তৃতীয় দিনেও স্থবির বন্দর পতেঙ্গা

দীর্ঘ যানজটে ভোগান্তি

আজাদী প্রতিবেদন

বৃহস্পতিবার , ১১ জুলাই, ২০১৯ at ১০:২৯ পূর্বাহ্ণ
117

তৃতীয় দিনের মতো অচল হয়ে পড়ে শহরের দক্ষিণ পশ্চিমাংশের বিস্তৃত এলাকা। বন্দর পতেঙ্গা অঞ্চলে তীব্র যানজটে স্থবির হয়ে যায় মানুষের জীবনযাত্রা। গতকাল যানজটের তীব্রতা আরো বেড়ে যায়। পতেঙ্গা থেকে শহরে আসার রাস্তা দুইদিন মোটামুটি চালু থাকলেও গতকাল ওই রাস্তাও যানজটে স্থবির হয়ে যায়। অপরদিকে সিমেন্ট ক্রসিং থেকে রুবি সিমেন্ট পর্যন্ত রাস্তায় পানি বেড়েছে। বেড়েছে কাঠগড় রাস্তার পানিও। প্রবল বর্ষণে এলাকায় দেখা দেয়া জলাবদ্ধতায় সব কিছু অচল হয়ে পড়ে। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ রাস্তায় ভাঙা ইট ফেলে গর্ত ভরাটের কাজ শুরু করেছে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলরের পক্ষ থেকে পানি সরানোর কাজে হাত দেয়া হলেও ভারী বর্ষণের কারণে তাতে কোন সুফল মিলেনি। বিমানবন্দরমুখী শত শত গাড়ি আটকা পড়ে। আটকা পড়ে বন্দরের পণ্যবাহী বিপুল সংখ্যক গাড়িও। হাজার হাজার মানুষের দুর্ভোগের পাশাপাশি বন্দরের পণ্য হ্যান্ডলিং কার্যক্রমেও মারাত্মক রকমের নেতিবাচক প্রভাবের আশংকা করা হচ্ছে।
সূত্র বলেছে, নগরীর সিমেন্ট ক্রসিং থেকে রুবি সিমেন্টের পাশের ব্রিজ পর্যন্ত রাস্তাটিকে চার ফুট উঁচু এবং দুই পাড়ে নালা নির্মাণের জন্য ১২ কোটি টাকার কাজ শুরু করেছে চসিক। এতে রাস্তাটির দুইপাশের নালা ইতোমধ্যে কাটা হয়েছে। নতুন নালা নির্মাণের কাজ শুরু হলেও তা সম্পন্ন না হওয়ায় আসলে পুরো নালাই বন্ধ রয়েছে। এতে বিস্তৃত এলাকার বৃষ্টির পানি মাত্র একশ’ গজ দূরে কর্ণফুলী নদীতে নামতে পারছে না। পানি ফুলে ফেঁপে রাস্তাটি সাগরের রূপ নিয়েছে। থৈ থৈ করছে পানি। শুধু এই রাস্তাটিতেই নয়, পানি নামার পথ না থাকায় কাঠগড় রাস্তায়ও থৈ থৈ করছে পানি। অপরদিকে কাঠগড় রাস্তায় এলিভেটেড এঙপ্রেসওয়ের কাজ শুরু করেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। এতে রাস্তাটির মাঝের একটি বড় অংশ টিন দিয়ে ঘিরে পাইলিং এর কাজ করা হচ্ছে। ফলে রাস্তা সংকুচিত হয়ে গেছে। সংকুচিত হওয়া রাস্তাটিতে আবার তৈরি হয়েছে বড় বড় খানাখন্দক। পানি ও খানাখন্দকের কারণে এই রাস্তায়ও যান চলাচল অচল হয়ে যায়। ফলে তীব্র যানজটে পুরো এলাকাস্থবির হয়ে পড়ে। গতকালও কাঠগড় থেকে বারিক বিল্ডিং পর্যন্ত দশ কিলোমিটারের মতো যানজটের সৃষ্টি হয়। সল্টগোলা ক্রসিং, ইপিজেড ও সিমেন্ট ক্রসিংসহ সন্নিহিত অঞ্চলে রাস্তার দুই পাশেই শত শত গাড়ি আটকা পড়ে।
