আনোয়ারা উপজেলা বিএলএফ কমান্ডার দিলীপ কান্তি দাশ ও চন্দনাইশ উপজেলা কমান্ডার জাফর আলম হীরু। বিটিভি চট্টগ্রামে অনুষ্ঠানের বেলায় সবচেয়ে উপেক্ষিত বিষয় মুক্তিযুদ্ধ। দীর্ঘ সময় ধরে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তি ক্ষমতায় থাকলেও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক অনুষ্ঠানগুলো নির্মিত হয় সর্বোচ্চ অবহেলায়। অনুষ্ঠানের উপস্থাপক প্রথমত পরিষ্কার উচ্চারণে কথা বলতে পারছেন না, এর ওপর তিনি প্রতি পর্বে মুখস্থ কথাগুলোই বলে যাচ্ছেন। দেখে মনে হয় তিনি বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছেন। মুক্তিযোদ্ধা এবং বয়স্ক হিসেবে তাঁর প্রতি সম্মান রেখেই বলছি, এ প্রজন্মের দর্শক মুক্তিযুদ্ধের গল্পগুলো শুনতে চায়। স্পষ্ট এবং সুন্দর সাবলীল ভাষায়, তথ্যনির্ভর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক একটি অনুষ্ঠান নির্মাণ করাই যায়।

x