‘তিতলি’ আজ আঘাত হানতে পারে উড়িষ্যায়

উপকূলীয় এলাকায় ৪ নম্বর সংকেত

আজাদী প্রতিবেদন

বৃহস্পতিবার , ১১ অক্টোবর, ২০১৮ at ৬:৩৯ পূর্বাহ্ণ
124

বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘তিতলি’ আজ সকাল নাগাদ ভারতের উড়িষ্যা উপকূলে আঘাত হানতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে। ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হওয়ায় উপকূলীয় এলাকায় ৪ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত এবং নদী বন্দরগুলোতে ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলেছেন আবহাওয়াবিদরা। ঘূর্ণিঝড় ‘তিতলি’র প্রভাবে নগরীতে গতকাল কখনো মাঝারি ও কখনো গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হয়েছে। ফলে দিনভর নগরবাসীকে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। অন্যদিকে বৈরি আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে বন্ধ রয়েছে পণ্য খালাস কার্যক্রম। এছাড়া চাক্তাই-খাতুনগঞ্জে পাইকারি বাজারে গতকাল নৌপথেও কোনো ধরনের ভোগ্যপণ্য পরিবহন হয়নি। এদিকে বিডিনিউজের খবরে বলা হয়, তিতলীর প্রভাবে আবহাওয়া বিরূপ থাকায় সারাদেশে অভ্যন্তরীণ রুটে নৌ চলাচল বন্ধ রাখতে বলেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।
গতকাল সন্ধ্যায় আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড় ‘তিতলি’ চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৮০৮ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি আরো ঘনীভূত হয়ে উত্তর-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আজ সকাল নাগাদ ভারতের উড়িষ্যা রাজ্যের গোপালপুর ও অন্ধ্র উপকূল অতিক্রম করতে পারে। ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার। যা দমকা বা ঝড়ো হাওয়া আকারে যা ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছে। যে কারণে সাগর খুব বিক্ষুব্ধ রয়েছে।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস কর্মকর্তা মো. মাজহারুল ইসলাম দৈনিক আজাদীকে বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে আগামীকাল (আজ) চট্টগ্রামে মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। এছাড়া পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত চট্টগ্রাম, কঙাবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ৪ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত এবং নদী বন্দরগুলোতে ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত দেখানো হয়েছে।
এদিকে ঘূর্ণিঝড় তিতলির প্রভাবে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পণ্য খালাস কার্যক্রম বন্ধ ছিলো। তবে স্বাভাবিক ছিলো জেটিতে কন্টেনার উঠানামার কাজ।
এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (পরিবহন) গোলাম ছরোয়ার দৈনিক আজাদীকে বলেন, সাগর উত্তাল থাকায় বহির্নোঙরে পণ্য খালাস করা সম্ভব হয়নি। বহির্নোঙরে বড় জাহাজের পাশে ছোট জাহাজ বেঁধে পণ্য খালাস করতে হয়। এছাড়া বৃষ্টি পড়লে গম, চাল, চিনি নষ্ট হয়ে যায়। তাই এ ধরনের পণ্য খালাস বন্ধ থাকে। সাগর উত্তাল থাকায় নিরাপত্তার স্বার্থে কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে স্বাভাবিক ছিলো জেটিতে কন্টেনার উঠানামার কাজ।
অপরদিকে নগরীর অন্যতম বৃহৎ পাইকারি বাজার চাক্তাই-খাতুনগঞ্জে নৌ পথে কোনো ধরণের পণ্য পরিবহন হয়নি। সাধারণত মহেশখালী, কুতুবদিয়া ও সন্দ্বীপসহ আরো বিভিন্ন অঞ্চলে প্রতিদিন চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ থেকে নৌ পথে প্রচুর ভোগ্যপণ্য পরিবহন হয়ে থাকে। জানতে চাইলে চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ আড়তদার সাধারণ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো. সোলায়মান বাদশা দৈনিক আজাদীকে বলেন, সাগরে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হওয়ায় চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের নৌ বাণিজ্য বন্ধ রয়েছে। ঘূর্ণিঝড় কেটে গেলে আশা করি আবারও পণ্য পরিবহন স্বাভাবিক হবে।
এদিকে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে গতকাল নগরীতে ভারি বৃষ্টিপাত না হলেও কখনো মাঝারি ও কখনো গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি বেশ ভুগিয়েছে নগরীবাসীকে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন অফিসগামী ও স্কুল-কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থীরা। বৃষ্টির কারণে নগরীর কিছু কিছু এলাকা প্লাবিত হয়। ফলে দেখা দেয় লম্বা যানজট। যানজট ঠেলে অনেককে হেঁটে গন্তব্যস্থলে যেতে দেখা গেছে।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. জাবেদুল ইসলাম বলেন, আধা ঘণ্টা ধরে দাঁড়িয়ে কোনো গাড়ি পাচ্ছিলাম না। রিকশা এবং সিএনজি দ্বিগুণ ভাড়া দাবি করছে। তাই বাধ্য হয়ে হাঁটা শুরু করলাম।
এদিকে বিআইডব্লিউটিএর জনসংযোগ কর্মকর্তা মোবারক হোসেন জানিয়েছেন সারাদেশে অভ্যন্তরীণ রুটে নৌ চলাচল বন্ধ রাখতে বলেছে। তিনি বলেন, ‘কর্তৃপক্ষের নৌ-নিরাপত্তা এবং নৌ-ট্রাফিক বিভাগ এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ রুটে নৌযান চলাচল বন্ধ থাকবে।’

x