তৈরি পোশাকশিল্প হোক সবচেয়ে নিরাপত্তামূলক বিনিয়োগ খাত

রবিবার , ১০ জুন, ২০১৮ at ৩:২৩ অপরাহ্ণ
79

আমাদের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য বড় সুসংবাদ যে, তৈরি পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্ববাজারে তার শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে। গত জুলাই থেকে মে মাস পর্যন্ত ১১ মাসে বিভিন্ন দেশে পোশাক রপ্তানি করে দুই হাজার ৮১৩ কোটি (২৮.১৩ বিলিয়ন) ডলার আয় করেছে বাংলাদেশ। এই অংক গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ১০ শতাংশ বেশি। আর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় বেড়েছে ৩ দশমিক ২৪ শতাংশ। মূলত তৈরি পোশাকের ওপর ভর করেই রপ্তানি আয় বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ। অর্থবছর শেষে এই খাতের রপ্তানি ৩০ বিলিয়ন (৩ হাজার কোটি) ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছেন রপ্তানিকারকরা।

দেশের তৈরি পোশাকশিল্প অনেক চড়াইউতরাই অতিক্রম করে গত কয়েক দশকের পথপরিক্রমায় আজকের এ পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে। অনেক প্রতিকূলতা এবং দেশি ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের বেড়াজাল ছিন্ন করে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প এগিয়ে যাচ্ছে অগ্রগতির পথে। আগামী দিনগুলোয় সম্ভাবনার দুয়ার আরো খুলে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা। একথা বলা আজ অনস্বীকার্য যে, তৈরি পোশাক শিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি। দেশের অর্থনীতিকে বেগবান করতে পোশাক শিল্পের কোনো বিকল্প নেই। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে তিনটি রপ্তানিমুখী খাতে পোশাক শিল্পই অন্যতম। যে কোনো দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা নিঃসন্দেহে সে দেশের শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। বিশ্বের উন্নত দেশগুলো শিল্পনির্ভর। বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ হলেও এখানে শিল্পের গুরুত্ব অপরিসীম। আর এক্ষেত্রে গার্মেন্টস শিল্পের অবদান অনস্বীকার্য। গোটা বিশ্বে পোশাকশিল্পে বাংলাদেশ বেশ খ্যাতি অর্জন করেছে। এ দেশের তৈরি পোশাকশিল্প রপ্তানি বাণিজ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। বেকার সমস্যা সমাধান, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে এ শিল্পের অবদান উৎসাহজনক। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ এই শিল্পের হাত ধরে বিশ্ববাজারে একটি ব্র্যান্ড সৃষ্টি করেছে। যার মাধ্যমে প্রতিনিয়ত আমাদের দেশ বিশ্বদরবারে নতুন পরিচিতি ও সুনাম অর্জন করছে।

আমাদের আনন্দের বিষয়, বর্তমানে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে দ্বিতীয়। প্রথম অবস্থানে রয়েছে চীন। এই দেশ দুটির রপ্তানি ব্যবধান ১১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তৈরি পোশাকের প্রধান বাজার যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরো অঞ্চলের অর্থনীতিতে নতুন গতি আসায় বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ে তার ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। আগামী দিনগুলোতে রপ্তানি আয় আরও বাড়বে বলে আশা করছেন তাঁরা।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) রপ্তানি আয়ের হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যায়, চলতি ২০১৭১৮ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাইমে) বিভিন্ন দেশে পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ তিন হাজার ৩৭৩ কোটি (৩৩.৭৩ বিলিয়ন) ডলার আয় করেছে। এই অংক গত ২০১৬১৭ অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ বেশি। তবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে দশমিক ৪৪ শতাংশ কম। এই ১১ মাসে লক্ষ্যমাত্রা ধরা ছিল তিন হাজার ৩৮৭ কোটি ৭০ লাখ (৩৩.৮৭ বিলিয়ন) ডলার। ২০১৬১৭ অর্থবছরের জুলাইএপ্রিল সময়ে তিন হাজার ১৬২ কোটি ২৮ লাখ (৩১.৬২ বিলিয়ন) ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছিল বাংলাদেশ। চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি হয় ২৯ শতাংশ, অগাস্টে রপ্তানি আয় বাড়ে ১০ দশমিক ৭১ শতাংশ। এই দুই মাসে (জুলাইঅগাস্ট) রপ্তানি খাতে প্রবৃদ্ধি হয় প্রায় ১৪ শতাংশ, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় বাড়ে ৮ শতাংশের বেশি। সেপ্টেম্বর শেষে সেই প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশে নেমে আসে, লক্ষ্যমাত্রাও হোঁচট খায়। ২০১৭১৮ অর্থবছরের জুলাইমে সময়ে তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে দুই হাজার ৮১৩ কোটি (২৮.১৩ বিলিয়ন) ডলারের যে আয় হয়েছে তার ৮৩ দশমিক ৪ শতাংশই এসেছে তৈরি পোশাক থেকে। এর মধ্যে নিটওয়্যার খাতের পণ্য রপ্তানিতে এক হাজার ৩৯৪ কোটি ডলার এবং উভেন পোশাক রপ্তানিতে এক হাজার ৪১৯ কোটি ডলার আয় হয়েছে। এই ১১ মাসে নিট খাতে রপ্তানি বেড়েছে ১১ দশমিক ৪৮ শতাংশ। আর উভেনে বেড়েছে ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প আগামীতে বিশ্বে রোল মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে মন্তব্য করেছেন ২০২১ সালের মধ্যে এ দেশের তৈরি পোশাক হবে সবচেয়ে নিরাপত্তামূলক বিনিয়োগ খাত। এই খাত আরো সমৃদ্ধ হোক, সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।

x