তৈরি পোশাক রপ্তানির বাজার আরো বিস্তৃত হোক

সোমবার , ৯ জুলাই, ২০১৮ at ১০:৪৬ পূর্বাহ্ণ
62

লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হলেও রপ্তানি আয়ে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি নিয়েই অর্থবছর শেষ করলো বাংলাদেশ। আমাদের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য সেটা বড় সুসংবাদ। জানা যায়, সদ্য শেষ হওয়া ২০১৭১৮ অর্থবছরে বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ ৩ হাজার ৬৬৬ কোটি ৮২ লাখ (৩৬.৬৬ বিলিয়ন) ডলার আয় করেছে। এর মধ্যে ৩০ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলারই এসেছে তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে। সার্বিক রপ্তানি ২০১৬১৭ অর্থবছরের চেয়ে ৫ দশমিক ৮১ শতাংশ বেড়েছে। তবে তা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২ দশমিক ২২ শতাংশ কম। মূলত তৈরি পোশাক রপ্তানির ওপর ভর করেই এই প্রবৃদ্ধি হয়েছে। মোট রপ্তানির ৮৩ দশমিক ৫ শতাংশই এসেছে এই খাত থেকে।

তৈরি পোশাক শিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ খাত। অনেক চড়াইউতরাই অতিক্রম করে গত কয়েক দশকের পথপরিক্রমায় দেশের তৈরি পোশাকশিল্প আজকের এ পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে। অনেক প্রতিকূলতা এবং দেশি ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের বেড়াজাল ছিন্ন করে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প এগিয়ে যাচ্ছে অগ্রগতির পথে। আগামী দিনগুলোয় সম্ভাবনার দুয়ার আরো খুলে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা। একথা বলা আজ অনস্বীকার্য যে, তৈরি পোশাক শিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি। দেশের অর্থনীতিকে বেগবান করতে পোশাক শিল্পের কোনো বিকল্প নেই। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে তিনটি রপ্তানিমুখী খাতে পোশাক শিল্পই অন্যতম। যে কোনো দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা নিঃসন্দেহে সে দেশের শিল্পের ওপর নির্ভরশীল।

দৈনিক আজাদীতে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, ২০১৬১৭ অর্থবছরের চেয়ে আয় বেড়েছে প্রায় ৯ শতাংশ; লক্ষ্যের চেয়ে আয় বেড়েছে দেড় শতাংশের বেশি। তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বিশ্ববাজারে শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। বর্তমানে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে দ্বিতীয়। প্রথম অবস্থানে রয়েছে চীন। দেশ দু’টির রপ্তানি ব্যবধান ১১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তৈরি পোশাকের প্রধান বাজার যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরো অঞ্চলের অর্থনীতিতে নতুন গতি আসায় বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ে তার ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে মনে করছেন অর্থমন্ত্রী। আগামী দিনগুলোতে রপ্তানি আয় আরও বাড়বে বলে আশা করছেন তিনি।

প্রতিটি দেশেই প্রতি বছর বাড়ছে রপ্তানি। কানাডা, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, মেক্সিকো প্রত্যেকেরই বাজার চাহিদা বেশি এবং প্রতি বছরই তা বাড়ছে। এসব দেশে ভিয়েতনাম, ভারত, পাকিস্তান প্রভৃতি দেশ প্রচুর রপ্তানি করছে। আমাদের দরকার এসব দেশের বাজার চাহিদা অনুধাবন করা। আমদানিকারকদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ স্থাপন করা। তাদের সঙ্গে ব্যবসায়ী সম্পর্ক গড়ে তোলা। তাদের চাহিদা অনুযায়ী পোশাক তৈরি করা। এ জন্য রপ্তানিকারকদের তৎপরতা আরো বাড়াতে হবে। এসব দেশে ঘন ঘন প্রতিনিধি দল পাঠাতে হবে। আলোচনাদক্ষতা অর্জন করতে হবে। আমদানিকারক তথা ভোক্তার চাহিদাকে মূল্য দিতে হবে। তাদের চাহিদামতো উৎপাদন করতে হবে।

ইতোপূর্বে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) বলেছিলো, গত তিন বছরে পোশাক খাত গর্ব করার মতো স্থানে এসেছে। এটি বৈশ্বিক স্বীকৃতি পাওয়ার যোগ্য। তবে কাগজপত্র, আইন ও বিধিমালায় যেসব অগ্রগতি এসেছে, সেগুলো প্রয়োগ করা ও অব্যাহত রাখা জরুরি। এর পাশাপাশি যেসব ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়নি, সেগুলোর ওপর নজর দিতে হবে।

২০২১ সালের মধ্যে আমাদের তৈরি পোশাকের রপ্তানি আয় ৫০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলো পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ। এ লক্ষ্য অর্জনে একটি কার্যকর রোডম্যাপ তৈরির পরিকল্পনাও নেয়া হয়েছে।

তৈরি পোশাক উৎপাদক ও রপ্তানিকারকদের বাজার সমপ্রসারণ প্রচেষ্টায় সরকারের উৎসাহ প্রদান প্রক্রিয়া আরো কার্যকর করার উদ্যোগ নিতে হবে। মিশনগুলোকে অধিকতর বাণিজ্যবান্ধব করে তুলতে হবে। তবেই তৈরি পোশাক রপ্তানি বাজার সমপ্রসারণের যে নবদুয়ার উন্মোচিত হয়েছে তা আরো বিস্তৃত ও প্রশস্ত করা সম্ভব হবে। শ্রমঘন এ খাতটির প্রসার টেকসই করার জন্য অপ্রপশ্চাৎ সংযোগ শিল্পে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার উদ্যোগ গ্রহণসহ একটি জাতীয় পরিকল্পনা নিয়ে এগুতে হবে। মনে রাখতে হবে, তৈরি পোশাক খাতের ওপর ভর করে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আরো অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে।

x