বিমানবন্দর, ইপিজেড, কর্ণফুলী ইপিজেডসহ বিস্তৃত এলাকার বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের হাজার হাজার শ্রমিক কর্মচারী ও কর্মকর্তার পাশাপাশি স্থানীয় কয়েক লাখ বাসিন্দার জীবনযাত্রা অচল হয়ে পড়ে। বিমানবন্দরগামী হজযাত্রীসহ শত শত মানুষের গন্তব্যে পৌঁছা কঠিন হয়ে উঠে। বহু মানুষ নৌপথে বিমানবন্দরে পৌঁছলেও অনেকেই সড়কে আটকা পড়েন।
গতকাল স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর জিয়াউল হক সুমন বলেছেন, তুমুল বর্ষণে এলাকায় পানি বেড়েছে। পানি যাওয়ার কোন পথ নেই। এতে সবকিছু ডুবে যাচ্ছে। আমরা ঘর থেকে বের হতে পারছি না। রাস্তায় তীব্র যানজটের কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, নালা নর্দমার ময়লা সরিয়ে পানি নামার পথ করে দেয়ার জন্য আমি বেশ কিছু শ্রমিক লাগিয়েছি। কিন্তু এলাকার নালা পরিষ্কার করলেই পানি নামছে না। খালগুলো ভরাট হয়ে থাকায় পানি যাওয়ার পথ পাচ্ছে না। এতে পানি ফুলে উঠেছে। কাঠগড় রাস্তার পানি নামার পথ না থাকায় সেটিতেও থৈ থৈ করছে পানি। রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এলাকায় তীব্র যানজট দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, পানি সরানোর কাজ করেও আমরা সুফল পাচ্ছি না। যতটুকু পানি নামছে তার থেকে বেশি পানি বাড়ছে। ভারী বৃষ্টির কারণে পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে উঠছে বলেও জিয়াউল হক সুমন উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, কাঠগড় রাস্তাটি পুরোদমে চালু থাকলে আমাদের এত ভোগান্তি হতো না।
কাঠগড় রোডে পরিচালিত চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের এলিভেটেড এঙপ্রেসওয়ের প্রকল্প পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেন, আমি কাঠগড় রোডেই অবস্থান করছি। আমরা রাস্তার গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক করার জন্য কাজ শুরু করেছি। রাস্তার গর্তগুলো ভরাট করে দিচ্ছি। তবে এলাকার পানি না সরায় পরিস্থিতি বেশ জটিল হয়ে উঠছে। তিনি বলেন, আমরা রাস্তায় দেয়া টিনের ঘেরাও কিছু কিছু স্থানে খুলে দিয়েছি। এতে গাড়ি চলাচলে কিছুটা সুবিধা হবে। তবে ভারী বৃষ্টির কারণে রাস্তায় গর্ত সৃষ্টি হওয়া এবং কোথাও কোথাও রাস্তা ডুবে থাকায় পরিস্থিতি নাজুক বলে তিনি উল্লেখ করেন।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা বলেছেন, আমাদের জীবনযাত্রা অচল পড়েছে। আমরা কোন কাজ কর্ম করতে পারছি না। আগে সিটি কর্পোরেশন থেকে কিছু খাল ও নালা নর্দমা পরিষ্কার করা হতো। এখন সবকিছু বন্ধ থাকায় পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। এলাকার পানি নিষ্কাশনের ছয়টি খালের সবগুলোর অবস্থা বেহাল বলেও তারা উল্লেখ করেন।

x