তেমন জমে না আর সাপ্তাহিক হাটগুলো

নামে আছে কামে নেই

মনজুর আলম : বোয়ালখালী

সোমবার , ১৫ জুলাই, ২০১৯ at ১০:৩৯ পূর্বাহ্ণ
257

শুধু নামেই ঐতিহ্যে ধরে রেখেছে বোয়ালখালীর সাপ্তাহিক হাটগুলো, কিন্তু তেমন একটা জমে না আর। নিত্য প্রয়োজনীয় সওদা-পাতি আর পণ্য বেচা-কেনার জন্য এখন তেমন একটা হাটে যান না কেউ, এলাকার মোড়ে-মোড়ে গড়ে উঠা দৈনিক বাজারগুলোতে সেরে নিচ্ছেন হাটের প্রয়োজনীয়তা। ফলে জৌলুস হারাচ্ছে এখানকার হাটগুলো। জানা যায়- নয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত বোয়ালখালী উপজেলায় এক সময় ২০টিরও অধিক সাপ্তাহিক হাট বসতো। এসব হাটের মধ্যে পৌর এলাকার মুরাদ মুন্সির হাট, জমাদার হাট, হাজীর হাট। শাকপুরার লালার হাট, গোলকমুন্সির হাট, কধুরখীলের চৌধুরী হাট, শ্রীপুর-খরন্দ্বিপের কেরানী বাজার, নুরুল্লা মুন্সির হাট, শান্তির বাজার, আহল্লার কালিশংকর পেস্কার হাট, নতুন হাট, আমুচিয়ার কালাইয়ার হাট, শ্যামার হাট, পোপাদিয়ার অন্নপূর্ণার হাট, চান্দার হাট উল্লেখযোগ্য। সপ্তাহে দুইদিন করে এসব হাট বসতো নদীর ধারে কিংবা বটের ছায়ায়। দাদুরা হাট থেকে নাতিদের জন্য কিনে নিয়ে আসতেন বাতাসা। কালের প্রবাহে যেমন হারিয়ে যাচ্ছে হাটগুলো তেমনি অমৃত সেই বাতাসাও। বাতাসার স্বাদ এখন আর অবশিষ্ট নেই।
স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, হাটের দিন সকালে পলিথিনের অথবা কাপড়ের ছাউনি দিয়ে ব্যবসায়ীরা সাজাতো দোকানপাট। এরপর গ্রামের কৃষকেরা হাটে নিয়ে যেতেন তাদের ক্ষেতে উৎপাদিত টাটকা শাকসবজি ও মৌসুমী শস্যদ্রব্য। দুপুর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত কেনা-বেচা চলতো ধুমছে। ওইসব দোকানগুলোতে পাওয়া যেতো চাল, ডাল, শাকসবজি, ফল, মাছ-মাংসসহ নিত্য প্রয়োজনীয় সব জিনিসপত্র। বর্তমানে আধুনিকতার ছোঁয়ায় হারাতে বসেছে গ্রামের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে থাকা এসব হাটবাজারগুলো। যার ফলে আস্তে-আস্তে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য এসব হাটগুলো। বর্তমান বাজারে গিয়ে এখন পাওয়া যায় না অমৃত সেই বাতাসা। পাওয়া যায় না টাটকা শাকসবজি এবং নদী-নালা ও খাল-বিল থেকে ধরে আনা ছোট বড় বিভিন্ন প্রজাতির অসংখ্য দেশীয় মাছ। কয়েক বছর আগে এখানকার হাটগুলো ছিলো বেশ জমজমাট। এখন আগের মতো সেই অবস্থা নেই। এখন হাটে তেমন লোকজন আসে না। বিভিন্ন স্থানে দোকানপাট হয়ে যাওয়ায় হাটের দিকে মানুষের আসা কমে যাচ্ছে। দিন পাল্টে গেছে। সব কিছু আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে। যার ফলে প্রায় বিলুপ্তি হয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী এসব হাটগুলো।

x