তিন ডাকাত আটক গভীর রাতে কর্ণফুলী পেপার মিলে ডাকাতির চেষ্টা

কাপ্তাই প্রতিনিধি

বৃহস্পতিবার , ১৪ জুন, ২০১৮ at ৫:২১ পূর্বাহ্ণ
15

কাপ্তাই উপজেলার চন্দ্রঘোনায় অবস্থিত কর্ণফুলী পেপার মিলে গত মঙ্গলবার গভীর রাতে (রাত আনুমানিক ১টা) একদল ডাকাত ডাকাতির চেষ্টা চালায়। ডাকাত দল নৌকায় চড়ে কর্ণফুলী নদীপথে লিচুবাগান ফেরিঘাট থেকে কেপিএম ক্রেন জেটি এলাকার ড্রেন দিয়ে পেপার মিলে প্রবেশ করে। এ সময় তাদের হাতে শাবল, কোদালসহ অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র ছিল। ডাকাতের উপস্থিতি টের পেয়ে কেপিএমে দায়িত্বরত নিরাপত্তা কর্মীরা চারদিক দিয়ে ডাকাতদের ঘিরে ফেলে। এসময় ৩ ডাকাত সদস্যকে হাতেনাতে আটক করা সম্ভব হলেও অন্য ডাকাতরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। কেপিএমের নিরাপত্তা কর্মকর্তা বাদশা আলম জানান, আটককৃত ডাকাতরা হলো আব্দুস সালাম পিতা আব্দুল হক, একই এলাকার মোঃ রিয়াজ পিতা মোঃ দুলাল এবং মোঃ ইমন পিতা আব্দুল মান্নান। সবাই রাঙ্গুনিয়াস্থ চন্দ্রঘোনা ফেরিঘাট এলাকার বাসিন্দা। ডাকাতদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী যারা পালিয়ে গেছে তারা হলো জাকির হোসেন পিতা অজ্ঞাত এবং মোঃ রুবেল আব্দুল মাঝি। তবে ডাকাত দলে আরো সদস্য থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন কেপিএমের এমডি প্রকৌশলী ড. এম এম এ কাদের, সিবিএ সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক এবং সাধারণ সম্পাদক মাকসুদুর রহমান মুক্তার। এদিকে কেপিএমে ডাকাতির চেষ্টাকালে ডাকাত ধরা পড়ার খবর শুনে ভোর প্রায় ৪ টায় ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন কাপ্তাই উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ দিলদার হোসেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুহুল আমিন, ওসি সৈয়দ মোঃ নুর ও চন্দ্রঘোনা ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী। জানা গেছে এই ডাকাত সদস্যরা ইতোপূর্বে আরো ৮ থেকে ১০ বার কেপিএমে বড় ধরনের চুরির ঘটনা ঘটায়। কিন্তু কখনো তাদের ধরা সম্ভব হয় নি। গত ডিসেম্বর মাসে এই ডাকাত সদস্যরাই কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার তারিকুল আলমের বাসভবনেও চুরি করে এবং প্রায় দুই লাখ টাকার মালামাল নিয়ে যায়। ব্যাপক অভিযান চালিয়ে গত মার্চ মাসে ডাকাত সদস্যদের আটক করা হয়। কিন্তু গত ১০ দিন আগে তারা জামিনে ছাড়া পেয়ে আবার চুরি ডাকাতিতে জড়িয়ে পড়ে। চুরি ডাকাতি ছাড়াও এরা মাদক সেবন ও মাদক বেচাকেনার সাথে জড়িত থাকতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। এই ডাকাত সদস্যরা যাতে সহজে জামিন না পায় এবং তাদের যাতে দৃষ্টান্তমূলক সাজা হয় কেপিএমের শ্রমিক কর্মচারীরা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে এই দাবি জানিয়েছেন। এদিকে রাষ্ট্রীয় কাগজ উৎপাদনকারী এই প্রতিষ্ঠানে ডাকাতির চেষ্টাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়েছে জেলা প্রশাসন। বিষয়টি নিয়ে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক এ কে এম মামুনুর রশীদ, ১৯ বিজিবির অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম, সেনাবাহিনীর মেজর সৈয়দ তানভীর সালেহ, কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুহুল আমিন কেপিএমের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সাথে আলোচনা করেছেন বলে জানা গেছে। নানাবিধ জটিলতায় কেপিএম বর্তমানে চরম ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে।

x